
সেদিন আম্মুকে ফোন দিলাম।অনেক কথার মাঝে আম্মু আমাদের এক আত্মীয় সম্পর্কে জানালেন যে তিনি নাকি বিবাহ করেছেন।আমি শুরুতে “আলহামদুলিল্লাহ” পড়ে নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম বিবাহকালীন তার বয়স কত হয়েছিল।কারন আমি যার কথা বলছি তিনি একজন পুরুষ।আর আমি জানতাম উনি আজ থেকে প্রায় ৭/৮ বছর আগে তার পড়াশুনার পর্ব চুকিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা আমরা সর্বোচ্চ ডিগ্রি বলতে যা বুঝি তার সমমানের।আম্মু জানালেন কত আর মাত্র “৩৩”।এবার আসি মেয়ের কথায়।সে কি করে?বাড়ি কোথায়?আমার প্রিয় মা জননীর খুব সহজ সরল জবাব; মেয়ে ক্লাশ নাইনে পড়ে।আর বাড়ির ঠিকানা ও বলল।সাথে মেয়ের বাবা দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন।অনেক টাকা আর বাড়িতে পাকা ইটের বাড়ি।কত কিছু।
মেয়ে ক্লাশ নাইনে পড়ে এটা আমি শুনে আমার মেজাজের যে অবস্থা হয়েছিল তাতে প্রিয় মা জননীর পড়ের কথা গুলো খুব একটা আর খেয়াল করে শুনা হয় নাই।আর সাথে সাথে সমীকরন টা সাজিয়ে নিয়ে বুঝে গেলাম ক্লাস “নাইন” এ পড়া একটা মেয়ের বয়স আর কত হতে পারে।আমার হিসেবে মেয়ের বয়স ১৬ কিংবা ১৭ এর বেশি যে হবে না,সেটা খুব সহজেই বোধগম্য।এবার আম্মুকে অনেক কথা শুনালাম এটা নিয়ে।ক্লাশ নাইনের একটি মেয়ের বিবাহ এমন একজন এর সাথে যে কিনা প্রায় ৭/৮ বছর আগে সর্বোচ্চ পাশ দিয়েছেন।আর মেয়েটির তুলনায় বেরসিক পাত্রের বয়স মাত্র “৩৩”।
সেহরী খেতে খেতে চিন্তা করলাম,ফেইসবুকে এটা নিয়ে খুব ছোট করে একটা স্টাটাস দেই।দিয়ে দিলাম।আমার স্টাটাস্টি ঠিক এখানে কপি করছি;
“ ৩৩ বছর বয়সের একজন পুরুষ ১৬/১৭ বছর বয়সের একটি মেয়েকে বিবাহ করা শুধু ভুলই নয়,এটা অন্যায় এবং মহা অন্যায়।একটি মেয়ের স্বপ্নকে লুটয়ে দিয়ে এই বিবাহ একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ”।।
আমার ফেইসবুকে লাইক এবং কমেন্টস প্রাপ্ত স্টাটাস গুলোর মাঝে এটা এখন অন্যতম একটি।
ভেবেছিলাম,বেচারা গ্রামের মানুষ ভুল করেছে।বুঝতে পারে নাই। শ্বশুর মশাই এর পাকা বাড়ী আর বউ তো পুরাই “টাটকা” ইংলিশ এর ভার্জিন শব্দটাকে আপনি এভাবেই অর্থ করতে পারেন।একটু তো লোভ হতেই পারে।
বিপত্তিটা ঘটেছে যখন শহুরে আর সিভিলাইজড হিসেবে যারা পরিচয় প্রধান করেন তাদের মাঝে অনেক মানুষই এই কাজকে সমর্থন করেছেন।আর সেখান থেকে এই লিখাটা লিখার চিন্তা মাথায় আসে।
ভদ্রলোকগন কেহ নিজের যুক্তি আর কেহ বা কুরআন আর হাদীসের আলোকে এই কাজকে সমর্থন দিতে চেয়েছন।এটা আমি কারো দোষ বলব না।কারন প্রত্যেক এর মত প্রদানের স্বাধীনতা আছে।তবে হা, সেটা কারো অধিকার হরন করে যে নয়। সেটা খেয়াল রাখা উচিত।
আমি কোন মুফতি মাওলানা নই।কিংবা যুক্তিবাদিও না।খুবই সাধারন একজন মানুষ।যে কিনা দিনে ক্লাশে যার আর ক্লাশ থেকে ফিরে এসে নিজেকেই বেশি সময় দিয়ে প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছে।
তাই এইসব দলিলের কোন জবাব আমি দলিল দিতে পারব বলে মনে হয় না।তবে স্বাভাবিক জ্ঞান থেকে আমি কেন এই জাতীয় বিবাহের প্রতিবাদ করি সেটা বুঝাতে চেষ্টা করব।আর উপাদান হিসেবে ব্যবহার করব আমার পোস্টে আসা সেই সব কমেন্টস গুলো।
