হক কথা পড়ে সমগ্র শেষ করলাম। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের একটি চিত্র পাওয়ার জন্য আগ্রহীদের জন্য অবশ্য পাঠ্য। পাতার পর পাতা পড়েছি আর বঙ্গবন্ধুর জন্য কষ্ট লেগেছে, কী ভয়ংকর যন্ত্রণার মধ্যে যে তিনি ভীষণ অস্থিরমতি, বিশৃংখল, স্বার্থপর একটি জাতিকে শাসন করার চেষ্টা করেছেন ভাবলে গা শিউরে উঠতে বাধ্য। সুযোগ সন্ধানী সরকারি কর্মকর্তাতের সীমাহীন দুর্নীতি, কিছু মুক্তিযোদ্ধা আর অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার দুষ্কৃতি, রাজনৈতিক বাটপারদের অসহনীয় লুটপাট, সীমাহীন জাতীয় আর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল তার নিত্যসঙ্গী।
অবাক হয়ে খেয়াল করি, ১৯৭২ সালে হক কথার অনেক প্রবন্ধ, অভিমত, আশংকা, এই ২০১৭ সালে এসেও হবহু প্রসঙ্গিক। কোনও লেখক যদি এখন কোথাও ঐ লেখার কিছু অংশ হুবহু তুলে দেন, মনে হবে এই সময় নিয়েই লেখা হয়েছে। এখনও চলছে সুযোগ সন্ধানী সরকারি পদবী ধারীদের সীমাহীন দুর্নীতি, কিছু মুক্তিযোদ্ধা আর অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার দুষ্কৃতি, রাজনৈতিক বাটপারদের অসহনীয় লুটপাট, সীমাহীন জাতীয় আর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র!
বাংলাদেশের সংবাদপত্রে ভয়ংকর মিথ্যাচারেরও এক জ্বলন্ত দলিল এই হক কথা! দেশে কেন বঙ্গবন্ধু সব পত্রিকা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছিলেন হক কথার প্রতিটি পাতায় তার জবাব খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি বিধ্বস্ত দেশকে গড়ার কাজে কোটি কোটি পর্বত প্রমাণ সমস্যা ঠেলে বঙ্গবন্ধু যখন সামনে এগুতে চাইছেন, তখন মওলানা ভাসানী নেমেছেন চরম ভারত বিরোধী প্রোপাগান্ডায়! কিছু প্রোপাগান্ডা তো একেবারেই ঘৃণ্য মিথ্যাচার! তাজউদ্দিন আহমেদ নাকি ভারতের সঙ্গে ৭টি গোপন চুক্তি করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ইচ্ছা করলে বাংলাদেশের ভিতরে তাদের নেতৃত্বে একটি সামরিক বাহিনী গঠন করবে! রক্ষী বাহিনীর দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত করেই বলা হয়েছে, এটি আসলে ভারতেরই তৈরি। এসব কথা কখন বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বরে! সরকার, মানুষ তখনও ভাল করেই বুঝতেই পারেনি যে দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে! একটা সময় মানুষ এসব প্রচারণা খুব বিশ্বাস করতো, কারন যাচাই করে দেখার সুজগ ছিল খুবি সীমিত। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে ঐ সব প্রচারণা কী ভয়ংকর অপপ্রচার ছিল। মওলানা নিজেও শিকার হয়েছিলেন এসব অপপ্রচারণার। ' রক্ষী বাহিনীর সত্য মিথ্যা' বই থেকে জানা যাচ্ছে, একবার মওলানা রক্ষী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে একে একে কাছে এনে জিজ্ঞেস করছিলেন, তোমার বাড়ি কোথায়? সবাই দেশের বিভিন্ন জেলার নাম বলছিলেন, কয়েকজন ছিলেন মওলানার নিজ আশ্রয়স্থল টাঙ্গাইলের। তখন মওলানা পিছনে দাঁড়ানো তার দলের এক নেতাকে রাগত স্বরে বললেন, কিরে সবাই তো দেখি বাংলাদেশের, তোরা না বলেছিলি সব ভারতের?!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



