somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বিজু চৌধুরী
সহজ সরল সোজা সাদা ভাষায় জীবনের কথা লিখতে পছন্দ করি। কাদা মাটিতে বেড়ে ওঠা একজন নিতান্তই সাধারন মানুষ। মনের কথাগুলি বরাবরই মুখে এসে বের হতে চায় না, কলমে আসতে চায়।

প্রথম প্রেম

০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৬:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শতবার প্রেমে পড়া মানুষও নাকি -
- মাঝ রাতে কাঁদে শুধুই প্রথম প্রেমের জন্য, শুধু প্রেমের জন্য নয়।
আজকের জীবিত সব মানুষ, কেউই থাকবে না কোন একদিন। সেদিন সেলফোন হয়তো ছোট হয়ে কানের লতিতে রিং হয়ে ঝুলবে। কম্পিউটারের ভরাট গলায় অসাধারন আবেগময় প্রেমের কবিতা, কোন অস্থির মানুষের চোখে ঘুম নিয়ে আসবে। কিন্তু কিছুই প্রেয়সীর মুখে - "তুমি কেমন আছ?" কথাটির মত বুকের ভেতর উথাল পাথাল ভালবাসা আনবে না। সুরঞ্জনার একশ আটটি নীল পদ্মের রং কম্পিউটারে কখনই আসবে না। প্রচন্ড ব্যাথায় মস্তিস্কের ভিতরের একটি একটি করে স্নায়ুর তার যন্ত্রনায় ছিঁড়তে থাকবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন প্যারাসিটামল প্লাসে কোন কাজ হবে না। তখন প্রিয়তমার লকলকে পাঁচটে আঙ্গুল চুলে এলোমেলো চলে, সব যন্ত্রনার অবসান ঘটাবে। অংক বিজ্ঞান না জানা ঐ আঙ্গুল পাঁচটি - নেগেটিভ, পজিটিভ, সিরিয়াল পোর্ট, সব মিলিয়ে একে একে ছেঁড়া তার জুড়িয়ে দিবে সবই। রোবট তাকিয়ে দেখবে - কি করে সম্ভব?
- প্রযুক্তি ইতিহাসের পাতায় থাকবে অক্ষর হয়ে। প্রেম রয়ে যাবে মানুষের মনের পাতায়, যতদিন মানুষের পৃথিবীতে মানুষ থাকবে।

এসির বাতাস আর সময়মত খেতে না পারলে রাগে আগুন হয়ে যাওয়া ছেলেটি, সেদিনও প্রখর রৌদ্রে হাসি মুখে না খেয়ে অপেক্ষা করবে প্রিয়তমার জন্য। মেয়েটি আসবে, হয়তো আসবে না। হয়তোবা এসে তার রৌদ্রে ঘর্মাক্ত মুখটি হাতের আঙ্গুলের স্পর্শে মুছে দিবে। তার ঐ হাতের এক মুহুর্তের স্পর্শের জন্য যুগে যুগে ছেলেরা সূর্যের তেজকে পকেটে পুরে ঘুরবে। মেয়েরা কারো ঘর্মাক্ত মুখ মুছতে গিয়ে নিজের চোখের জল মুছবে।
কখনও হয়তো মেয়েটি আসবে না। হয়তো কখনও একটু বিলক্ষনে ছেলেটির প্রস্থান ঘটবে ভুল করে। এরপর আর দেখা হবে না, কথা হবে না হয়তো। কিন্তু ভুলে কি যেতে পারবে? মনের ভুলে ভুল করা যায়, কিন্তু সেই মনকে ভুলে ভোলা যায় না রে পাগল।
প্রচন্ড ঝড়ের রাতে বাতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজে ঠিকই মনে করিয়ে দেবে।
পুরনো কাগজ ঘাটতে কোন কাগজের পেছনের হিজিবিজি পেন্সিলের দাগে মনে পড়বে।
কোন এক বিষন্ন দুপুরে এক কিশোরীর আইসক্রিমে কামড় দিতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে মনে করিয়ে দেবে।
গাছের ছায়ায় দাড়িয়ে থাকা উদাসী কিশোরকে দেখে মনে হবে, সেদিন কি পরে প্রেয়সী এসেছিল? হলুদ নাকি লাল রং ছিল শাড়ির? বাজিটি অমিমাংসিত রয়ে গেল। মনটা হুহু করে উঠবে বাজির ফল জানতে নয়, প্রেয়সীকে দেখতে।

রক্ষা নেই রে! এ যে প্রথম প্রেম। শার্টের বোতাম ছিঁড়ে মনে করিয়ে দিবে।
মনে পড়বে পায়ের একটি মোজা খুঁজে না পেয়ে।
মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে বেসিনে টপ টপ করে পড়া পানির শব্দে মনে হবে।
পানি খেতে গিয়ে বিষম খেয়ে মনে হবে।
প্লেটে তরকারি নিতে গিয়ে কাপড়ে ঝোল ফেলে মনে হবে।
চলতি পথে রিক্সার চেইন পড়ে গিয়ে মনে হবে।
মনে হবেই। মনে পড়তেই থাকবে প্রতিনিয়ত জীবনের প্রথম প্রেম।
বাসস্টপেজে হকারের ডাকে, কারও মোবাইলে আসা রিংটোনে মনে হবে, চলতি পথে স্যান্ডেল ছিঁড়ে মনে হবে।
নেতিয়ে পড়া গাছে মাথা উচু করে দাড়ানোর চেষ্টা করা ফুল দেখে মনে হবে।
বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যাবেলার একাকীত্বে, বৃষ্টির ফোঁটা অকারণে চোখে জলের ফোঁটা হয়ে মনে করিয়ে দেবে।
ভোর বেলার অলসতা মনে করিয়ে দেবে। আচ্ছা, ও কি এখনও সকালে উঠতে অলসতা করে? মনটা সব ছেড়ে ছুটে যাবে তার কাছে। অভিমানে চোখের জলকে প্রিয়তমার ভালবাসা মনে হবে।

ভুলবার উপায় নেই। ভুলতে পারবি নারে পাগল! ভোলার চেষ্টা করলে বেশী করেই যে মনে করবি। রাতে ভুলবি, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবি - চোখের নোনা জলে বালিশ ভিজে আছে। বালিশের সেই নোনা জলের দাগটি -
- বালিশটির ক্যানভাসে কেমন করে জানি প্রিয়তমার মুখ তৈরী করেছে। এই যে, ঠিক এই জায়গাতেই তো গালের তিলটা ছিল! হ্যাঁ, এই তিল নিয়েই তো একদিন....
নেই! কোন লাভ নেই - বাঁচতে পারবি না রে পাগল।

যেদিন ধীরে ধীরে চোখটা ঝাপসা দেখতে দেখতে অন্ধকার হতে থাকবে, প্রিয়জনের মুখগুলো শেষবারের মত ভেসে উঠবে, সেইদিনও দেখবি পাগল - হাতে গোনা কয়েকটি প্রিয়জনের মুখের সাথে ভেসে আসবে সেই প্রথম প্রেমের মুখটি -
- হয়তো যুগ যুগ মনে না এসেও।
"প্রথম প্রেম ভুলতে জীবনে আসে না রে পাগল, সারাটি জীবন শুধুই মনে করিয়ে দিতেই আসে।"

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৬:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×