somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রাভেল পাশ কী, কেন ও কাদের দেওয়া হয়; মেয়াদ কতদিন?

২২ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রাভেল পাশ (Travel Pass) হলো একটি জরুরি এবং সাময়িক ভ্রমণ দলিল (Emergency Travel Document), যা মূলত পাসপোর্ট না থাকা বা পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলা কোনো নাগরিককে তার নিজ দেশে ফিরে আসার জন্য ইস্যু করা হয়। এটি পূর্ণাঙ্গ কোনো পাসপোর্ট নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একমুখী (One-way) ভ্রমণের অনুমতিপত্র। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে ট্রাভেল পাশ দেওয়া হয় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

একনজরে ট্রাভেল পাশ বা ট্রাভেল পারমিট:
সংজ্ঞা: এটি একটি জরুরি ও সাময়িক ভ্রমণ দলিল যা বিশেষ পরিস্থিতিতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে (সাধারণত নিজ দেশে) ভ্রমণের অনুমতি দেয়।
ইস্যুকারী: নিজ দেশের সরকার, বিদেশের দূতাবাস (Embassy) বা হাই কমিশন এটি ইস্যু করে।
প্রধান উদ্দেশ্য: যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই, হারিয়ে গেছে বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা।
ব্যবহারের ধরন: এটি একটি একমুখী (One-way) দলিল। এটি ব্যবহার করে শুধু দেশে ফেরা যায়, পুনরায় বিদেশ যাওয়া বা অন্য দেশে ভ্রমণ করা যায় না।
বৈধতার মেয়াদ: পাসপোর্টের মতো দীর্ঘ নয়; সাধারণত ৩ মাস বা তার কম সময়ের জন্য বৈধ থাকে।
ঐতিহাসিক উদাহরণ: 'ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ স্পেশাল পাসপোর্ট' (যা ২০১৪ সাল থেকে বন্ধ)।
কাদের জন্য: অবৈধ প্রবাসী, পাসপোর্ট হারানো ব্যক্তি, শরণার্থী, কারাবন্দি বা নাগরিকত্বহীন ব্যক্তিদের জন্য।
জমা দেওয়ার নিয়ম: নিজ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে এটি জমা দিতে হয়।
পাসপোর্টের বিকল্প: এটি স্থায়ী পাসপোর্টের বিকল্প নয়, বরং বিশেষ প্রয়োজনের একটি অস্থায়ী সমাধান।
ট্রাভেল পাশ কী?
সহজ কথায়, ট্রাভেল পাশ হলো পাসপোর্টের একটি বিকল্প ও অস্থায়ী সংস্করণ। এটি কোনো স্থায়ী পরিচয়পত্র নয়, বরং জরুরি প্রয়োজনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে (সাধারণত নিজ দেশে) যাওয়ার অনুমতিপত্র। বিদেশে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট যদি নষ্ট হয়, হারিয়ে যায় বা মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং নতুন পাসপোর্ট তৈরির সময় না থাকে, তখন সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস (Embassy) তাকে একটি ট্রাভেল পাশ বা জরুরি সার্টিফিকেট ইস্যু করে। এটি ব্যবহার করে ওই ব্যক্তি আইনিভাবে তার নিজ দেশে ফিরতে পারেন।
কোন পরিস্থিতিতে ট্রাভেল পাশ দেওয়া হয়?
ট্রাভেল পাশ সবসময় দেওয়া হয় না; এটি বিশেষ কিছু পরিস্থিতির জন্য বরাদ্দ:

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে: বিদেশে থাকাকালীন পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে এবং দ্রুত দেশে ফেরার জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে।

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে: পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিন্তু নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই।

অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো: যদি কেউ অবৈধভাবে কোনো দেশে প্রবেশ করে বা ভিসা ছাড়া অবস্থান করে এবং তাকে নিজ দেশে ডিপোর্ট (Deport) বা ফেরত পাঠানো হয়।

