somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধন

২০ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
তার নিষ্প্রাণ চোখ দুটি তাকিয়ে আছে আমার দিকে।পুরো ঘরটা নিস্তব্ধ।ভালো লাগছে এই নিস্তব্ধতা।আজ আমি তাকে শেষ করে দিয়েছি।আমার পথের কাটা সরে গেছে।ছুরি দিয়ে চোখ দুটো উপরে নিলাম।তার চোখ দুটো অনেক সুন্দর।কিন্তু তার নিষ্প্রাণ তাকিয়ে থাকা টা আমার ভালো লাগেনি।চোখের খালি কোটর গুলো থেকে রক্ত ঝড়ছে।তার লাশের দিকে তাকিয়ে অপ্রকৃতিস্থের মত অট্টহাসি হাসি দিলাম।খালি ঘরে কেউ শুনলো না সে হাসি...

২.
আমি নাহিদ।
নাহিদ হাসান সৌরভ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তে মাইক্রবায়োলজি তে পড়ছি।বাড়ি চট্টগ্রামে।পুরো কৈশর টা কেটেছে ঢাকায়।বাবার সাথে।মা এর সাথে যখন বাবার ডিভোর্স হল তখন আমার বয়স ১২...আমার বোন কে মায়ের সাথে রাখলেন আমাকে পাঠিয়ে দিলেন বাবার সাথে।ঢাকায় আসার পর থেকেই কারো সাথে মিশতে পারি না।নিজের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতেই পছন্দ করি।স্কুল জীবন টা কেটেছে পুরোপুরি একাকিত্বের মধ্যে থেকেই।কলেজ জীবনে নিজেকে আড়ালে রাখতাম।ক্লাসে গিয়ে শেষ বেঞ্চ টাতে বসে লেকচারগুলো শুনতাম।সবাই নিজেদের বন্ধু বান্ধব দের নিয়ে যখন আড্ডা দিতো আমি তখন লাইব্রেরী তে বসে বই ঘাটতাম।এভাবেই চলছিল দিন..

৩.
-"এই ছেলে!এই!শুনো"
পেছনে ফিরে তাকালাম।শ্যামলা একটা মেয়ে।খুব সুন্দর বলা যাবে না।তবে চোখ দুটো মায়াভরা।টানা টানা চোখ দেখলে হরিণীর কথা মনে এসে যায়।
-"জ্বী বলেন"
-"তোমার সমস্যা কি?হ্যা?"
-"আপু আমি কি করলাম আবার?"
-"এই আমি তোমার আপু না।আপু ডাকবানা।আমি তোমার ক্লাস মেট।"
-"ও আচ্ছা"
-"কি ও আচ্ছা?তোমার সমস্যা টা কি?ক্লাসে এত ভাব নিয়ে বসে থাকো কেন?"
-"জ্বী?আমি?"
-"কোন কথা বলবানা।একদম চুপ...এরকম একা একা থাকো কেন?কলেজের প্রথম থেকেই দেখছি তোমাকে।"
-"জ্বী আপু আমি এমনেই কারো সাথে মিশিনা।আচ্ছা আমি যায়।কাজ আছে একটু"
-"বললাম না আপু ডাকবানা!আর কি কাজ?চল আমার সাথে ক্যান্টিনে"
নিজের অনিচ্ছাতেই তার সাথে গেলাম।কিছু একটা আমাকে টেনে নিয়ে গেল।অদৃশ্য কোন টান।এই প্রথম কোন মেয়ে আমার সাথে এভাবে কথা বললো।অন্যরকম অনূভুতি হচ্ছে।পেটের ভেতর মনে হচ্ছে অনেক গুলো প্রজাপতি উড়োউড়ি করছে।এরকম আগে কখনও হয়নি।

