somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব রহমান
সমাজ বদলাতে হবে। অনবরত কথা বলা ছাড়া এ বদ্ধ সমাজ বদলাবে না। প্রগতিশীল সকল মানুষ যদি একসাথ কথা বলতো তবে দ্রুতই সমাজ বদলে যেতো। আমি ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনবরত বলতে চ

অনুগল্প: কাঁঠালপাতা প্রকল্প

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গটল্যান্ডের এই জেলাটি কাঁঠালপাতা প্রকল্পে শতসমস্যা থাকা সত্ত্বেও ভালই করছিল। জেলা প্রধান দক্ষতার সাথে অফিস চালালেও উপরের মহলে মালপানি ঠিকমতো না দেয়াতে তাকে সরিয়ে দুর্নীতিবাজ ডোনাল্ড ব্যাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি জেলা অফিসে এসেই হুঙ্কার ছাড়লেন, সবাইকে তটস্ত করে ফেললেন। তিনি আগেই ৬টি উপজেলা সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। শুধু পদ্মদিঘি প্রকল্প কর্মকর্তা দুর্নীতি ভাল বুঝেন আর অন্য ৫টি প্রকল্প কর্মকর্তারা সৎ থাকার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে নদীকূল প্রকল্প কর্মকর্তার বিশেষ সুনাম শুনে তাকেই ফোন দিলেন অফিস সময়ের শুরুতে। ফোন বিজি। তার মাথায় রক্ত উঠে গেল। কর্মকর্তা যখন বুঝলেন বস ফোন দিয়েছেন। তিনি মাঠকর্মীর ফোন কেটে বসকে ফোন দিলেন?
স্যার, শুভ সকাল?
আপনার ফোন বিজি ছিল কেন? অফিসে এসেই ফোনালাপ শুরু করে দেন। না অফিসেই আসেন নি? কোন কাজইতো ঠিক মতো করেন না। কয়টায় অফিসে এসেছেন?
স্যার অফিস সময়ের আধা ঘন্টা আগে মনে সাড়ে নয়টায় এসছি।
আমি ঠিকই ধরেছি আপনি চূড়ান্ত ফাঁকিবাজ লোক। ঠিকমতো অফিস করেন না। ঘুড়ে বেড়ান, রাজনীতি করেন। আপনার বিরুদ্ধেতো অভিযোগের শেষ নাই। চাকুরি কিভাবে করবেন? প্রতিষ্ঠানতো শেষ করে দিছেন? আপনাকে এখানে রাখবো না। কোথায় যাবেন?
স্যার আমার তো অনেকদিন হয়ে গেছে। বদলীর সময় পার হয়ে গেছে। যেখানে বদলী হবে সেখানেই যাবো।
আরে, সে আশায়ইতো বসে আছেন। আরেক জায়গায় পাঠাবো সেখানেও একাজই করবেন। কাল বিকেলে অফিসে ছিলেন না কেন?
স্যার কাল উপজেলা পরিষদে মিটিং ছিল। ওখানে যেতে হয়েছে।
কলাপাতা খেতে গিয়েছেন? আমিতো জেলার মিটিংএই যাই না। আর যাবেন না।
গট করে লাইন কেটে দিলেন। ওদিকে উপজেলা প্রকল্প কর্মকতার মনে তোলপাড় শুরু হল। স্যার তাকে এভাবে অপমান করলেন। এতোগুলো মিথ্যা অভিযোগ দিলেন। কেন? তিনি সততার সহিত এতোদিন কাজ করলেন। সব বসরা তার প্রশংসা করেছে। তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। অথচ আজ গালি খেতে হলো।
পরদিন তিনি সকাল নয়টাতেই অফিসে এসে বসলেন। কেউ নেই। নিজেই টুকটাক কাজ করছিলেন। এমন সময় বস ডোনাল্ড ব্যা ঢুকেই বললেন, এই আপনার আর লোকজন কোথায়?
স্যার এখনো সবাই আসেনি। সাড়ে নয়টার মধ্যেই সবাই চলে আসবে।
কেন সাড়ে নয়টা? সবাইকে নয়টার মধ্যে থাকতে বলেছি। কথায় কান দেন না। আপনার অফিসের সামনে দেখলাম, লাদা। ঘটনা কি? কি করেন? কি ফালান? বসে বসে বেতন নেন? কোন কাজইতো পারেন না, অপদাথর্, অকর্মা লোক।
স্যার কাল বয়ষ্ক ছাগলদের স্বল্পমূল্যে কাঁঠালপাতা দিয়েছি। তাদের কয়েকজন লেদে দিয়েছে। যে ছাগীটা পরিষ্কার করে তার বাচ্চাটা অসুস'। আমি আসার পথে খবর নিয়েছি। এখনি এসে পড়বে।
আমাকে উদ্ধার করেছেন। উপজেলা প্রকল্প প্রধানের যোগ্য লোক আপনি যে নন, তা বুঝতে বাকি নেই। স্বল্পমূল্যে কাঁঠালপাতা বিক্রি বন্ধ করবেন। কিন' কাগজে কলমে দেখাবেন বিক্রি বেশি হয়েছে। বাকী টাকা প্রতি মাসে জেলা অফিসে পাঠিয়ে দিবেন। এখন থেকে বিধবা, প্রতিবন্ধী, শিশু সব ভাতা ও স্বল্পমূল্যে দেয়া বন্ধ। আমি রাজধানী ছেড়ে গ্রামে আসায় বেতন কমেছে অনেক। এগুলো উঠিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনাদের। মনে থাকবে?
স্যার, এরাতো অভিযোগ করবে। আমি সামাল দিবো কিভাবে? এছাড়া উপজেলায় আমাকে জবাব দিতে হয়।
আপনার সাহসতো কম নয়। আমার সাথে বেয়াদবী। মুখেমুখে কথা বলা ছাড়াতো কিছুই পারেন না। উজবুক কোথাকার।
রেগেমেগে বস বেরিয়ে গেলেন।
এরপর উপজেলা কর্মকর্তা বদলী হলেন। প্রকল্প লাটে উঠলো। দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। বহু ছাগল অনাহারে মারা গেল। আর কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কঙ্কালসার ছাগলদের জমিজমা কিনে সম্পদের পাহাড় গড়লেন।
লেখা: মুজিব রহমান, আঁকা: তুষার মাহবুব

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×