
যদি আর না আসো, আর না পিছু ডাকো
আর না বলো- “ভালোবাসি তোমারে”;
তবে স্বেচ্ছায় বেছে নেয়া এই নির্বাসন ছেড়ে
চলে যা্বে সে জেনো আরো দূর!... কারাগারের দূয়ারে।
কোন সত্য মিথ্যা যাচাই করতে না দিয়ে, তা’র বিরুদ্ধে তোমার সাজানো-
সব মিথ্যে অনুযোগ; অভিযোগ; না বুঝা ভুলের নিরপরাধ অপরাধগুলোকে;
নিজের দোষ বলে নির্দ্বিধায় মেনে নিয়ে, নিজেকে মস্ত বড় এক অপরাধী সাব্যস্ত করে; কাঠগড়ায় দাড় করে নেবে নাহয় অধোমস্তকে!
তোমার চোখে সে ভালোবাসা বৈ অন্য আর কিছু হয়ে বেঁচে থাকতে চায়-না বলেই, তোমাকে খুব সুখী দেখতে চায় বলেই,
নিজের অসামান্য ক্ষতি সে- মাথা পেতে নিয়েছে। বলবে-না একটুও, তোমার দোষ তুমি খুঁজ়ে দেখো!
বলবে-না, "তোমার মত আমাকে ভালোবাসার প্রার্থী আরও অনেকে!”
যদি-ও সে জানে, ভালো সে শুধু তোমাকেই বেসেছে! রাগ, অনুরাগ আর শিল্পানুরাগে।
সব ভেবে চিন্তে তাই সে ঠিক করেছে- চলে যাবে! কারাগারে বন্দী কারাবাস-ই তার কাছে শ্রেয়!
তবুও তোমায় কোন দোষ সে দিতে যাবে-না! কোন কষ্ট তোমায় ছুঁয়ে যাক; তা-ও সে চাইবে-না।
চাইবে-না অনেকের আকাংঙ্খার যে কি না রোদ্দুর; তার জীবনে নেমে আসুক নিচ্ছিদ্র আঁধার। অপূর্ব তা’র আলোক তোমার কাম্য ছিলো না!
তোমার পছন্দ যেরকম আঁধার; সে আঁধারের ভাষা তা’র জানা ছিলো না। আর তা জানা নেই বলেই; পারেনি শিখতে-
আঁধারকে আলোর সাথে মিশিয়ে; কি করে বলতে হয় তাকে- “অনন্যা”! পারে-না চোখের সামনে দেখা নির্লজ্জ্ লোভকে বলতে ভালোবাসা।
চোখের ভেতর চোখ রেখে অনন্ত দৃষ্টিকে দেখার সেই পবিত্র চোখ তোমার নেই বোধ হয়! তাই তুমি দিব্যি এড়িয়ে যেতে পেরেছো!
তাই গলাবাজ মিথ্যুক লম্পট ভুঁইফোড় নেতার মত; তোমাকেও দেখা যাচ্ছে কি অদ্ভূতভাবে নিজের সিংহাসন সাজাতে হেরেমের
বাঈজ়ীদের নিয়ে। মুচলেকা পেয়ে বেশ ওদেরও সবার মুখ বন্ধ!
তোমার অন্দরমহলে ওদের প্রবেশ দেখেও; চোখ ঢেকে রাখছে কতিপয় খানসামারা।
মুখ সরিয়ে নিচ্ছে অন্যদিকে; যেন বলতে পারে সাদা মিথ্যা- কিচ্ছু ঘটেনি! কিচ্ছু দেখেনি ওরা!
সারমর্ম বুঝে একবার চলে গেলে; ফিরে আসার আর কোনও মানে থাকে-না! তাই সে আর ফিরে আসবে-না।
তাই আসলে তার নিজের-ই নিঃশ্বব্দে চলে যাওয়া উচিত। নাহয় চলে-ই যাক সে! কারও কোনও ক্ষতি লিখে না রেখে!
একা-একা হেঁটে-হেঁটে মরু-প্রান্তরে, প্রখর রোদ্দুরে পুড়ে খাক হয়ে! নাহয় ঝলসে নেবে তার ত্বকের লাবন্য – শংখ?
কি প্রয়োজন আর সুন্দর থেকে? সুন্দর বাঁচিয়ে রেখে যে “সুন্দর” পেয়েছে নিঃঠুর অবহেলা,
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নোংরা লোকেরা যে সুন্দরকে করেছে রক্তাক্ত, যার সুন্দরকে দেখতে চেয়েছে অসুন্দর কদর্য চোখে,
অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছে যখন তার যৌবণের দাহন দেখে,
তার আর ভাণ করা ভালোবাসা পেয়ে কাজ নেই,
এটা কি আদৌ সত্যি প্রেম না কি? যা না পেলে, না এলে, হারিয়ে গেলে; বড় অ-প্রাপ্তি রবে?
যা প্রাপ্য তা না পেলেও তো কিছু মেলে, যার নাম “শুন্যতা”; কারন তা পাওয়ার কথা ছিলো বলে মন অপেক্ষায় ছিলো।
আর যা পাওয়ার নয়; যা তা’র নয়; যা অপেক্ষায় নেই; প্রতীক্ষায় নেই; সেই সাময়িকের; ক্ষনীকের হতে চাওয়া সাময়িক জোয়ারী আবেগ
সৃষ্টির শাস্তি; চরম লাঞ্চনারই-বা কি মানে? অপ্রাপ্তির সাময়িক যাতনাকে ধরে নিয়েছে সে অলীক; তোমাকে আর সে আশা করে না।
একটি বিশেষ বয়সের পর যৌবন মৌ-বন যতই টসটসে হোক, বয়সী বৃক্ষের কোমলকে কামনায় যাচে না।
আর তাই কারো ঐকান্তিক চাওয়ায়-ও সে থাকে-না! তার জন্য আর কারো প্রেম ভালোবাসা অপেক্ষায় থাকে-না।
সময়ে যে ভালোবাসা বদলে যায়; তা মোহ। তুমি আজ কাঁদছো যা’কে না পেয়ে; তা তোমার জেদ, পুরুষ স্বভাবের জয়ের নেশা।
কাওকে না পেয়ে পৃথিবীতে সে করুনাধারা হয়ে বেঁচে আছে বলে; তা’কে তোমার প্রয়োজন; যতটুকুন দক্ষতা রয়েছে পুজী তার, মনের ক্ষুধা তৃষ্ণা নিবারনের, কিংবা খাওয়া শেখার প্রারম্ভিক কৌশল শিখে নিয়ে দারুন তুখোড় খাদক হয়ে কোন নবীণাকে উপাদেয় নির্ভূল যোগান দিতে তুমি হতে চাও তার কাছে শিক্ষানবীশ; তাই তা’কে ভালোবাসছো ভাবো। আসলে প্রেম ভালোবাসার কোনটাই নয় এর।
যদি তুমি অনন্য নজীর হও, যদি চাও মিথ্যা অক্ষরকে ছাপিয়ে প্রতিষ্ঠা পাক হৃদয়ের সত্য, তবে এসো!
পৃথিবীর তাবত বাধা উপেক্ষা করে, এবার ফেরাও তা’রে!
সে এখন দাঁড়ানো- কারাগারের দুয়ারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

