
সামন্তপ্রথা ভেঙ্গে যেতে পারে এটা সামন্ত যুগের মানুষের কাছে ছিল অভাবনীয়। তারা ভাবতো সামন্ত প্রথা ভাঙ্গলে কি আসবে? কে চালাবে সমাজ, কে আদায় করবে রাজার জন্য খাজনা? প্রজা নিপীড়ন নিরন্তর চলবে। সে প্রথাও টিকেনি। তাসের চারজন রাজা ছাড়া সব রাজার পদই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। একেক মহান রাজার পতনও জনগণকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে। যদিও বহু রাজা বদলেই জনগণ সম্পৃক্ত ছিল না।
ঈশ্বরের বিধান বদলাতে পারে এটা ভাবনারও বাইরে ছিল। সেই বিধান ইউরোপে ধাক্কা খায় প্রথমে। প্রটেস্টান্টরা ধর্মবিশ্বাসী হলেও গীর্জার বিরুদ্ধে একটি বিজয়ই ছিল সেটা। মানুষের সাথে ঈশ্বরের সম্পর্ক স্থাপনে মধ্যসত্ত্বভোগী দালালদের দৌরাত্ম কমে গেল। তারপর ইউরোপের দার্শনিকগণ নিয়ে আসলেন নতুন নতুন যুক্তি। আসলো নতুন নতুন ব্যাখ্যা। মানুষ ভাববাদী থেকে হতে থাকলো বস্তুবাদী। বিপ্লব ঘটে গেল সমাজে। দক্ষিণ এশিয়াতেও অভ্রান্তবাদ প্রমাণিত হয়েছে ভ্রান্ত হিসেবে।
মানুষের আত্মা থাকে না এটা কি ভাবা যেতো? মানুষের উদ্ভব হয়েছে অন্য প্রজাতি থেকে এ ভাবনাও করা যেতো না। ডারউইনের অবিস্মরণীয় আবিস্কার মানুষের ভাবনার জগৎই পাল্টে দিল। একের পর এক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করে ফেললো বিবর্তনবাদকে। ওভারঅল মানুষের জীবনে এসেছে পরিবর্তন, বেড়েছে নিরাপত্তা, দূর হয়েছে খাদ্যসহ বিভিন্ন সংকট। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এসেছে বিস্ময়কর সব পরিবর্তন। প্রকৃতির উপর মানুষের কর্তৃত্ব আজ সুপ্রতিষ্ঠিত।
রাজা বদলে প্রজারাই ভূমিকা রাখবে এটাও ভাবা যায়নি। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মতো সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিকেও আজ সাধারণ জনগণই সরিয়ে দিচ্ছে। ট্রাম্প যতই হম্বিতম্বি করুক, ক্ষমতা ছাড়তে না চাক- তাকে নত মস্তকে বিদায় নিতেই হবে। উৎপাদন শক্তির বদলটাও বিস্ময়কর। উৎপাদন সম্পর্কও বদলেছে। পুরাতন থেকে নতুন নতুন ধারণা এসেছে। সামন্তবাদ থেকে এসেছে পুঁজিবাদ কিন্তু পুঁজিবাদ থেকে কি আসবে? সমাজতন্ত্র? না আরো নতুন কিছু, যা আমরা জানি না। শুধু জানি পরিবর্তন আসবেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




