somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোন ছাগলে কয় ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড’

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, কেন? কেউ জানে না। এটা একটা কথার কথা। শিক্ষকেরা স্কুল-কলেজে পড়াইবার সুযোগে নিজেদের দাম বাড়াইবার জন্য এ কথা বলেন। আমাদের এ সব কথায় কান না দেয়াই ভালো। সামরিক কর্তা হইতে কাউকে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানায় যাইতে হয়? হয় না। বিসিএস পরীক্ষার জন্য বিএ এমএ লাগে বটে কিন্তু সেটা আবেদন ফর্ম পূরন করা পর্যন্তই। আর বহুজাতিকের চাকুরির জন্য বিদেশী সংশাপত্রই অধিক মূল্যবান। মধ্যপ্রাচ্য-মালয়েশিয়ার অর্থবান চাকুরির জন্য বকলম হইলেও চলে। শিক্ষা ছাড়াই রেমিটেন্স ট্রিলিয়ন ডলার। জিডিপি ৬% এর উপর এবং মধ্যম আয়ের দেশ। সামরিক কর্তারা জাতীসংঘের ডলার আনে। সচিবেরা দেশ চালায় বলিয়াই না এটা সম্ভব হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর নাতনি এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য। তো বঙ্গবন্ধুর জনগনও ব্রিটিশ নাগরিক হউক। দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই ব্রিটিশ শিক্ষা বোর্ডের অধিনে নেয়াই উন্নয়নের কাজ। এ ব্যাপারে সুশীলদেরও সায় আছে। ক’দিন আগে হাইকোর্টে তাহারা ব্রিটিশ স্কুলে পড়িবার বিনিময়ে ভ্যাট দিবেন না বলিয়া রিট করিয়াছিলেন। ইংরেজীতে রায় লিখিবার সুবিদার্থে আদালতও সে পক্ষেই রায় দিয়াছেন। সরকারতো আদালতের রায় মানিতে বাধ্য না কি!



ফেসবুকে একজন লিখিয়াছেন- ‘বিচারাধীন একটি মামলায় দিনের পর দিন আদালতে হাজির না হওয়া বেগম খালেদা জিয়ার একটি প্রবণতা।
যিনি একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চান, যিনি এখনো বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান- তিনি প্রচলিত আইন মানবেন না, আদালতের প্রতি সম্মান দেখাবেন না- এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য না।’

জগতের কোন সামরিক শাষকের স্ত্রী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন? আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইবার শিক্ষা কি তিনি পাইয়াছিলেন? দেশের কোন স্কুলে ইহা শিখানো হয়? পাকিস্তানী স্কুলে পাকিস্তানী আইন মানিবার শিক্ষা দেয়া হইলেও হইতে পারে। তিনি সে শিক্ষা মানিয়াই চলিতেছেন। বাংলাদেশী শিক্ষা কই? বিনিমাগনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই-এর চেহারা দেখীয়াছেন কি?

আর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছাড়াই ফাস্ট লেডী, দেশনেত্রী, প্রধানমন্ত্রী হওয়া গেলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার দরকারই বা কি?



