
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এখন সবাই কিছু না কিছু লিখতে পারে। বলা যেতে পারে এটা সময়ের বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ট্যাটাসে নিজের সম্পর্কে দুটো কথাও লিখতে না পারাটা এখন নিতান্ত লজ্জাজনক! আর দু’চার লাইন কবিতা, দুটো ভালো লাগার কথা, ছবি দিয়ে ক’টা সুন্দর কথা লিখে দেয়া।
এগুলো নিশ্চয়ই একসময় লেখার জগতে একটা বিপ্লবের সৃষ্টি করবে। সবাই মিলে লিখে যাবে আর তার কোনো প্রভাব সমাজে পড়বে না তা হতে পারে না...প্রভাব পড়বে এবং পড়ছে...
ডায়েরির কোণে দুটো ভালোলাগার কথা লিখে রাখা বা নিয়মিত ডায়েরি লেখার প্রভাব হয়তো পড়তে পারে...সবাই আর যাই হোক ডায়েরি লিখে আনা ফ্রাঙ্ক হবে না...
তবে লিখে চলছে সবাই আড়চোখ কিংবা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এ হলো সুলক্ষণ...
এর মধ্যে লেখকের সাথে কোনো বিরোধ নেই। আমার গায়ে পড়ে বিরোধ লাগাতে ইচ্ছে করছে ওই সকল পরামর্শদাতাদের জন্য যারা ‘জাতির পরামর্শদাতার দায়িত্ব’ পালন করছেন...হাস্যকর হলেও সত্য সেই মানুষগুলোর ভেতরটা লেখায় প্রকাশিত হয়...ভাষাই বলে দেয় মানুষের প্রকৃতি...
তাই এসব অতিকথকদের পরামর্শ এড়িয়ে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘লেখকের কথা’ বইটা পড়ছি...একবার পড়ে শেষও করেছি...আসল পরামর্শস্থল এগুলোই...এঁরা লিখে পাঠোকোত্তীর্ণ হয়ে নিজেদের কথা লিখেছেন আর ওরা কেবল পরামর্শক সেজেছেন...বাস্তবে লেখকরা কতটুকু পড়েছেন তাও জানুন...হ্যাঁ যদি কোন লেখক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পিছিয়ে পড়াও হয়ে থাকেন তারপরও সেই লেখক ব্যক্তিগত জীবনে কয়েকবার স্নাতোকোত্তর করার সমপরিমাণ কিংবা তারও বেশি পড়েছেন...
সেই গুণীদের তৎকালীন পারস্পরিক প্রশ্ন ছিলো এমন- ‘কেমন আছেন? এখন কি পড়ছেন? আর কি লিখছেন?’
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




