
টিনএজ ছাত্রী তিথি সরকারের বিরুদ্ধে সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্র। তাকে খুঁজে বের করে জেলে পুরে দিয়েছে। তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং তার বিশ্ববিদ্যালয় তার বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি, সিআইডি ঠিকই খুঁজে বের করে ফেলেছে নরসিংদি থেকে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে- ধর্মীয় উস্কানীমূলক পোস্ট দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তার সহপাঠীরা তার বিরুদ্ধে তারই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মানববন্ধন করে।তার বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।
একসময় তিথি সরকার বুঝতে পারে যে সে ভয়ঙ্কর বিপদে পড়েছে। আমার ধারণা- বিপদ বুঝতে পেরেই তিনি ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে মর্মে থানায় জিডি বা মামলা করেন। আত্মগোপনে গেলে, নিখোঁজ এর সংবাদ প্রচার করে তার পরিবার। আমার মনে হয়েছে, তার পরিবার জানতোই যে, তিথি সরকার কোথায় আছে। আমার অনুমান ভুলও হতে পারে। তাকে চিনে এমন মানুষদের কাছে শুনেছি, তিথি সরকার মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে এবং ওই আইডিটি তার নিজেরই ছিল। তিনি ফেসবুকে যা লিখেছিল তা সত্যও ছিল না। ভুল ও বিকৃত তথ্যই তিনি উপস্থাপন করেছিলেন। নিশ্চিত হয়েছি, মেয়েটির বয়স উনিশ। সে ছাত্র অধিকার পরিষদে সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন সংগঠন করতো।
ভারতীয় অনেকেকেই দেখি ফেসবুকে, ইসলামকে কটাক্ষ করে অগুণিত পোস্ট দিয়ে থাকে। এগুলোর বিরুদ্ধে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিবাদও হয় না। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগে মানুষ ধর্মপ্রবর্তকদের নিয়ে কটাক্ষ করে পোস্ট দেয় অহরহই। এমনকি প্রবাসে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশিও নিয়মিতই এরচেয়ে ভয়ঙ্কর কথা বলে ফেসবুক ও ইউটিউবে পোস্ট দেন। তাদের বিরুদ্ধে বলার সামর্থ্য কারো নেই। আমরা ওসবের খোঁজও রাখি না। ১৪শত বছরের একটি প্রাচীন ও পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি। নদী দিয়ে কেউ হাড়িভণ্ড গেয়ে গেলে তাতে নদীর কিছুই ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। বাংলাদেশে ধর্মীয় কারণে উগ্রপন্থীদের হাতে ব্লগার-লেখক খুন হয়েছেন হয়তো ১৫/২০ জন। হলিআর্টিজানসহ বিভিন্ন সমাবেশ ও বিচ্ছিন্নভাবে হয়তো আরো শ দুয়েক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এতে কি ইসলামের উপকার হয়েছে? নাকি বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ভাবমূর্তির?
মাত্র উনিশ বছরের একটি মেয়ে তিথি সরকার। তার বিবেচনা বোধই কতটুকু। এই বয়েসে অনেক মেয়েই উড়তে থাকে, বুঝে উঠতে পারে না কি থেকে কি করবে। অনেকেই ভেসে যায়, পথ হারায়। বহু মেধাবীই এভাবে ঝরে যায়। হয়তো কেউ বলবেন, গ্রেফতার করায় মেয়েটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। তাকে তো জীবনভর জেলে রাখবে না! পরেও আক্রান্ত হতে পারে। একটি উনিশ বছরের মেয়ে কি বলল, সেটাই সত্য হয়ে উঠবে না, যদি তা মিথ্যা হয়। সে তো ১৪ শত বছরের পুরাতন একটি বৃহৎ ধর্মের কোন ক্ষতি করার সামর্থ্য রাখে না। আমাদের অনুভূতিগুলো কি খুবই দুর্বল? এতোই ভঙ্গুর?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




