somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৈশবের সুখ স্মৃতির অন্তরালে।

১০ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৌষের কাছাকাছি, রোদ মাখা সেই দিন ফিরে আর আসবে কি কখনো?
ফিরে আসবে কি কখনো?

প্রিয় গানগুলোর ভিতরে এটি একটি৷ যখনই এই গানটি শুনি মনে হয়, আহ্ কি দারুন একটা গান? অসাধারন লিরিক যা চিরন্তন নস্টালজিক একটা আমেজ নিয়ে হাজির হয়। সেই দিন আর কখনই ফিরে আসবে না। আসলে মানুষের এই ক্ষনকালীন জীবনটা অসম্ভব কিছু পাওয়া না পাওয়ার একটা চক্রের মধ্যে ঘুর্ণায়মান। আমাদের জীবন চক্রের সবচেয়ে সুন্দর সময় হল  শৈশব। শৈশবের সুখস্মৃতিই নাকি মানুষের সবচেয়ে সেরা স্মৃতি। যা মৃত্যুর আগ মুহুর্তে নাকি ভেসে উঠে শৈশবের কোনো টুকরো ঘটনা।

কিছু কিছু রোমাঞ্চ জীবনে আর ফিরে আসে না, সেই অনুভূতি মনের ভোল্টে অতি মূল্যবান সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকে। মাঝে মাঝে সেই সঞ্চয় থেকে সুদ হিসেবে নস্টালজিয়া ধার করি, জটিল জীবনে থেকে নিজেকে আলাদা করে মুক্ত করি নিজেকে সেই নস্টালজিয়া ভরিয়ে দেয়ার জন্য।

কথা হচ্ছিল শৈশবের সুখস্মৃতি। মানুষ তার জীবনের কোন এক সময় তাঁর সুখ স্মৃতিগুলো মনের গভীরে উদ্দীপনা জাগায়। তখন ফিরে পেতে চায় সেই শৈশবে। আহা কি সেই  শৈশব! সে সময় ছিল উচ্ছ্বল প্রানবন্ত জীবন। মুসল ধারে বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলা, বর্ষায় নৌকা বাইচ। শরৎকালে সুনীল গগণে সাদা মেঘ স্তূপীকৃত হয়ে ভেসে বেড়ায় ওই সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলা অজানার দেশে। ফড়িং প্রজাপতির পিছনে ছোটা ছুটি। কৃষ্ণ পক্ষের কোন সময় জোনাক পোকা ধরে এনে কাচের বয়্যামে রাখা। কি ছিল না সেই জীবনে? বর্শি, পলো বা জাল দিয়ে নদীতে মাছ ধরা কি দুরন্তপনা বাধাহীন জীবন। শীতের সকলে পিঠা, মুড়ি খেজুরগুড় নিয়ে উঠানে বসে খেতে খেতে রৌদ্র পোহান। পৌষ পার্বণের দিনে পাড়ার বাড়ি বাড়ি ঘুরে পিঠে খেয়ে বেড়ান।

শীতের সকালে আলস্যের চাদর অবমুক্ত করে কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে পুর্ব আকাশে সূর্য নিজেকে জানান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কোমল সূর্যরশ্মিতে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দুগুলো মুক্তোদানার মতো ঝলমল করে। গাছের পাতা থেকে শিশির ঝরে পড়ার টুপটাপ শব্দ আর পাখিদের কলরব আন্দোলিত করে জীবনকে। শিশিরভেজা মেঠো পথে ধরে সরিষা ক্ষেতে খালি পায়ে হাঁটা সে এক অপূর্ব সুখানুভিতি। যেন হলুদের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কী অপরূপ প্রকৃতি! ফিরে যেতে ইচ্ছে করে প্রকৃতির খুব কাছে প্রকৃতির সাথে একাত্ব হওয়ার জন্য।

আমর এ শৈশব ছিল এক  দুরন্ত, উচ্ছ্বল, উচ্ছ্বাস ও প্রানবন্ত স্বর্ণ যুগ। যেখানে আর এ মানব জীবন নিয়ে কখনই ফিরে যাওয়া যাবে না। শৈশবের সেই সব সুখ স্মৃতি মনে পরলে, এখন শুধু শাহ আব্দুল করিম এই গানটি মনে মনে গাই -

"আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম"
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালাশ

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬

ছবি : এ আই

জোর জবরদস্তি,
উঠিত লিঙ্গের দুই মিনিটের সুখ
তারপর ???
গরম, মাথা গরম।
কোপ, কল্লা মাথা আলাদা,
শেষ, নিথর নিশ্চুপ দেহ,
খণ্ডিত ছিন্নভিন্ন।

লাল রক্ত কালচে হওয়ার আগেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×