৪.
নুসরাত তারান্নুম ঐশী।শ্যামলা গায়ের রঙ,টানা টানা চোখের মেয়েটার কথা বার্তার আলাদা ই ধরণ ছিল।সেদিনের পর থেকে ঐশী ই ছিল আমার একমাত্র বন্ধু,একমাত্র মানুষ যার সাথে আমি মনের সব কথা বলতে পারতাম।সে ও আমার সব কথা শুনতো।কলেজের ক্লাসের ফাকে তার সাথে ক্যান্টিনে বসে বসে কথা বলতাম।ভালোই লাগতো।আস্তে আস্তে তাকে আমার কাছের মানুষ মনে হতে শুরু হল।অন্য কোন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখলেই কেমন যেন খারাপ লেগে উঠতো।ছেলেটার প্রতি মন থেকে কেন যেন ঘৃণা আসতো।মনে হল আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি।কিন্তু তাকে মুখ ফুটে বললাম না।ভাবলাম আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করি।তারপর না হয় বলা যাবে তাকে মনের কথা।কেন যেন মনে হতো সে ও আমাকে পছন্দ করে।নাহলে এরকম একটা ছেলের সাথে কেনই বা সে কথা বলবে?
দিন যেতে থাকলো...প্রথম বর্ষ শেষ করে দ্বিতীয় বর্ষে উঠলাম।এর মধ্যে ঐশী আমার আরো কাছে এসে গেছে।দরকারে বেদরকারে তাকে ফোন দিতাম।কথা বলতাম...কথা বলতে বলতে কখনও রাত ২ টা-৩ টা বেজে যেত।যে আমি সারাদিন নিজের মধ্যে ই থাকতাম।বই খাতার মাঝে নিজেকে বেধে রাখতাম সে আমার এখন আর পড়ালেখার প্রতি মন নেই।সারাদিন তার কথা ভেবে কেটে যায়।ইন্টার পরীক্ষাও কাছে আসতে থাকলো।একসময় দেখলাম আমি মোটেই প্রস্তুত নই।টেস্টে খারাপ রেজাল্ট করলাম।ঐশী অনেক ভালো রেজাল্ট করল...তার পর থেকেই নিজেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করলাম।যেভাবেই হোক আমাকে ভালো রেজাল্ট করতেই হবে।

৫.
এইচ এস সি তে এ+ পেলাম।টেস্টের পরে দিন রাত পড়ালেখা করেছি ভালো রেজাল্ট করার জন্য।ঐশী ও খুব ভালো করলো।রেজাল্টের দিন সে খুব খুশি ছিল।সেদিন বাসায় যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ কথা হল।তারপর আংকেলের সাথে বাসায় চলে গেল।পরের দিন ঘুম ভাংলো তার ফোনে...
-"নাহিদ।ট্রিট দিবি না?রেজাল্টে তো ফাটাই দিসোস"
ঘুমার্ত কন্ঠে বললাম...
-"চল।কোথায় যাবি?"
-"চল কোন আইসক্রিম পার্লারে যায়।যা গরম পড়তেসে"
-"তুই ট্রিট দিবি না?"
-"আমার টা পরে দেখা যাবে।তুই আগে দে হারামী"
-"আচ্ছা বিকালে আসিস।বেইলী রোডে"
-"আচ্ছা ঠিকাসে"
ওর আমাকে তুই তুই করে ডাকাটা আমার মোটেই পছন্দ না।কিন্তু তুমি করে ডাকাটাও অস্বস্তিকর।
প্রথমে ভাবলাম আজকে ওকে বলেই দিবো মনের কথা।কিন্তু পরে ভাবলাম নাহ!আগে ভালো একটা ভার্সিটি তে ভর্তি হয়ে নিই।তারপর না হয় তাকে বলা যাবে।
সেদিন বিকেলে ও আসতে পারেনি।ওর কোন আত্মীয় এসেছিল বাসায়।আমি দাড়িয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ...পরে অবশ্য অনেক বার সরি বলেছিল আর ট্রিট ও দিসে।ভালোই চলতেসিল সবকিছু...ছোট বেলা থেকেই একা থেকে মনের মধ্যে বড় ধরণের সমস্যা ছিল।বাবা বড়লোক।যা চেয়েছি তা দিয়েছে কিন্তু ভালোবাসা কখনো দেয়নি।মায়ের অভাব টুকু পুরোণ করেনি।মনের মধ্যে যে শূণ্যতা টা তৈরী হয়েছিল তা ঐশীর কারণে কিছুটা পুরোণ হয়েছিল।এমন একটা সময় যে সময়টাতে আমি তাকে ছাড়া কিছু ভাবতেই পারতাম না

