
পাথরের কান্না
কিছু পাথরখন্ড মুহুর্তেই মানুষ হয়ে উঠলো
পাথর কেন মানুষ হবে!
ভয়ে বিভ্রমে কিছু নেড়িকুত্তা ঘেউ ঘেউ করে উঠলো;
'পাথরের মানুষ, পায়ু পথে নিশ্চয় কোন গন্ধ নেই'
-ভাবলো নেড়ি কুত্তাগুলো।
একটি নয় বসন্ত পেরুনো অবোধ শিশু
পায়ু পথে আঘাতে আঘাতে মৃত্যু শয্যায়!
নেড়িকুত্তাগুলো আরও কিছু শিশু কেন শয্যায় নেই
সে জন্য অবাক হয়ে লেজ নাড়িয়ে একে অন্যের দিকে তাকায়!
যেন একে অন্যের প্রতি তাদের অভিযোগ
ঈশ্বরের অর্পিত দায়িত্ব ঠিক মত সম্পন্ন হয়নি হয়তোবা।
রাতের নির্জনতায়
কিছুটা দূরে দু'একটা নেকড়ে আলস্য ভেঙে নড়ে চড়ে ওঠে,
সমবেত নেড়িকুত্তাগুলো মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে
এই মুগ্ধতার রাত ও তাবৎ ভূখণ্ডে
একমাত্র ঈশ্বর ও নেকড়ের বন্দনার কথা বলে।
ধূর্ত নেকড়ে বুঝে ফেলেন
আরও কিছু ফরিয়াদ শোনানোর জন্যই তাদের এই নৈশ আয়োজন।
অভয় দিতেই বলে ওঠে নেড়িকুত্তা সভাসদ
'হুজুর দেখুন, আপনার ও আমাদের নাক ও চোখে কি চমৎকার মিল'
নেকড়ে হুজুর বললেন- 'হুম';
'হুজুর আরও দেখুন আপনার লোম কিংবা পশমের সাথে আমাদেরও
কি চমৎকার সাদৃশ্য!'
নেড়িকুত্তাগুলো আরও বললেন
'বালগুচ্ছেও কি চমৎকার মিল আমাদের',
সবারই যৌনাঙ্গ থেকে শুরু করে পায়ু পথ কি সুনিপুণভাবে ঢেকে রেখেছে'
নেকড়ে হুজুর আবারও স্বগোক্তির মত মথা ঝুলিয়ে বললেন 'হুম'।
অতঃপর নেড়িকুত্তাগুলো হুজুর সমীপে সবিনয় নিবেদনে বললেন
'হুজুর আমরা প্রভুভক্ত প্রজাকুল
আমাদের যথার্থ খাবার ও পানীয়ের যথেষ্ঠ অভাব'
আমাদের তাবৎ প্রাণীকুলের পায়ু পথের গন্ধ শোঁকার সুযোগ দিন';
নেকড়ে হুজুর হুঙ্কার ছেড়ে বললেন
'তোমরা কি আমারও পায়ু পথের গন্ধ শুঁকবে নাকি?'
নেড়িকুত্তা সভাসদ সমস্বরে বললেন
'না, না, তা কি করে হয়?'
আপনি ছাড়া হজ্ঞোলের যদি হয়, অমত নেইতো?'
'যাক বাঁচালে বাবা, আমি আবার ইদানিং পর্দা-ফর্দা মানিতো খুব',
তাই পায়ু পথটা একটু সামলিয়েই চলি'- বললেন নেকড়ে হুজুর।
অবশেষে নেড়িকুত্তাগুলো তাবৎ ভূখন্ডের
কচি মুরগীছানা থেকে শুরু করে সকলেরই
পায়ু পথের গন্ধ শোঁকার একছত্র ভোগাধিকার পেলেন।
নেকড়ে হুজুর সহ সকলেই বলে উঠলো
'মারহাবা, মারহাবা, সকলেরই অধিকার সংরক্ষিত হলো,'
সকলেরই স্ব স্ব অধিকার নিশ্চিত হলো'।
শুধু রাতের আকাশ সাক্ষী হয়ে রইলো
একখন্ড পাথরের
এক একাকী নিঃসঙ্গ জীবনের।
১৩ই জুন ২০১৭
যুক্তরাজ্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৭ ভোর ৬:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