শুরুতেই আমি আমার অবস্থান টি তুলে ধরি।কেহ ৩০ কিংবা ৪০ বা তারও পরে বিবাহ করবেন নাকি সারাজীবনেই করবেন না,সেটা তার একান্ত ইচ্ছে।সেখানে মতামত দেয়ার মত স্পর্ধা আমি দেখাব না।কারন দেশের আইনে ছেলেদের ২১ আর মেয়েদের ১৮ বছর এর বিবাহ আইন অবশ্যই মানা হবে যদি বিবাহটা ৩০ বা ৪০ বছরেও কেহ করে।সেটা মেয়ের বেলায় হোক কিংবা ছেলে।
তবে যদি কেহ আমার নিজের জন্য প্রশ্ন করে আমি ২৫ থেকে ২৭ বছরের মাঝে আমার নিজের বিবাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।তবে এটা খুব স্পষ্ট যে,আমি দেশের বাহিরে থাকি।সেখানে স্ক্লারশীপে পড়াশুনা করছি আর মাস শেষে এখানের সরকার ভালবেসে একটা টাকার বান্ডিলও ধরিয়ে দেন।যেটা যে কোন মেয়ের বাবা শুনলেই মেনে নিতে দ্বি-মত করবেন না।আর সেই সুযোগকে কাজে লাগানোই তো আমার লক্ষ্য।কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা ছেলে কে পড়াশুনা শেষ করেও সে শুন্য, আর কিছু অর্জন করে নাই বলে বিবেচিত হবে যতক্ষন অব্দি চাকুরী নামের সেই সোনার হরিন ছেলেটির মুঠের বাহিরে।তাতে রেজাল্ট যত ভালই হোক।আর চাকরী পেতে ৩০/৩৩ তো বাংলাদেশে খুব সাধারন একটা টাইম।আর মেয়েদের জন্য অনেকটা সহজ হলেও বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলেদের মত ভোগান্তি তাদের থাকে না।আর যদি একটু সুন্দরী হয় তবে তো কাজটা আর সমস্যাই থাকল না।তবে এই চাকরী কেন্দ্রিক সমস্যা যে কোন ব্যাক্তি কেন্দ্রিক নয়,রাষ্ট এর জন্য দায়ী সেটা সবার কাছেই স্পষ্ট।কিন্তু আমার মূল পয়েন্ট হচ্ছে ৩৩/৩৫ বছরে বিয়ে করছেন ঠিক আছে কিন্তু ২৫ থেকে উপরে কোন মেয়েকে বিবাহ করুন,কেন ৩৫ বছর এর কালে এসে ১৭ বা ১৮ বছরের কাউকে পেতে চান জনাব?
এবার আসি ভদ্রলোকদের মতামতে;
“কথা টা যদি এমন হতো যে ১৬/১৭ বছরের ছেলের জন্য ৩৩ বছরের মেয়ে কে বিয়ে করা মহা অন্যায় তাহলে হয়তো যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু মেডিকেল সায়েন্স কিংবা ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে ১৬/১৭ বছরের মেয়ে কে ৩৩ বছরের ছেলের বিয়ে করাকে মোটেও অসামাঞ্জস্য হয় না। হয় আপনি আধুনিকতার আশ্রয় নিয়ে কথা বলেন,কিন্তু তার জন্য আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি দেখাতে হবে, নতুবা আপনি ধর্মীয় দলিল দস্তাবেজের ভিত্তি দেখাবেন। কিন্তু কোন কিছুই না দেখিয়ে ধুম ধাম কথা বলে দেওয়া ঠিক নয়।”
প্রথমে যদি আমি এই ভদ্র লোকের কাছে জানতে চাই যে জনাব আমার বয়স যখন ৪০ হবে আপনি কি আপনার ঘরের কোন সম্মানিতা ১৬/১৭/১৮ বছরের মেয়েকে আমার সাথে বিবাহ দিবেন?নাকি শুধু নিজে খুজতে গেলেই এই আইন আর আপনার ধর্মীয় এবং বিজ্ঞানের মতামত প্রযোজ্য ধর্মীয় দিক নিয়ে আলোচনায় একটু পরে আসি।তার আগে আপনার মেডিকেল সায়েন্স এর দিকে কথা বলি।
৩৩ বছরের পুরুষের ১৬ বছরের মেয়েকে বিবাহ করতে এবং পরবর্তীতে তাদের সন্তান জন্মদানে কি ধরনের সমস্যা হতে পারে সেটা আমার জানা নেই।

UNICEFএক এর রিপোর্টে দেখা যায় যে ২০-৪৯ বছরের মেয়েদের মাঝে থেকে ৭৪% মেয়ের বিবাহ হয়েছে ১৮ বছরের আগে এবং ৩৩% এর হয়েছে ১৫ বছরের আগে। আর এর ফলাফল হিসেবে সন্তান জন্মদানের সময়ে “মা” এর মৃত্যু হার আফ্রিকান দেশ গুলো থেকেও বাংলাদেশে অনেক বেশি।
এই রিপোর্ট টি করেছিলেনঃ “The fifth annual State of the World's Mothers report, published by the international charity Save the Children”
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



