somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পদত্যাগ বিতর্কে বেকায়দায় সরকার

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পদত্যাগ করার পরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণসহ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টিতে সরকার বেকায়দায় পড়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ও মন্তব্য বিষয়টিকে আরো জটিল করে তুলেছে। সরকারের মন্ত্রীদের নাটকীয়ভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর স্বপদে বহাল থেকে দাফতরিক কাজকর্ম করাকে আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নজিরবিহীনভাবে মন্ত্রীদের ইচ্ছামতো অবস্থান নেয়াকে সংবিধানের সাথে তামাশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইন বিশ্লেষকেরা। কয়েকজন মন্ত্রীকে সরকারের কর্মকর্তারা বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে তারা কোনো বাধাই মানতে রাজি হননি। গতকাল মঙ্গলবার যথারীতি পতাকা উড়িয়ে তারা সচিবালয়ে এসেছেন। ফাইলপত্রে সই করেছেন। আইন বিশেষজ্ঞ ও সংবিধান বিশ্লেষকেরা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, পদত্যাগের পর মন্ত্রীদের দায়িত্বে থাকার কোনো বৈধতা নেই। এটা একেবারেই সংবিধান পরিপন্থী। তারা বলছেন, পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর কেউ যদি তার পদবি অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম করেন, তা হবে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরও মন্ত্রীরা যেভাবে কাজ করছেন তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, পদত্যাগী মন্ত্রীরা সংবিধানকে খেলার পুতুল বানিয়ে ফেলেছেন। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরও দাফতরিক কাজ করা সংবিধান বহির্ভূত এবং সংবিধানকে অশ্রদ্ধা ও অসম্মান করার শামিল। এর মাধ্যমে তারা সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য অপরাধ করছেন। সংবিধানে এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র বলছে, পদত্যাগ নিয়ে মন্ত্রীরা যেসব ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তা সংবিধানের চেতনাবিরোধী। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্র জমাদানকে ‘আনুষ্ঠানিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য বলে সংবিধান বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তারা বলেন, নিজেদের সুবিধা মতো সংবিধানকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। এভাবে দেশের সর্বোচ্চ আইনের ভুল ব্যাখ্যা করা হলে তা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ পরিণাম বয়ে আনতে পারে। সংবিধান লঙ্ঘনসংক্রান্ত ৭(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘(১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায়-(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে; কিংবা (খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলেÑ তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে। (২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা (খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলেÑ তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে। (৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন গতকাল জানান, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীÑ এগুলো সাংবিধানিক পদ। সংবিধানের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের পদত্যাগপত্র দাখিল করবেন সেই মুহূর্ত থেকে তাদের পদ শূন্য হবে। এখানে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার কোনো অবকাশ নেই। সে কারণে পদত্যাগপত্র দাখিলের পর তারা যদি ওই পদবি অনুযায়ী কোনো কার্যক্রম করেন তা হবে সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর যদি এক মুহূর্তের জন্যও কেউ ওই পদের দায়িত্বে থাকেন এবং কোনো রকম কার্যক্রম করেন তবে তা অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হবে এবং এর জন্য তারা সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনগতভাবে দণ্ডনীয় হওয়ার যোগ্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী বলেছেন, পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর মন্ত্রীদের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। এটা একদমই অসাংবিধানিক। আওয়ামী লীগ সংবিধানে নিজেদের করা সংশোধন নিজেরাই লঙ্ঘন করে একটা লেজেগোবরে অবস্থা সৃষ্টি করেছে। সংবিধান অনুসারেই পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর তারা অবৈধ। একটা স্পষ্ট সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি করে ফেলেছেন তারা। যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা বলছেন, তারা সত্যের অপলাপ করছেন। সরকারের মন্ত্রীরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া হিসেবে পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করছেন। নিজেদের মতো করে সংসদীয় গণতন্ত্র চালালে তো হবে না। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের কথা বলছেন অনেকেই। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, সেসব দেশের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠিত হয় সংসদ ভাঙার পর। আমাদের এখানে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন অথচ সংসদই ভাঙল নাÑ এটা অবৈধ। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডে একটা নিয়ম আছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ার দিন বিকেল ৫টার মধ্যে এমপিদের তাদের দফতর থেকে ব্যক্তিগত কাগজপত্র সরিয়ে নিতে হয়। তারপর সংসদে তালা ঝুলানো হয়। সেখানে এমপিরা কোনোভাবেই তাদের মতা প্রদর্শনের সুযোগ পান না। ভারতেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নি¤œক (লোকসভা) ভেঙে যায়। শুধু উচ্চক থাকে। অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডেও সংসদ ভেঙে দেয়া হয়। তারপর প্রেসিডেন্ট একটি ছোট মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী ছোট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন রুটিন কাজ চালানোর জন্য। অথচ আমাদের এমপি-মন্ত্রীরা এখনো নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন পদ-পদবি নিয়েই। তিনি আরো বলেছেন, নির্বাচনী আইনে রয়েছে, সরকারি সুবিধা নিয়ে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করতে পারবেন না। অথচ ২৭ তারিখের পর প্রতিদিনই