৬.
-"ঐশী...একটু দেখা করতে পারবি?"
-"কিরে ঢাবি এর ট্যালেন্ট!আমার কথা মনে আসে তোর?"
-"হম।দেখা কর রে।কথা আসে তোর সাথে"
-"ফোনে ই তো বলতে পারিস।এমনে তো খবর ও নিস না"
-"আরেহ দেখা কর।অনেক জরুরী কথা আছে।"
-"আচ্ছা দোস্ত।কোথায় আসতে হবে?"
-"আমার বাসার এদিকে আয়।গুলশানের দিকে"
-"আচ্ছা।তুমি তো একটা লেডিস...তোর আব্বু না তোকে গাড়ি গিফট করসে?"
-"হ্যা।আজকে তোকে রাইড দিবো।বিকালের দিকে চলে আয়..."
-"আচ্ছা রে..."
পুরো সকাল টা কিভাবে কাটলো তা কেবল আমি ই জানি।ফেসবুকে ওর সাথে মেসেজিং দেখলাম।২০০০০ ছাড়িয়ে গেছে।নিজেকে বুঝালাম সে নিশ্চয় আমাকে ভালোবাসে।ভালোবাসতেই হবে তাকে।তাকে ছাড়া আমি বাচতে পারবো না..আজকে আব্বু বাসায় থাকবেনা।পুরো দিন টাই একা কাটাতে হবে।১৪ বছর বয়স থেকেই অভ্যাস হয়ে গেছে।নিজেকে সামলে নিয়েছি

৭.
গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছি।ভার্সিটি তে টিকার পর আব্বু নতুন গাড়ি কিনে দিয়েছে।ঐ তো আসছে রিকশা করে সে।আজকে তাকে অনেক সুন্দর লাগছে।তার মায়াবী চোখ দুটো তে কাজল দেয়াতে আরো ফুটে উঠেছে।গাড়ির দরজা খুলে নামলাম।হাত নেড়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম।
-"আরেহ!! কি গাড়ি পাইসোস রে তুই এটা!তোর আব্বার চয়েস তো চরম"
মুচকি হাসলাম।
-"পছন্দ হইসে তোর?"
-"জোস দোস্ত।হ্যা!কি বলার জন্য ডাকসিলি বল"
-"চল আগে ঘুরে আসি একটু"
গাড়ির সামনের সিটে বসলো সে।তার দিকে কোণা চোখে তাকালাম।
ওকে আজ এতটা সুন্দর লাগছে কেন আল্লাহ জানে।
"ওয়াও তুই রবীন্দ্রসঙ্গীত ও শুনোস?"
"কলেজে তুই গাইতি তখন থেকেই শুনি"
"নে সিডি টা ঢুকা।গান গুলো সত্যিই চরম"
সিডি টা ঢুকালাম...গান বাজতে থাকলো।ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা ঠেলে এগিয়ে গেলাম নির্জনতার দিকে।

