somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

সত্যের অপলাপ: ডার্ক সাইকোলজির রহস্যময় কৌশল

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সত্য ও মিথ্যার মধ্যে একটি পাতলা লাইন বিদ্যমান। আবার সত্য দিয়েও সত্যের অপলাপ করা যায়। ডার্ক সাইকোলজির ১১তম কিস্তিতে আমার আলোচনার বিষয় হচ্ছে ‘Paltering (সত্যের অপলাপ করা)’। সতর্কতা হচ্ছে, ডার্ক সাইকোলজিক্যাল কৌশল জানুন এবং নিজেকে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে বিরত রাখুন। একই সাথে, এই ধরণের কৌশল কারো উপর প্রয়োগ করবেন না।

কাউকে যদি খুবই একনিষ্ঠ মনে হয়, পারফেক্ট মনে হয় বিশেষ করে তার কথাবার্তায় তাহলে আপনাকে একটু সাবধান হওয়া জরুরী। এমনও হতে পারে তিনি আংশিক সত্য বলছেন। পুরো সত্য জানলে হয়তো তার বিষয়ে বা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আপনার চিন্তা ১৮০° ডিগ্রি ঘুরে যেতে পারে। আপনি জীবনে একবার হলেও আপনার বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনের থেকে শুনেছেন, “আমি কি তোমাকে কখনো মিথ্যা কথা বলেছি?” - এই ধরণ বা রকমের প্রশ্ন। আপনি তখন অতীতে চলে গেছেন এবং চিন্তায় মগ্ন হয়ে দেখছেন যে লোকটিকে বিশ্বাস করা যায়।

কিন্তু খোদ এই প্রশ্ন, “আমি কি তোমাকে কখনো মিথ্যা কথা বলেছি?” হলো এক ধরণের সত্যের অপলাপ। ছলনা বৈ আর কিছুই নয়। আমরা এখানে একটি সম্পর্কের কথা চিন্তা করি। ধরুন, আপনার পার্টনার আপনাকে বলেছেন, “আমি কি কখনো তোমাকে মিথ্যা কথা বলেছি?” – হতে পারে তিনি সত্যিই আপনাকে কোনো মিথ্যা কথা বলেন নাই। কিন্তু এই স্টেটমেন্ট তাকে আরো বেশি সৎ ও আপনাদের সম্পর্কের প্রতি অধিক স্বচ্ছ হিসেবে দেখাবে। কারণ তিনি এই সত্য জাহির করার মাধ্যমে হতে পারে আরো অনেক মিথ্যা আপনার থেকে লুকিয়ে রাখতে সুবিধে পাবেন।

এই ধরণের প্রশ্নে পাল্টা এমন চারটে প্রশ্ন নিশ্চয় করবেন,

১. তুমি কি কখনোই আমার কাছে থেকে কোনো তথ্য লুকিয়ে রাখো নাই?
২. কখনো কি তোমার মনে হয়েছে যে কিছু কথা আমাকে তোমার বলা উচিত ছিলো কিন্তু বলো নাই?
৩. তোমার কি এরকম অনুভব হয়েছে যে, আমাকে মিথ্যে বললেও চলবে?
৪. হঠাৎ এমন প্রশ্ন! একটু ব্যাখ্যা করবে?

দেখুন, একটি সত্য দিয়ে একজন মানুষ হাজারটা মিথ্যা মুছিয়ে বা মিশে ফেলার চেষ্টা করছেন। রীতিমতো ফেরেশতা হবার চেষ্টা করছেন। জরুরী নয় সব সম্পর্কেই এমন কিছু আছে কিন্তু উপরোক্ত প্রশ্নগুলো তাকে অধিক সাধু বা অধিক ভালো মানুষ হিসেবে জাহির করা থেকে দূরে রাখবে। কারণ মানুষ মানে আমরা প্রায় মিথ্যা কথা বলে থাকি। আর সেই মিথ্যা কথাকে ঢেকে রাখার জন্য একটি ঠিকঠাক সত্যের লেজ ধরতে পারলেই হলো।

ডার্ক সাইকোলজির এই টপিকগুলো খুবই ডার্ক থিমের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে রোমান্টিক সম্পর্কের উদাহরণ টানছি যাতে করে প্রবন্ধটি আপনাকে মজা দেয়। আমরা আরো একটি সম্পর্ক কল্পনা করি। এই সম্পর্কের পার্টনার আরো চতুর। তিনি (ছেলে/মেয়ে) তার পার্টনারকে বলছেন, “আমি তো আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকতে চাই। তুমি জেনে অবাক হবে আমি তো আমার আগের বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড কে আমার ফেসবুক পাসওয়ার্ড পর্যন্ত দিয়ে রেখেছিলাম।” আপনার এই কথা শুনে মধুর মত মনে হতে পারে। কিন্তু এক সেকেন্ড! ওদের সম্পর্ক-ই ভেঙেচুরে চুরমার হয়ে গেছিলো বিশ্বাসের ঘাটতির কারণে। আর এজন্যই একসময় একে অন্যের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাসওয়ার্ড শেয়ার করতে বাধ্য হয় এবং প্রকৃত সত্য জানার পর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। তিনি সত্য বলেছেন কিন্তু আংশিক সত্য বলেছেন। এই একটি সত্য বলার মাধ্যমে তিনি স্ট্যান্ড-আউট করতে পারছেন এবং বাকি সকল সত্য তথ্যগুলোকে খারিজ করে দিয়েছেন। এটাকে বলা হয় ‘নির্বাচিত সত্য (Selective Truth)’।