কারাবন্দিদের প্রত্যাবাসন: বিদেশের জেলে সাজা শেষ হওয়ার পর কোনো নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সময় যদি তার পাসপোর্ট না থাকে।

জরুরি পরিস্থিতি: পরিবারের কেউ মারা যাওয়া বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে দ্রুত দেশে ফিরতে হবে কিন্তু পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা আছে।

আউট পাস হিসেবে: আউট পাস বা সাধারণ ক্ষমার আওতায় যারা অবৈধ থেকে বৈধ হতে পারে না, তাদের নিজ দেশে পাঠানোর সময় এটি ব্যবহার করা হয়।
ট্রাভেল পাশের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
এটি সাধারণত একমুখী (One-way) হয়; অর্থাৎ আপনি এটি দিয়ে শুধু নিজ দেশে ফিরতে পারবেন, পুনরায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এর মেয়াদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত থাকে (সাধারণত ১৫ দিন থেকে ৩ মাস)।
এটি ব্যবহার করে নিজ দেশে পৌঁছানোর পর পাসটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হয়।
ট্রাভেল পাশ আবেদনের জন্য কী কী লাগে?
সাধারণত নিজ দেশের দূতাবাসে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে নিচের কাগজগুলো জমা দিতে হয়:

হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের ফটোকপি বা নম্বর।
নিজ দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ (যেমন: এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন)।
ভ্যালিড ভিসা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ (যদি থাকে)।
পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
নির্ধারিত ফি (কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও দেওয়া হয়)।

কেন পাসপোর্ট থাকতেও ট্রাভেল পাশ লাগে?
ধরুন, আপনি বর্তমানে মালয়েশিয়া বা সৌদি আরবে আছেন। আপনার পাসপোর্টটি হারিয়ে গেছে বা চুরি হয়েছে, অথবা আপনি অবৈধ হয়ে পড়েছেন। এখন আপনি বাংলাদেশে ফিরতে চান কিন্তু আপনার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আপনাকে একটি ট্রাভেল পাশ বা আউট পাস দেবে। এটি ব্যবহার করে আপনি বিমানে চড়তে পারবেন এবং বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন।

বাংলাদেশে ট্রাভেল পাশ ইস্যুর ইতিহাস ও বর্তমান নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি বর্তমানে প্রবাসীদের জন্য এটি একটি অতি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট।

ঐতিহাসিক উদাহরণ: ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ স্পেশাল পাসপোর্ট
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে একটি বিশেষ ধরনের ট্রাভেল পাশ চালু ছিল, যা 'ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ স্পেশাল পাসপোর্ট' নামে পরিচিত ছিল। এটি মূলত বাংলাদেশি নাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের জন্য ইস্যু করা হতো।

সীমাবদ্ধতা: এই পাসপোর্টটি শুধুমাত্র ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতের জন্য বৈধ ছিল।
বন্ধ হওয়ার কারণ: ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করলে ২০১৪ সাল থেকে এই বিশেষ পাসপোর্ট প্রথাটি বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমান প্রেক্ষাপট: ট্রাভেল পারমিট (TP)
বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কনস্যুলেটগুলো 'ট্রাভেল পারমিট (TP)' ইস্যু করে। এটি মূলত নিচের পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়:

১. যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা হারিয়ে গেছে।

২. যাদের পাসপোর্ট নষ্ট হয়ে গেছে বা মেয়াদে জটিলতা রয়েছে।

৩. জরুরি প্রয়োজনে যাদের দ্রুত দেশে ফেরা প্রয়োজন।

ট্রাভেল পারমিটের মূল বৈশিষ্ট্য:
একমুখী যাত্রা (One-way): এটি শুধুমাত্র বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরার জন্য ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়।

মেয়াদ: এই পারমিটটি ইস্যু করার পর থেকে সাধারণত তিন মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে।

ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা: এটি পাসপোর্টের বিকল্প নয়। এটি দিয়ে অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করা সম্ভব নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ দুপুর ১২:৩৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×