মায়ানমারে সামরিক বাহিনীর ফের ক্ষমতা দখল সবচেয়ে ক্ষতি করবে তাদেরই৷ সামরিক প্রভাব ও শাসনের কারণেই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে তারা৷ সম্পদ ও ঐতিহ্য বিবেচনা করলে তাদেরই এগিয়ে থাকার কথা ছিল৷
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ট্রাম্পের দাবির মতোই ভুয়া বলেই মনে হচ্ছে৷ তারা চীনের আশির্বাদ ছাড়া ক্ষমতা নিয়েছে বলে মনে হয় না৷ চীন সামরিক সরকারকে বেকিং না করলে জনবিস্ফোরণেই তাদের পতন ঘটতে পারে৷ সুচী গণ অভ্যুত্থানের ডাক দিলেও এখনো জনগণ রাস্তায় নামেনি হয়তো চীনের কারণেই৷ রুহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোড়দার হয়েছে৷ যদিও নির্বাচনে সেনাবাহিনি সমর্থিত দলের বিপর্যয় ঘটেছিল৷ সেনাবাহিনি ও বর্মিজ জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণেই সুচী রুহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ে চুপ থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন৷ কিন্তু তার দুর্ভাগ্য যে, শেষ পর্যন্ত তিনি রক্ষা পেলেন না৷
সেনা অভ্যুত্থানে দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হবে বাংলাদেশ৷ রুহিঙ্গাদের ফেরানো আরো কঠিন হয়ে গেল৷ সামরিক বাহিনী এক বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকার কথা বললেও তারা তা রক্ষা করবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই৷ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতেও তারা সম্ভবত নেই৷ ফলে সৈন্যদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম৷ ক্ষমতায় থেকে তারা নিজেদের আরো সুবিধা বাড়িয়ে নিবে এবং ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করবে৷
মায়ানমারে সামরিক বাহিনি টিকে গেলে অন্য দেশের সামরিক বাহিনিও ক্ষমতা নেয়ার চেষ্টা করবে৷ সামরিক বাহিনি ক্ষমতায় গেলেই ক্ষতি হয় মানুষের ও রাষ্ট্রের৷ কর্তৃত্ববাদী ও গণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের চেয়েও মন্দ হল সামরিক শাসন৷ তবে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের অভাব থাকলে সামরিক বাহিনির ক্ষমতা দখল সহজ হয়৷
মায়ানমারে সামরিক বাহিনির ক্ষমতা দখলের তীব্র নিন্দা জানাই৷ নির্বাচিন সুচীর দলের কাছে ক্ষমতা দেয়াই প্রত্যাশিত৷ এভাবে চললে জনগণ ও রাষ্ট্রের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হবে সেনাবাহিনিও৷ স্বৈরশাসন ও সামরিক শাসন নিপাত যাক৷
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