আমরা শিক্ষা বা পড়িতে চাই না। তাই নিজেরা ‘বেদ’ ছোয়া পাপ বলিয়া বামুন ঠাকুরকে পড়িবার অধিকার প্রদান করিয়া কীর্তনে মাতিয়াছিলাম। রাজার পুত্র বুদ্ধপ্রাপ্ত সিদ্ধার্থ বলিয়াছিলেন যাহারা ভিক্ষু তাহারাই বিদ্যা চর্চা করিবে তাই আমরা ভিক্ষা করিবার নিমিত্তে বগলে পুঁথি লইয়া ঘুরিতে লাগিলাম। আরব হইতে আগত রাজা ফারসী ভাষায় বাতচিত করেন তাই ফারসী শিখিতে মাদ্রাসায় গমন। কীর্তনের শখ আমরা মাজারে কাওয়ালী শুনিয়া মিটাইলাম। রাসুলে সুন্নত পালন করিয়া সোয়াব হাসিল করিতে নিরক্ষর মুহম্মদকে রাসুল মানিলাম। ব্রিটিশরা আসিয়া বাইবেল পড়িতে কহিলো, আমরা তাই ইংরেজী শিখি নাই। আমরা পড়িতে চাই না। কেরী বাবু আমাদের বাইবেল পড়াইবেন বলিয়া পন করিলেন, বাংলায় ছাপাখানা বানাইলেন কিন্তু আমরা তো পড়িবো না। হ্যা, আমরা দেখিলাম ইংরেজী শিখিলে ‘উন্নয়ন’ হয় তাই এইবার ইংরেজী শিখিতে লাগিলাম। (বাংলা শিখিয়া কি হইবে?) ইংরেজ দারোগা বা ক্যাপ্টেন-এর মর্যাদাই আলাদা, তাহারা বড়বাবু। রাজার ভাষা শিখিলে অর্থলাভ হয়। বিনোদন লাভ হয়। সুখ লাভ হয়। জানেন তো বাংলা ভাষায় ধন ও সোনা কাহাকে বলে।আমরা আমাদের ধন বা সোনা বাড়াইতে বা বড় করিতে চাই।হুজুেরেরা রাত জাগিয়া ওয়াজে ওয়াজে তা্হাই নসিহত করিতেছেন, তাহারা আরো বলিতেছেন-যতক্ষন তা না হইতেছে ততক্ষন স্ত্রী দিগকে হিজাব ও পর্দায় রাখুন। আমাদের মঘা ইউনানীর চাহিদা ভারতবর্ষ জুড়ে। মাঝে কিছু উর্দুও শিখিয়া ছিলাম। পাকিরাতো আর ইংরেজ নয়। আর নোবেল ইউনুস আমাদের বলিয়াছিলেন ফোন হাতে থাকিলে পড়িবার কষ্ট করিতে হইবে না, হু আমাদের জন্যই আমেরিকা-চীন-কোরিয়া ডুয়েল সীম ফোন সেট বানায়। এখন আমরা ফুল ডিজিটাল। বাব্বা, মনে রাখিবেন জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস আর বন্দুকের নলেই বিপ্লব। ১৯৭১-এর বন্দুকের নল ছাড়া কি আপনারা স্বাধীন হইতেন?



জনগনের চাহিদার প্রেক্ষিতে ও বৈশ্বি উন্নয়নের মেট্রোরেলের স্বার্থে আমরা খুব শীঘ্রই দেশের সকল বিদ্যালয়কে পুনরায় ব্রিটিশ শিক্ষা বোর্ডের অধীন লইয়া আসিবো। তাহারা সকলেই এ লেভেল ও লেভেল করিয়া অক্সফোর্ডডে পড়িতে যাইবে। যখন অক্সফোর্ডেই পড়িবার সুযোগ করিয়া দেওয়া হইতেছে তখন নকল অক্সফোর্ড বা প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের জন্য কান্নাকাটি কেন? ঢাবির শিক্ষকেরা কি অক্সফোর্ডের শিক্ষক? তাহারা নকল অক্সফোর্ড-এর শিক্ষক! মিছিল করিতে তাহাদের মাঝে মাঝে দরকার পড়ে, তাহাদের কে শিক্ষক জ্ঞান করে? তাহারা যত শিক্ষক তারচেয়ে বেশী দলীয় নেতা (অথবা উপদেষ্টা)। আর গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নেতাদের মর্যাদা নির্ধারিত হয় নির্বাচনে। শিক্ষক মর্যাদা আবার মর্যাদা কি? নেহায়েত চক্ষু লজ্জার বিষয় তাই কিছু বেতন-ভাতার ডিজিট বাড়ানো হইয়াছে, নচেৎ... কি দরকার। যখন এ লেভেল ও লেভেল করিয়া সকলে অক্সফোর্ড-এ পড়িতে যাইবে... ব্রিটিশ এমপি হইবে, রওশন আরা কি আমাদের পথ দেখায় নাই... এখন সুযোগ আসিয়াছে ওবামা হইবার... ইহাই উন্নয়ন, ইহাই বিশ্বকে নেতৃত্ব প্রদান..

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ পুড়বে আর কেউ পোড়াবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

অনেকদিন নিশ্চুপ আছি কিছুদিনের অপেক্ষায়;
কেউ কেউ বলে কিছুদিন নাকি হারিয়ে গেছে,
অনেকদিনের গর্ভে তাই মেলাতে সরল গণিত।
কিছুদিনের অপেক্ষায় অপেক্ষায়-
ছেটে দিয়েছি কথামালার ডালপালা।
বসে বসে মেলাই কাণ্ডহীন বৃক্ষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Good governance starts with respecting public money....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২১ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



Good governance starts with respecting public money....

গত দুই দশক রাষ্ট্রীয় সফর মানেই ছিল বিশাল বহর, শত শত সঙ্গী, অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক আর জনগণের টাকায় এক শ্রেণির মানুষের বিদেশ ভ্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×