
আমি খুব অপটিমিস্টিক, জানো? যখন ছোট ছিলাম, তখন দাদু একাত্তুরের গল্প বলতেন।যুদ্ধে যাবার গল্প।কান্নার আর বিচ্ছেদের গল্প।আজও অপটিমিস্টিক, কিন্তু জিন্নাহ্ আর মুদি অথবা অমিত শাহ্ এর মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে গিয়ে আমার দাদু পেসিমিস্টিক হয়ে যেতে পারে কিন্তু আমি এখনো অপটিমিস্টিক।
আমি খুব অপটিমিস্টিক, জানো? বাংলা যখন উর্দু, হিন্দি, তামিল ভাষার সামনে হেরে যায় বিশাল বড় বাঙালী স্পিকার নিয়েও, তখনও আমি অপটিমিস্টিক।এই জাতি জাতি খেলায় ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশ তিনটি দেশ হয়ে গেলো।দাদু স্ট্রোক করলেন, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মুর্ছা গেলেন বাঙালী জাতি হেরে গেলো তাই, তবুও আমি অপটিমিস্টিক।
আমি খুব অপটিমিস্টিক, জানো? যখন পানওয়ালাও বলে, “আমার ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াবো।ইংরেজি শেখাবো।বাবু হতে শেখাবো”।ইংরেজি শেখায় দোষ নেই জানি, বাবু হওয়ায়তেও দোষ নেই জানি কিন্তু বাংলার কি হবে সেটা ভেবে ভবানীপ্রসাদ মজুমদার “বাংলাটা ঠিক আসে না” বলে একটা কবিতাও লিখতে পারেন।তাতে আমার কি! আমি খুব অপটিমিস্টিক।
আমি খুব অপটিমিস্টিক, জানো? জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে ফেলার দিনে যারা জন্মদিনের কেক কাটো তাদেরকে অনেকে ছিঃ ছিঃ করে।অনেকের ঘৃণায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।আবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কটুক্তি করে স্বাধীনতার ঘোষক থেকেই নাম কেটে দাও।এসব দেখে সকল বদ্ধভূমি কান্না করে জানি, ওরা পেসিমেস্টিক হলেও আমি ভাই অপটিমিস্টিক।
আমি প্রচন্ড অপটিমিস্টিক, জানো? তোমরা যারা মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করো।মুক্তিযোদ্ধে মুক্তি বাহিনীর বিপক্ষে থেকে আজ ধর্মীয় বিশ্বাস এনে জনগণের চোখ ছাই দিয়ে বাংলায় রাজনীতি করো।ভীতু-কাপুরুষের মত ক্ষমা চাইতেও লজ্জা করো।হিন্দু-মুসলমান তুমি কি পৃথক করবে ভাই, বাঙালী জাতি আজ ভেঙ্গে যায়।কারো কারো এতে আফসোস হতে পারে, কিন্তু আমি অনেক অপটিমিস্টিক।
আমি অনেক অপটিমিস্টিক, জানো? যখন বেলাবোস শব্দটা আজও ব্যয়বহুল।শুধু ঐ টেলিফোন নম্বর ম্যাসেঞ্জারে হয়ে গেছে।বিল কাটে না।তবু আজও কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবে দেশের উঁচু মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা।কোঠা-কোঠা করে অসম্মান করো যে, ওদের কম্পিটেন্ট নেই।এখন উদ্যোগতা হবো বলে চায়ের দোকান দিবো ভাবছি, কারণ ক্যাসিনোতে যাবার কম্পিটেন্ট আমার নেই।তাই আমি আজও অপটিমিস্টিক মি. অঞ্জন দত্ত।
আমি অনেক অপটিমিস্টিক, জানো? যারা গণতন্ত্রের নামে মানুষ মারো অথবা গণতন্ত্রের জন্য মারো।টর্চার সেল আর ধর্ষণ হলো ফেমিনিজম পত্রিকা প্রথম আলোর হেডলাইন।কেউ কেউ “জয় হিন্দ” বলে, এই বাংলাদেশেই তো।বোকা হয়ে যায় সাধারণ মানুষ।ওদের ব্যাপারটা হজম করতে কষ্ট হয়।কিন্তু আমি না, আমি অনেক অপটিমিস্টিক।
আমি অনেক অপটিমিস্টিক, জানো? একবার এস.এস.সি পরীক্ষায় পপগুরু আজম খানকে নিয়ে ছোট গল্প লিখতে বলা হলো।কিন্তু গোল্ডেন এ প্ল্যাস নিয়ে বের হয়ে আসা ছেলেটাও আজম খানকে চিনলো না।বরং সে তো “অপরাধী” নিয়ে খুব ব্যস্ত।চিনে না ভূমি, চন্দ্রবিন্দু, লক্ষ্মীছাড়া, মাইলস, নগর বাউল, ফিডব্যাক, সোলস, ফসিলস, ক্যাকটাস, ক্রসউইন্ডজ অথবা ইনসোমনিয়া।আজম খানের মত করে অনেকেই হয়তো আজও বলে, “হায়রে বাংলাদেশ...”।কিন্তু আমি না, আমি প্রচন্ড ভয়ানক একজন অপটিমিস্টিক মানুষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