সবাই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সংবিধানে তাদের নিজেদের আনা সংশোধনী অনুসারে ২৭ অক্টোবরই সংসদ ভেঙে যাওয়ার কথা ছিল। অথচ সংসদ চলছে। অবশ্য আরো কিছুদিন সংসদ সচল রাখার সুযোগ তাদের আছে; কিন্তু সংসদ ভেঙে না দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কিভাবে হয়? অন্তর্বর্তী সরকার থাকলে সংসদ থাকবে না। দেশে এরই মধ্যে একটি সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ বহাল থাকতেই এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে; কিন্তু তারা সেদিকে এগোচ্ছেন না। সংসদ বহাল থাকতেই সমাধান করতে না পারলে জরুরি অবস্থা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। সাবেক জজ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ইকতেদার আহমেদ বলেন, একজন মন্ত্রী যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন, সংবিধান অনুসারে সেই মুহূর্ত থেকেই তার পদ শূন্য হবে। পদ শূন্য হওয়ার পর কোনো পদত্যাগী মন্ত্রী যদি তার দাফতরিক কাজ চালিয়ে যান অথবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা আগের মতো গ্রহণ করেন সে ক্ষেত্রে তার এ কাজ সংবিধান লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে। আর সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংবিধানে সন্নিবেশিত ৭(ক)(১)(খ) আকৃষ্ট হবে যাতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি অসাংবিধানিক পন্থায় এ সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করলে বা উহা করবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করলে তার এ কাজ রাষ্ট্রদ্রোহ হবে এবং তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী হবেন। তা ছাড়া এ পর্যায়ে তাকে যারা সহযোগিতা করবে, তারাও সম অপরাধে অপরাধী হবেন। তিনি আরো বলেন, একজন মন্ত্রী পদত্যাগের পর তার কার্য চালিয়ে গেলে সেটি হবে সংবিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস ও প্রত্যয় পরাহত করার সমরূপ। এ ক্ষেত্রে সংবিধানে বলা হয়েছেÑ এরূপ অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। প্রচলিত আইনে নির্ধারিত দণ্ডের সর্বোচ্চ দণ্ড হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড এবং এ ক্ষেত্রে সংবিধান মৃত্যুদণ্ডের কথাই ব্যক্ত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানান, ‘আমরা যদি কঠোরভাবে সংবিধানের প্রয়োগ করতে চাই, তাহলে বলা যায়Ñ পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরও মন্ত্রীরা যেভাবে কাজ করছেন তা সংবিধান বহির্ভূত এবং সংবিধানকে অশ্রদ্ধা ও অসম্মান করার সমতুল্য। কাজেই এখানে বলার সুযোগ রয়েছে যেÑ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রণীত সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করিÑ ন্যূনতম সততা থাকলে এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে সংবিধান মেনে চলার মানসিকতা থাকলে মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর তাদের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করার কোনো ধরনের অধিকার নাই।’ এ বিষয়ে পদত্যাগী আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, সেটা পদত্যাগপত্র নয়, এটি একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, এটি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার উদ্দেশ্যে জমা দেয়া হয়নি। আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘সংবিধান কোনো ছেলে খেলার ব্যাপার নয়। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমার পরই সেই পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হবে। এটা আনুষ্ঠানিক নাকি অনানুষ্ঠানিক, এটা বলার কোনো সুযোগ নেই।’ সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেছেন, ‘সংবিধানের ৫৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশে একজন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করবেন, সেরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকবেন; কিন্তু ৫৬(২) অনুচ্ছেদে বলা আছেÑ প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করবেন। অথচ সোমবার বাংলাদেশের মানুষকে বোকা বানাবার জন্য বলছেÑ যেসব পদত্যাগপত্র দেয়া হলো তার মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী যাকে ইচ্ছা রাখবেন এবং যাকে ইচ্ছা বাদ দেবেন আর সর্বদলীয় মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবেন, এই এখতিয়ার বাংলাদেশের সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে দেয়নি। এখন নৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকেও পদত্যাগ করা উচিত।’ প্রসঙ্গত গত সোমবার সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।’ আইন বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ মতে, মন্ত্রীরা যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাদের পদত্যাগপত্র দাখিল করবেন সেই মুহূর্ত হতে তাদের পদ শূন্য হবে। কিন্তু পদত্যাগপত্র দেয়ার পর মন্ত্রীরা এখন বিষয়টির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তারা বলছেন, তাদের পদত্যাগপত্র জমাদানের বিষয়টি ছিলো আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তারা পদত্যাগপত্রে কোনো তারিখ দেননি। ফলে তাদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা মন্ত্রী থাকবেন। মন্ত্রীদের এই চাতুর্যপূর্ণ বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইন বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর গ্রহণ বর্জনের কোনো সুযোগ নেই। তা বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। সংবিধানের কোথাও পদত্যাগপত্রে তারিখ প্রদানের কথা লেখা নেই। যখনই তা প্রকাশ হবে তখন আপনা আপনিই তা কার্যকর হয়ে যাবে। চাকুরিবিধির সাথে সাংবিধানিক পদের পার্থক্য রয়েছে। পদত্যাগী আইনমন্ত্রী গতকাল বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, সেটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ, এটি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করার উদ্দেশ্যে জমা দেয়া হয়নি। সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার এ বক্তব্যের সাথে অবশ্য সংবিধান বিশ্লেষকেরা একমত হননি। তারা বলছেন, পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর পদত্যাগীরা যেভাবে দাফতরিক কাজ করছেন তা সংবিধানের পরিপন্থী এবং সংবিধানকে অশ্রদ্ধা ও অসম্মান করার সমতুল্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×