৮.
"দেখ ঐশী আমি তোকে অনেক ভালোবাসি"
"কি??"
"দেখ আমি তোকে বলতে চাইতেসিলাম অনেক দিন ধরেই"
"একদম চুপ থাক।কি সব বলতেসিস।তোর কোন হুশ আসে?"
"ঐশী বোঝার চেষ্টা কর..."
"কি বুঝবো সৌরভ।আমি ভাবতেও পারিনা তুই এসব মনে রাখবি"
"কেন?কোন কি অসুবিধা আসে?"
"দেখ সৌরভ আমি কখনো তোকে ওইরকম ভাবে দেখিনাই"
"কি রকম ভাবে দেখসো?কলেজে নিজে থেকেই ডেকে কথা বলসো,সারাদিন ফোনে কথা বলসো,এফ বি তে এত চ্যাট করসো।সব ই কি মিথ্যা?
"দেখ সৌরভ আমি তোমাকে শুধুই একজন ফ্রেন্ডের চোখে দেখসি।তুই একা ছিলি তোকে একাকিত্ব থেকে বের করে আনতে চাইসি,তাই বলে তুই এসব ভেবে বসে থাকবি তা তো আমি জীবনেও ভাবিনাই"
"মানে কি?তুই কি শুধুই করুণা দেখাইসিস?"
"করুণা না।একজন ফ্রেণ্ড হিসেবে তোকে জীবন দেখানোর চেষ্টা করসি"
"তো?আমি তোকে ভালোবাসি।প্লীজ না করিস না।আমি বাচতে পারবো না"
"সৌরভ দেখ।আমি সেইম এইজের রিলেশন পছন্দ করি না।বুঝার চেষটা কর"
"আচ্ছা ঠিকাসে।তোর বাসার কাছা কাছি এসে গেসি।তোকে নামাই দিয়ে যায়।"
"থ্যাঙ্ক ইউ ব্যাপার টা বোঝার জন্য"
সেদিন রাতে বাসায় ফিরলাম।চোখ লাল,চুল উশকো খুশকো।রাতে ঘুম হলো না।৩ বছর ধরে সাজানো স্বপ্ন যেন এক ধাক্কা তেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।সহ্য করতে পারলাম না।নেশার জগতে ডুবে গেলাম...

৯.
ভার্সিটি থেকে ফিরছি।নিজেকে অনেকটা সামলে নিয়েছি।ঐশির সাথে ওইদিনের পর থেকে খুব কম ই কথা হয়।আবার নিজের একাকিত্বের জগতে ফিরে গেছি।রিভারভিউ গ্লাসে দেখলাম।রিকশাতে দুইজন ছেলে মেয়ে কে দেখা যাচ্ছে।হাত ধরে আছে।ঠিক ভাবে দেখলাম।মনে হল যেন আকাশ টা মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ছে।রিকশা তে ঐশী।আর ছেলে টাকেও চেনা লাগছে।আমাদের কলেজ এই তো পড়তো।নাম টা মনে নেই।তাহলে কি ঐশী আমার সাথে মিথ্যা বলেছে?
মিথ্যা একেবারেই সহ্য করতে পারিনা।সেদিন বাসায় ফিরলাম।যে মেয়েকে এত ভালোবেসেছিলাম সে এভাবে আমাকে ধোকা দিল?নিজের উপর খুব রাগ লাগতে শুরু করলো।পুরো রাত ভাবলাম।
সকালে ফোন দিলাম ঐশী কে।স্বাভাবিক ভাবেই কথা বললাম।তাকে খুশি মনে হল।
যাক সে খুশি থাকলেই হয়।
কিন্তু আমাকে এত কষ্ট দিয়ে সে খুশি থাকবে?এটা হতে পারে না।
-"ঐশী একটু গুলশান আসতে পারবি?"
-"কেন?"
-"বন্ধুর জন্য।তোর এতদিনের বন্ধুর জন্য এইটুকু করতে পারবি না?"
-"আচ্ছা দোস্ত।অনেক কষ্ট পাইসিলাম সে দিন.তুই এরকম করবি ভাবতেও পারিনাই"
-"সরি ইয়ার।বাদ দে ওইসব অতীত।"
-"হম।তাহলে বিকালে দেখা হচ্ছে।"
-"অকে"

