
আপনি একটি চেয়ারে স্থির হয়ে বসে আছেন। আপনার গতিবেগ কত? পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে ১৮ মাইল বেগে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। পৃথিবী চেয়ারে-বসা আপনাকে নিয়েই পরিভ্রমণ করছে। মহাশূন্য থেকে কেউ দেখবে আপনি পৃথিবীর সাথেই প্রতি সেকেন্ডে ১৮ মাইল বেগে ঘুরছেন। যখন আমি কোন চলন্ত বাসে বসে থাকি তখন আপনি দেখছেন আমি ঘন্টার ৫০ মাইল বেগে ছুটে চলছি অথচ আমি বসে আছি। আমার পাশে চলা আরেকটি ৫০ মাইল বেগে ছটে চলে বাসের যাত্রী দেখবে আমি স্থির রয়েছি সিটে এবং আমার বাসের গতিও নেই। আমার পাশের যাত্রীর কাছে আমি একদমই স্থির- কারণ আমরা দুজনেই ছুটে চলছি ঠিক একই বেগে। ভাবনাগুলো কঠিন নয় বলেই মনে করি। অথচ চিরায়ত বলবিদ্যার সূত্রগুলো আবিষ্কারের সময় এগুলো ভাবা হয়নি। এখন একুটু ভাবলেই মনে হয়- তাইতো! মহাবিশ্বের সকল গতিইতো আপেক্ষিক! কোন বস্তু কতটা সচল তা বোঝার জন্য আমরা স্থির বস্তুর সাপেক্ষে তুলনা করি। মহাবিশ্বে পরম স্থির বস্তু বলতে কিছু নেই। সবাই গতিশীল। সেজন্যই একটি গতিশীল বস্তুর সাপেক্ষেই আরেকটি বস্তুর গতি বুঝতে হয়।দুটি চলমান বা গতিশীল বস্তুর একটির সাপেক্ষে/তুলনায় অপরটির গতিকেই বলে আপেক্ষিক গতি। বস্তুত কোন গতিই পরম গতি নয় আবার কোন স্থিতিও পরম স্থিতি নয়। সার্বিক পারিপার্শ্বিকের তুলনায় স্থির কোন বস্তুর অবস্থাকে পরম স্থিতি বলে আবার পরম স্থির কোন প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে গতিশীল বস্তুর গতিকে পরম গতি বলে। পরম স্থির কোন প্রসঙ্গ কাঠামো নেই বলেই কোন পরম স্থিতি বা পরম গতি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


