somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে

২৭ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাধীনতার ৪০ বছর পাড় হয়ে গেছে। এখনো সমাধান হয়নি "প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা" ব্যপারটার। আসলে কারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা?! আরেকটা কথা দেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা আছে বীরাঙ্গনা কোটা নেই? কেন? আমরা কেন এখনো লিঙ্গ বৈষম্য থেকে বের হতে পারছি না? কারণ আমাদের গোড়ায় গলদ। আর যারা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়নি তারাও কি যোদ্ধা নয়? যারা শারীরিক ভাবে নির্যাতিত হয়নি তারাও কি যোদ্ধা নয়?

এবার আমার নিজের পরিবারের কথা বলি। মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোড এলাকায় তখন পাকিস্তানি বিহারীতে ভরা। এমন সময় মার্চ মাসের শুরুতে আমার খালা (তখন ১৬ বছর) নিজে রাত জেগে সেলাই করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরি করেন। পরের দিন এলাকায় সেটা উত্তোলন করেন আমার মামা। পরে ২৬ মার্চের পর আমার মামা যুদ্ধে যান। ২৬ মার্চ পাকিস্তানি হামলার সাথে সাথে তৎপর হয়ে ওঠে বিহারীরা। আমার মা তখন অনেক ছোট। ৫-৬ বছরের বালিকা। আমার বাকি খালাদের বয়স তখন ১৬ থেকে ২৫-২৬ বছরের মধ্যে। সেই রাতে কোন মতে প্রাণ বাঁচিয়ে কিছুদিন পরেই গ্রামের বাড়ি (ধরের বাড়ি, টাঙাইল) চলে যান। টানা কয়েকদিন না খাওয়া অবস্থায়। পায়ে হেঁটে। আজকের দিনে চিন্তা করতে পারবেন এটা? জানি পারবেন না। আর আমার বড় মামা তখন ১৪-১৫ বছরের তরুন। সেই বয়সেই যুদ্ধ করেছেন। বাকিটা সবাই জানেন। দেশটা স্বাধীন হল। মামা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলেন দাপটের সাথেই। এলাকার বিহারীরা তাকে বাঘের মত ভয় পেত।

এলাকার মসজিদ কমিটিতে ছিলেন আমার নানা। তিনি কি শান্তি কমিটিতে নাম লেখানোর প্রস্তাব পাননি? তিনি কি পারতেন না নিজের এবং নিজের মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য মাথা নিচু করতে? না তিনি করেননি। তার ছেলেকে পাঠিয়েছেন যুদ্ধে। দাঁত কামড়ে পরে থেকে নিজের কষ্টের টাকায় বানানো বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে। কিসের জন্য? স্বাধীন একটা দেশের নেশায়।

এবার আমার বাবার কথা বলি। না তিনি কোন সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা নন। একটা গছিয়ে দেয়া বাতিল হয়ে যাওয়া সার্টিফিকেট অবশ্য আছে। তখন বাবার বয়স ১৬। টগবগে তরুন। সিরাজগঞ্জ শহরে থাকেন। ট্রেনিং নিয়েছিলেন। তবে, সম্মুখ যুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ তার হয়নি। তিনিও সিরাজগঞ্জ শহরে প্রথম পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।

শেষ কথা:
একটা স্বাধীন দেশ প্রাপ্তিতে তখনকার সবারই কম বেশি অবদান আছে। যারা যুদ্ধকে শুধুমাত্র ভারতীয় সাহায্য বলে খাঁটো করতে চায় তাদের আমি ঘৃনা করি। যারা প্রকৃত মুক্তযোদ্ধা কোটা নিয়ে লাফায় আর বীরাঙ্গনাদের অধিকারের কথা বলে না, তাদের ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না। কারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি গালি দিতে চাই না।

মুক্তিযুদ্ধ ছিল আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সংগ্রাম। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর অধিকার আদায়ের লড়াই। দেশের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগীতা ছাড়া এই বিজয় আসতো না। মুক্তিযোদ্ধা আর বীরাঙ্গনাদের সম্মান বলতে এখন শুধৃ আমরা "৩০ লক্ষ্য শহীদের রক্ত ও ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে..... " ছাড়া আর কিছুই বলি না। কারণ আজো আমরা এক হতে পারি না। পারি না লিঙ্গ বৈষম্য থেকে বের হয়ে আসতে; পারি না দুটি রাজনৈতিক দলের গন্ডী থেকে বের হয়ে আসতে; পারি না সবাইকে একচোখে দেখতে। আমাদের মধ্যে বরাবরই একতার অভাব। স্বাধীনতার পর শুধু একতার জন্যই স্বৈরাচারী এরশাদের পতন কিংবা ১/১১ এর পর গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তাই একতা ছাড়া সর্বজনীন সমৃদ্ধি আসবে না। গত ৪০ বছরে এই একতার অভাবটাই বার বার দেখা গেছে আমাদের মধ্যে।

আরেকটা কথা:
২৬ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বর আসলেই শুধু এই ব্যাপার নিয়ে কথা বলবো আর বাকিটা সময় চুপ- এই ধারায় আমি বিশ্বাসী নই। মাফ করবেন।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×