১০.
-"কিরে?তুই এরকম হয়ে গেছিস কেন?"
-"আর বলিস না।রাতে ঘুম হয়নাই।নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল,নিজের ভুল টা বুঝতে পারসি"
-"ব্যাপার না দোস্ত হয়ে যায় এরকম"
-হম।"
-"তো?নতুন কাউকে পেলি?"
-"নাহ খুজতেসি।তুই?"
-না রে।এরেঞ্জ ম্যারেজ ই করবো ভাবতেসি।
-"হাহা...ভালোই তো"
ঐশীর চোখ গুলা আজো অনেক সুন্দর লাগতেসে।পকেটে হাত ঢুকালাম।শিশি টা ঠেকলো হাতে।ওর অজান্তেই কিছুটা তরল রুমালে লাগিয়ে নাকে চেপে ধরলাম তার...কিছুক্ষণ ছোটার অনেক চেষ্টা করলো।আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়লো সে।গাড়ির পেছনে শুইয়ে দিলাম।রওয়ানা দিলাম বাসার দিকে।

১১.
অনেকক্ষণ চেয়ে থাকলাম তার দিকে।মেয়েটা অনেক মায়াবী।আমাকে মায়াজালে বেধে ফেলেছিল।এতক্ষনে তো হুশ চলে আসার কথা।হঠাত তার নিশ্বাস কেপে উঠলো।চোখ খুলছে আস্তে আস্তে।
-"আমি কোথায়?"
-"আমার বাসায়"
-"আমাকে কেন নিয়ে আসছিস?আমার ভয় লাগতেসে সৌরভ!"
-"ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নাই ঐশী।এখন বল রিকশায় হাত ধরে বসে ছিলা ছেলে টা কে?"
ঐশী নড়ার চেষ্টা করতেই বুঝলো বিছানার খুটোর সাথে তার হাত বাধা।তার চেহারায় ভয় স্পষ্ট।
চিতকার করে জিজ্ঞেস করলাম "বল!ছেলেটা কে বল হারামজাদী!"
"আমার বয়ফ্রেণ্ড।আহসানুল্লাহ তে পড়ে।।"
"তুই না সেইম এইজ রিলেশন করবি না বলসিলি?"
"ওইটা তোকে বুঝ দেয়ার জন্য।কলেজ জীবন থেকেই আসিফ কে আমার ভালো লাগে।তা জায়গা আমি কাউকে দিতে পারতাম না।প্লীজ আমাকে ছেড়ে দে"
অপ্রকৃতিস্থের মত হাসলাম..."ছাড়বো।তবে মিথ্যার শাস্তি দিয়ে"
-"প্লীজ!আমি তোর কি ক্ষতি করসি?আমি কিন্তু চিতকার করবো"
-"কি করসো?জীবন টা নষ্ট করসো তুমি আমার।একা ছিলাম ভালোই ছিলাম।আমার জীবনে আসলা তারপর আমাকে নিজের মায়ায় জড়াইলা...তারপর হঠাত এভাবে ধাক্কা দিলা।তাও মিথ্যা বলে?চিতকার করে লাভ হবেনা।আব্বু আজ বাসায় নাই।আর আশে পাশে চিতকার যাবেনা।"
ওয়ারড্রোবের উপর থেকে কাচি টা নিলাম।ঐশী ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে।কাচি দিয়ে তার জিহবা টা কেটে নিলাম।গল গল করে রক্ত ছুটলো।ঐশী চিতকার করতে থাকলো।হাতুড়ি দিয়ে মাথায় জোড়ে একটা বাড়ি দিলাম।চিতকার করে নিস্তব্ধ হয়ে গেল মেয়েটা।ছুরি টা বের করলাম।নেপালী ছুড়ি।আব্বু নেপাল থেকে এনেছিল।অনেক ধার ছুরিটার।দুই তিনবার হাত কাটসি এটা দিয়ে।ছুড়ি দিয়ে রশি গুলো কেটে ফেললাম।মেঝেতে ঢলে পড়লো সে।এবার ছুড়ি দিয়ে গলায় পোচ বসালাম।রক্তে চারপাশ ভেসে গেল।কয়েকবার কাতরিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেল তার দেহ।এভাবেই কাতরাতে কাতরাতে তাকে মরতে দেখতে চেয়েছি।আমি সফল..ঘর পুরোটাই নিস্তব্ধ।শুধু ঘড়ির টিক টিক শব্দ টা চলছে

