
ফেইসবুক সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা সময়ই একটা জিনিষ দেখা গিয়েছে যে, “নেদারল্যান্ড এর প্রধানমন্ত্রী সাইকেল করে অফিসে যান”। অনেকে ভাবেন কত মহান এই নেতা। কিংবা কত ভাল সেই দেশ, যেখানে দরকার পরে না কোন বিশেষ প্রহরী। হতে পারে। আবার এটা নিতান্তই তাদের শহরের একটা ব্যবস্থাপনার কারনেও হতে পারে। আসলে হয়েছেও তাই।

সামান্য দূরত্বে আপনি এখানে শ-খানেক সাইকেল দেখতে পাবেন।
বেলজিয়াম এর রাজধানী ব্রুক্সেল থেকে নেদারল্যান্ড এর রাজধানী আমস্টারডাম গিয়ে যখন পৌছেছি সেটা ছিল ২৩ শে ডিসেম্বর খুব সকালে। বাসে করে মাত্র ৪ ঘন্টা লাগে এই দুই দেশে পাড়ি দিতে। শহরে নেমেই আকাবাকা নদীর (এটা তাদের ভাষায় নদী তবে দেখতে আমাদের খালের মত) সাথে সাক্ষাত মিলল। অলি গলি ডানে বামে যেদিকেই তাকাচ্ছিলাম শুধুই এই নদী আর নদীর ভেতর ছোট ছোট শিপ, যা কিনা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষন এর কারন, দেখতে পেলাম। আর এই নদীকে জুড়েই তৈরী হয়েছে হাজারো সাইকেলের রাস্তা। শুরুতে দেখে মনে হয়েছিল, এটা যেন কোন কল্পনার সাইকেলের নগরী।

বাহারী সব সাইকেলের ধরন।
৯-৯০ বছরের সবাই সাইকেল চালাচ্ছে। সবাই সাইকেলে চড়ে ছুটে চলছে আপন কর্মস্থলে। শহরে যে সাইকেল ছাড়া আর কোন যানবাহন নেই, তা কিন্তু নয়।


রূপের সাইকেল
এখান দোতালা ট্রেন, ট্রাম, মেট্রো কিংবা বাস সব কিছুই আছে। আবার প্রাইভেট কার তারও কোন অভাব নেই এখানে।
কিন্তু তবুও এই সাইকেলই কেন সবার এত প্রিয়?
জানতে চেয়েছিলাম স্থানীয় সরকারী অফিসার পিটার বেন এর কাছে। যিনি নিজেও কিনা একটা সাধারন সাইকেলে করে সেদিন অফিসে এসেছিলেন।

সরকারী অফিসার পিটার বেন।
তিনি বলছিলেনঃ “আমাদের শহরে আসলে রাস্তা গুলো খুব সরু। এখানে আপনি প্রাইভেটকার নিয়ে বের হলেই আপনাকে অনেক্ষন জ্যামে আটকে থাকতে হতে পারে। আবার আপনি শহরের সব খানে সুবিধা জনক পার্কিং সুযোগও পাবেন না। আমি এখান থেকে খুব কাছেই থাকি, কিন্তু আমি জানি না কোথায় এখানে আমার গাড়ি আমি পার্ক করতে পারি। আপনার একটি একটি সাইকেল আপনার যাতায়াতের খরচ বাচিয়ে দিবে। আবার অন্যদিক থেকে এটি কিন্তু আপনার শরীরের জন্য খুব ভাল একটি ব্যায়াম, যা আপনি বিনা পয়সায় পাচ্ছেন”।

ভদ্র মহিলা দেশের কোন মন্ত্রি হলে অবাক হবে না।
তিনি আরো বলছিলেনঃ “আমাদের দেশের কর্তারা যখন দেখলেন, পাব্লিক যাতায়াতের জন্য আমাদের যা ছিল তার থেকে নতুন কিন্তু বের করে আনা দরকার। ঠিক তখন তারা এই শহরে সাইকেল কে জনপ্রিয় করে তোলার কাজ হাতে নিলেন। আপনি এখানে এখন তারই ফল দেখতে পাচ্ছেন। এটাকে আপনি আমাদের শহরের লোকাল ট্রেডিশন হিসেবেও দেখতে পারেন। আমি এই সাইকেল এর নগরী একজন বাসিন্দা হিসেবে নিজেকে খুব ভাগ্যবান আর গর্বিত মনে করি। কেননা, এখানের সবাই তাদের নিজেদের যাতায়াতের মাধ্যম নিজেরাই তৈরী করে নিয়েছে। আবার যারা আপনাদের মত এখানে ভ্রমনে এসেছেন তাদের কাছেও কিন্তু প্রধান আকর্ষন এই সাইকেল আর এই শহরের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া আকাবাকা নদী গুলো”।

শহরের রঙ্গিলা আর্টগুলোও যেন জানান দিচ্ছে এখানে সাইকেল আছে।
আমাদের প্রথম দিন আমস্টারডাম এর অলিগলিতে সাইকেল এর ছবি তুলেই কেটে গেল। এখানে আপনি খুব কম মূল্যে সাইকেল ভাড়াও পাবেন। আর এই শহরে এসে আপনি যদি সাইকেলে না উঠেন কিংবা সাইকেলে করে এই শহরে না ঘুরেন তবে আপনার এখানে আসার কোন যথার্থ কারন আপনি খুজে পাবেন না।।

সাইকেলকে কেন্দ্র করে এখানে জমে উঠেছে নানান বানিজ্য।

রেস্টুরেন্ট এর সামনের আলোর বিচ্ছুরনও যেন সাইকেলকেই ঘিরে।
সাইকেলকে ঘিরে আরো কিছু ছবিঃ







কিছুক্ষন এর জন্য আমার পাঠক হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



