
পাখি নই।
পাখির মত লাগিয়ে ডানা
উড়তে পারিনা।পাখি হ'তেও আমি চাই না!
যদি উড়ি,
এক সময় নামতেই তো হয় মাটিতে।
মাটিতেই যে ঘর বাড়ি!
মেঘ নই।
মেঘ হ'তে-ও চাই না!
মেঘের ঠিকানা যে আকাশ,
সে আকাশ আমার আশ্রয় না।
তাই আকাশকে গন্তব্য করে-
পাখি হয়ে উড়ি না
ঘুড়ি হয়েও ঘুরি না।
ঘুড়ি নই!
ঘুড়ি কাগজের।
কৃত্রিম, মানুষের তৈরী।
কাটাকাটি খেলায় ভোঁ কেটে ঘুড়ি-
তাই আহত হয় না;
যা আমি হই।
রক্তাক্ত, মর্মাহত যাতনায়
বোধ করি ব্যথা ও কষ্টের স্তর,
তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে অনুভূত হয় অনাদর-
উপেক্ষা, অবহেলার স্বর।
তবুও আমি জড় বেহালা নই।
তার সানাই, সারেঙ্গি বা সেতার-ও নই,
তোমার ঠোঁটের চুম্বণ-স্পর্শ পাওয়া
প্রিয় বাঁশরী-ও নই সুর-শিল্পী!
আমি মানবী,
নিতান্তই সাধারণ;
রক্তে মাংসে গড়া অনুভব-
অনুভূতিপ্রবণ,
যার চোখ দু'টো টল-মল
জলে উপচানো।
কিন্তু তাই বলে, আমি
নদী-ও নই!
বয়ে চলতে পারিনা; চাইলেও
পথ পেলেও!
আমাকে হাঁটতে হয়,
দু'পায়ে ভর করে আমি হাঁটি
তাই বলে আমি দু' পেয়ে কিংবা চার পেয়ে
জন্তু জানোয়ারও নই।
মাংস আমি কাঁচা খেতে পারি না বলে;
প্রাণীগোত্রীয় হ'লেও, পশু নই!
কাঁদতে জানি আমি,
জানি জানের ভিতরে জানটাকে পুষে রেখে
আজীবন ভালোবেসে যেতে নিভৃতে।
ফুল, কাঁটা, কিংবা চাঁদ ও নই!
রক্তে মাংসে গড়া, বিবি হাওয়ার
মত শরবতি, কোমলমতি - মোমে গড়া!
আলোড়িত করে তাই, অনেক কিছুই!
যা পারে না-
ঘুড়ি, পাখি
চাঁদ কিংবা নদী।
প্রকৃতই আমি পাখি নই, মেঘ-ও নই
জীবন যাপনের ঠিকানা, এই মাটি-ই
হ'তে চাই না চাঁদ, পূর্ণিমার-ও আলো।
বিশুদ্ধ আবেগে থরো থরো
মন্জিমা আমার-
তোমারই সাথী,
তুমি-ই তাই
প্রিয়তর!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