১২.
পরের দিন পুলিশ মেঝেতে রক্তের মধ্যে পড়ে থাকা লাশ টা উদ্ধার করলো।সকালে পেপার ওয়ালা পেপার দিতে এসে প্রথমে লাশ টা দেখে।দরজা খোলা ছিল।পেপার দিতে এসে সে বাজে একটা গন্ধ পায়।ভিতরে ঢুকেই নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারেনা।চোখের কোটর খালি,শরীর বিভিন্ন জায়গায় কাটা,গলা তে রক্ত শুকিয়ে আছে,নিষ্প্রাণ দেহটির পাশে আমি বসে আছি।নির্বাক ভাবে লাশ টাকে দেখছি।সে পুলিশ কে খবর দেয়।পুলিশ এসে লাশের পাশে আমাকে দেখে।প্রশ্ন করে কিন্তু আমি কোন উত্তর দেইনি।আব্বু কে কল করে ডাকা হয়।আব্বু এসে নির্বাক হয়ে যায়।আমাকে নির্দোষ দাবী করে।
কিন্তু আমি নিজেই স্বীকার করি।কিভাবে হত্যা করেছি তার পুরো বর্ণনা ও দেই।পুলিশ অফিসার আকরাম হোসেন বর্ণনা শুনে আতকে উঠেন।আব্বু তাকে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন।সে দিন আমাকে জেলে ভরা হয়...
এরপর আমাকে কোর্টে তোলা হয়।বাবার ঠিক করা উকিল প্রমাণ করে দেয় যে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ।ডাক্তার ও তাই বলেন।অনেক দিন পরে মা কে দেখলাম।আমাকে দেখে ভেঙ্গে পড়েন তিনি।চোখ কোটরে ঢুকানো,কালসিটে পড়া,চুল উশকো খুশকো।
কোর্টে প্রমাণিত হয় আমি পাগল।
হ্যা আমি পাগল।দীর্ঘদিন একা থাকার কারণে আমার মানসিক ভাবে সমস্যা দেখা দিয়েছে।একাকীত্ব আমাকে শেষ করে দিয়েছে।আর আমি শেষ করেছি তাকে যে আমাকে সাহায্য করেছিল।আমাকে ভালোবাসা দিয়ে একাকীত্ব থেকে পরিত্রান দিয়েছিল।দোষ টা কি পুরোই আমার?নাকি সমাজ ও দায়ী?যে সমাজ আমাকে একা করে দিয়েছিল?
আমাকে মানসিক রোগের ডাক্তারের অধীনে রাখা হবে।পুলিশি পাহারায়.কিন্তু আমি নিজেকে শেষ করে দিব।এই পৃথিবী তে আর থাকতে চাই না।যে পৃথিবী আমাকে কিছুই দিবেনা কষ্ট ছাড়া।ডাক্তারের দেয়া ঘুমের ঔষধ গুলো পাশেই আছে।সবগুলো নিয়ে পানি দিয়ে গিলে ফেললাম।চোখের সামনের টা অন্ধকার হয়ে আসছে।আমি চলে যাচ্ছি অন্য পারে।আমি আমার ঐশীর কাছে চলে যাচ্ছি।বিদায় পৃথিবী! :)


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০১৪ রাত ২:৩৫
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×