somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙ্গালা রুজিমা, ‘মাদ্রাজের গ্রামীণ চেক’ এবং একটি পারিবারিক উদ্যোগ

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৯১ সালের মার্চ মাস। অবশেষে বুয়েটে পড়ার দিন শেষ হতে যাচ্ছে। মনে আনন্দ। আবার একটু মনও খারাপ। কারণ চট্টগ্রামে ভাই-এর বিয়েতে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। শেষদিন পরীক্ষা শেষে দলবেঁধে খেতে যাওয়া কাটাবনের চাইনিজে। সেখান থেকে বনানী আর্মি কোয়ার্টারে বোনের বাসায় ফোন। (তখন মোবাইল নাই!!!) দুলাভাই বললেন- ফোন করাতে ভাল হল। এক্ষুনি বাসায় চলে আয়। হাসান ভাই ভাবীকে নিয়ে ঢাকায় আসছে। প্লেন মাত্র ঘন্টা দুয়েক লেট আছে। তুমিও এয়ারপোর্ট যেতে পারবা।

খেয়ে দেয়ে দৌড়ালাম। মামুন একটা বড় ফুলের তোড়াও যোগাড় করেছে। সেই প্রথম আমরা (মানে যারা বিয়েতে যেতে পারিনি) আইভি ভাবীকে দেখলাম। হুমায়ুন আহমেদের ভাষায় – অসম্ভব রূপবতী কইন্যা। আমরা তার সব দেবর একসঙ্গে তার প্রেমে পড়ে গেলাম!
কিছুদিনের মধ্যে টের পাওয়া গেল কইন্যা কেবল রুপবতী নন, গুনবতীও। শ্বশুর-শাশুড়ী থেকে শুরু করে পুরো শ্বশুড় গোষ্ঠীর মন জয় করে ফেলেছে, রান্নার চমৎকার হাত, ছবি আঁকে, কবিতা লেখে (কবিতার বইও বের হয়েছে) এবং আরো কত কী। ছুটিতে বাড়িতে গেলে দেখতাম অন্য রকম জামা কাপড়, শাড়ি পড়েন। কী বিষয়- না, ভাবীর নিজের ডিজাইন।
আমরা, দেবর-ননদরা একটা কাজ পেয়ে গেলাম। ভাবী তোমার ডিজাইনে আমাকে একটা পানজাবী বানাই দাও, আমার জন্য একটা কুর্তা!!!
সঙ্গে আমার ঘ্যানঘ্যানানি – তোমার তো সময় আছে। একটা প্রতিষ্ঠান গড়ো না।
তো, শেষ পর্যন্ত রাজী হলেন ১৯৯৫ সালে, ভাবী তার ডিজাইনের পোষাকে প্রদর্শনী করবেন তবে শর্ত হল যে আমাদেরও এর সঙ্গে থাকতে হবে। ঠিক হল আমি আর ভাবী হবো বিনিয়োগকারী আর বাকীরা কামলা!!! আর ভাবী ঠিক করলেন তিনি কাজ করবেন গ্রামীণ চেক নিয়ে।
ইবনে বতুতা বাংলার যে সকল বিষয়ের কথা বলেছেন তার মধ্যে বঙ্গ দেশীয় কাপড় বা বাঙ্গলা রুজিমার কথা আছে। মসলিনেরর কথা তো জানি। কিন্তু, টেক্সটাইলগুলোর কল্যানে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছিল। গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগে তখন আবার চেক কাপড়ের ঐতিহ্য ফেরানোর লড়াই শুরু হয়েছে। সে সময় বিশ্বজুড়ে মাদ্রাজী চেকের প্রবল প্রতাপ।
তো, ভাবীর দেওয়া ইনস্ট্রাকশন নিয়ে মিরপুর গ্রামীণের কেন্দ্র থেকে আমি কাপড় কিনে চট্টগ্রাম পাঠাই। সেখানে তৈরি হয় কুর্তা, জামা, পানজাবি এবং শাড়ি। মোটামুটি পরিমাণ হওয়ার পর ঠিক হল আমরা প্রদর্শণী করবো অঁলিয়স ফ্রসেসে। রমজান মাসে তিনদিনের জন্য সেটি নেওয়া হল। গ্রামীণ ব্যাংকের ডিএমডি খালেদ শামস রাজি হলেন উদ্বোধন করতে।
আগের রাতে সব পোষাকে ট্যাগ লাগানো, ইস্ত্রি করা থেকে শুরু করে পুরো প্রদর্শণীস্থল সাজানোর কজটা করা হল। কর্মীদের কেও মেজর, কেও ব্যাংকার, কেও স্কুল শিক্ষক, কেও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। আর সাজানোর নেতৃত্ব দিচ্ছে বড়ভাই খালিদ আহসান।
ট্যাগ লাগানোর সময় কিন্তু সকলে ঠিক করে ফেলেছে প্রদর্শণী শেষে কে কোনটা নেবে (কিছুই তো আর বেঁচা হবে না!)।

যাহোক, ডিজাইনার আইভী হাসানের প্রথম প্রদর্শনী। এবং আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে প্রথম দিনেই সকল জামাকাপড় বিক্রি হয়ে গেল। সাজানো কাপড়গুলোতে “SOLD” লিখে আমরা পরের দুইদিন কাটালাম। (এটি আমার নিজের প্রথম ব্যবসা। লাভের অংকটা লিখলাম না কারণ প্রদর্শণীর ব্রসিউর থেকে সাজানো-টাজানোর ব্যাপারগুলো খালিদ আহসানের ফার্ম থেকে হয়েছে। সেই বিল আমরা দেই নাইক্কা)।
সেই থেকে আইভী হাসান প্রতিবছর একটি করে প্রদর্শণী করেন। (বিনিয়োগ পার্টনারের আর দরকার হয়নি)। যখন হয়, তখন তার দেবর-ননদেরা হাজির হয়। একবার ঢাকাতেও হল। ড. ইউনুস আসলেন সেটি উদ্বোধন করতে। এর মধ্যে বুলগেরিয়ার রানীর জন্য ছবি দেখে পোষাক তৈরি করে ফেলেছে আইভী হাসান। রানী অবাক কারণ ছবি দেখে বানানো জামা ঠিক তার মাপ-মত হয়েছে!
প্রথমে বছরে একটা করে, তারপর দুটো করতে করতে একসময় শো-রুম এবং অন্যান্য জায়গায় দেওয়া।

এখন প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জুড়ে আইভী হাসানের ডল’স হাউসের শো-রুম ও কারখানা। কারখানার কর্মীরা ছাড়াও বাইরের কর্মীও আছে। আমেরিকা আর অস্ট্রেলিয়াতে পোষাক যাচ্ছে নিয়মিত।
তবে, ঐ যে দেশী কাপড় দিয়ে শুরু করেছিলেন, সেখান থেকে আর সরেননি। দেশী ম্যাটেরিয়ালেই থাকলেন। করছেন থিম ভিত্তিক প্রদর্শণী।
আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের সার্সন রোডের হাটখোলায় হবে তার নতুন পোষাকের প্রদর্শণী। ১১-১৩ তারিখ প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকবে।
প্রদর্শণীর কিছু পোষাকের একটা এলবামের লিংক দিলাম।
আর ডলস হাউসের পেজের লিংক।

প্রদর্শনীতে সবার নিমন্ত্রণ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×