খন্দকার সাহেব তার বইতে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চ দেওয়া এতিহাসিক ভাষণ শেষ করেছেন জয় পাকিস্তান বলে! অবশ্য পরে এক বিবৃতিতে তিনি নাকি বলেছেন আসলে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান। এত বড় একটা মূদ্রণজনিত ভুল থেকে গেল বইতে আর কারও চোখে সেটা পড়লো না?!! তার নিজের চোখেও পড়লো না?!! তাও এই বইটি প্রকাশিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, যখন সরকার-দল বিরোধী প্রায় সব ভিন্নমতের বিরুদ্ধেই দলটি প্রায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে!! আমার ধারণা বিতর্ক তৈরির জন্যই এই তথ্য বিকৃতিটি ইচ্ছে করেই ঘটানো হয়েছে, এবং সেটা জনাব খন্দকার জানতেন না। খন্দকার সাহেবকে সামনে রেখে, তার কাঁধে বন্দুক রেখে অন্যরা কোনও উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছেন। আমারও সন্দেহ হয়, বইটি তিনি নিজে লিখেছেন কি না!
আর যদি তিনি লিখেই থাকেন এই বই, তাহলে প্রশ্ন আসে সর্বশেষ সুবিধাগুলো আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নিয়েওি কেন তিনি আওয়ামী লীগের সবচাইতে স্পর্শকাতর বিষয়ে এভাবে অাক্রমণ করে লিখবেন? উত্তরটা খুবই সহজ। এটা আমাদের আশপাশের মানুষগুলোর খুব সাধারণ একটি প্রবণতা। আমাদের অনেকেই কারও কাছ থেকে ১০০টি উপকার পেয়েও, যদি কোন কারণে একটি উপকার পেতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আগের সকল উপকার ভুলে যায়। ১০০ টি সহযোগিতা ভুলে একটি অপারগতাকে পুঁজি করে শত্রু হয়ে যেতে তার সময লাগেনা বেশি। জনাব খন্দকার আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। এবার মন্ত্রিত্ব না পাওয়াতে তিনি যারপরনাই বিরক্ত হয়েছেন। আওয়ামি লীগ বা শেখ হাসিনার আনুকূল্য ভুলে গিয়ে অপারগতাটাকেই বড় করে দেখেছেন। ফলে তার মনের মধ্যে প্রতিশোধ স্পৃহা জেগেছে, তিনি তাই দলটির সবচাইতে স্পর্শকাতর বিষয়টিতে আঘাত করতে চাইছেন। তারই ফল এই বই, এই বক্তব্য। তিনি বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমানসহ প্রায় সব সরকারের কাছ থেকেই সুযোগ-সুবিধা পেয়ে অভ্যস্ত, আমরা শুধু মওদুদ আহমদের কথাই বলি, এই ভদ্রলোকও কিন্তু প্রায় সব সরকারেরই কাছাকাছি থেকেছেন!! সুতরাং এরকম একজনের পক্ষেই গুরুর গরু মেরে ফেলা, বা মোহম্মদি বেগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া খুব সহজ!
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার একজন সহকর্মী ছিল। কাজ করতো বেশ ভাল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেল, প্রায় তিনমাস ছিল চিকিৎসাধীন। প্রধান অফিসের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই এই সময় আমি তার বেতন-ভাতা তার একাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও, তাকে বলেছি আপনি চিকিৎসা করুন, ছুটির বিষয় আমি দেখবো। সুস্থ হয়ে ফিরে এলে তার পছন্দমতো জায়গায় পোস্টিং দিয়েছি, সুপারিশ করে তার পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছি। মিটিংয়ে আমার করা এই উপকারের কথা করতে গিয়ে তিনি কয়েকবার হাউ মাও করে সবার সামনে কেঁদেছেন। হঠাৎ তিনি পদত্যাগ করলেন, জানা গেল যাওয়ার আগে লাখ খানেক টাকা নয় ছয় করেছেন তিনি। আমার সঙ্গে কথা না বলেই কর্মস্থল ত্যাগ করলেন। এই অন্যায়গুলো প্রমাণিত হওয়ায় তার চূড়ান্ত পাওনা পিএফ-গ্রাচুইটি অফিস আটকে দিল, নিয়ম অনুযায়ী তাই হওয়ার কথা। এই বার তিনি আমাকে ফোন দিলেন, অাবদার করলেন বরাবরের মতো তার পাশে দাঁড়াতে। অন্যায় আবদার মেটাতে অস্বীকৃতি জানালাম। এই সেদিন দেখলাম, ফেসবুকে প্রকাশ্যে তিনি আমাকে প্রতারক বলছেন! চুরি করার পরেও তার পাশে না দাঁড়ানোয় আমি হলাম প্রতারক! এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব।
জনাব খন্দকারও এর বাইরে যেতে পারেননি। একাত্তর ভিতর-বাহির তারই প্রমাণ!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।