মা-ছেলের সম্পর্কে একটি মজার উদাহরণ আছে এ বিষয়ে। মা বলছেন, “তুমি কি আগামীকালের হোমওয়ার্ক করেছো?” ছেলে প্রত্যুত্তরে বলছে, “মা, আমি তো পুরো ইংরেজি রচনা আজ লিখেছি।” বেচারি মা-ও খুশি, চতুর ছেলেও খুশি। কিন্তু হোমওয়ার্ক কি সম্পন্ন হয়েছে? উত্তর হলো, না। এছাড়া ইন্টারভিউ নিয়ে একটি মজার উদাহরণ আছে। সিভি দেখে ইন্টারভিউয়ার প্রশ্ন করলেন, “আমাদের এই কোম্পানিতে আপনাকে আমরা কেন নিয়োগ দেবো?” ক্যান্ডিডেট বলছেন, “আমার একাধিক অভিজ্ঞতা আছে একাধিক সফল প্রজেক্টে, অনুগ্রহ করে আমার সিভি তে দেখুন!” ক্যান্ডিডেট হয়তো চাকুরীও পেয়ে গেলেন। কিন্তু তিনি যে সত্যের আশ্রয় নিয়েছেন সেটার ধরণ হলো ‘Misleading Impression (বিভ্রান্তিকর ছাপ)’। খুব সম্ভবত তিনি সরাসরি সকল সফল প্রজেক্টে তো নয়-ই কোনো প্রজেক্ট পরিচালনা পর্যন্ত করেন নাই। তিনি ছিলেন ঐ সব প্রজেক্টের একজন সাধারণ কর্মী মাত্র, সমর্থক মাত্র, পরিচালক নয়।

সর্বশেষ যে কৌশল অবলম্বন করা হয় সেটা হলো, ‘Maintaining Plausible Deniability (বিশ্বাসযোগ্য অস্বীকৃতি বজায় রাখা)’। ধরুন, আপনি কাউকে টাকা ধার দিয়েছেন। যখন আপনি ঐ টাকাটা তার নিকট থেকে চাইছেন তখন তিনি বলছেন, “খুব শীঘ্রই আমি আপনার টাকাটা দিয়ে দেবো।” খেয়াল করুন, তিনি তার কথার মধ্যে নির্দিষ্ট সময় বা তারিখ উল্লেখ না করে এক প্রকার ‘দ্ব্যর্থতা (Ambiguity)’ ইচ্ছে করে রেখে দিচ্ছেন। একইভাবে বন্ধুত্বে বা কাছের সম্পর্ক গুলোতেও দেখবেন, “বন্ধু, একদিন তোমার সাথে দেখা হবে।” দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ধরণের বন্ধুর ঐ ‘একদিন’ সাধারণত আর কখনোই আসে না।

সম্পর্কে বেঞ্চিং এ থাকা ছেলে/মেয়ে শুনে থাকে, “আমার সত্যিকারের একটি প্রেমের সম্পর্ক চাই। আর যদি ভালো ছেলে/মেয়ের কথা বলো তবে তোমার তুলনা নাই!” এখানেও খেয়াল করুন, ব্যাপক দ্ব্যর্থতা খুঁজে পাবেন। প্রেম করবেন ঠিক আছে, আপনি ভালো সেটাও ঠিকাছে, সবই সত্য। কিন্তু তিনি কি আপনার সাথেই প্রেম করবেন? আপনাকে কি এতে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হলো? আপনি হয়তো বসে বসে ভাবছেন ‘একদিন’ আপনাদের সুন্দর সম্পর্ক হবে, সুন্দর সংসার হবে। আহা! ঐ অস্পষ্টতা আর ঐ ‘একদিন’ নিয়ে আসতে পারে না। উল্টো নিজেকে ব্যবহৃত হয়েছেন বলে মনে হতেও শুরু করতে পারে।

দেখছি... কোন একদিন.. শীগ্রই... সময় সময়... কখনো কখনো... মনে হয়... এই শব্দগুলো দ্বারা দ্ব্যর্থতা বুঝায়। এই ধরণের মানুষ থেকে সবসময় সাবধান। বিশেষ করে আপনার কাছে বিষয়টি যদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়। সম্ভব হলে এদের থেকে পরিষ্কার হয়ে নিন, নিশ্চিত হয়ে নিন, স্পষ্ট হোন! নতুবা একজীবনে আপনাকে আরো অনেক কিছু দেখতে হতে পারে। এরা নিজের জীবনের পাশাপাশি আপনার জীবন নিয়েও তামাশা শুরু করে দিতে পারে। ইমতিয়াজ আলীর চেয়েও বড় তামাশা।

Also Read It On: সত্যের অপলাপ: ডার্ক সাইকোলজির গোপন কৌশল
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১:০০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্র হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং শরিয়া আইন হলো সকল পক্ষের সম্মতি বিশিষ্ট ইসলামী হুকুমতের আইন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৯



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×