somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি চিঠি.....

১৭ ই মে, ২০১৩ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্ষনিকা,
ভালো আছো তো অবশ্যই নাকি । তোমার ভালো থাকাটাই আমার কাম্য । এক বন্ধু মারফত জানতে পারলাম । অনেক আগেই তুমি জেনে গেছো সব ।
যেহুতু জেনেই গেছো তবে আমি কিছু বলি । অনেকদিন চিঠি লেখা হয় না । তোমার অবশ্য দুচার লাইনের একটি চিঠি আমার কাছে আছে । যদিও সেটাকে চিঠি বলা যায় না । যাই হোক………….
হয়তো বিরক্ত হচ্ছো । অবশ্য বিরক্ত বোধ করলে পুরোটা পড়ার দরকার নাই ।।
তোমার মনে আছে আমাদের পরিচয়টা হয়েছিলো ফেসবুকে । শুরুতে যখন ফেসবুকে চ্যাটিং হতো তখন তোমার লেখাগুলো তোমার চিন্তা চেতনা গুলো সব কিছুই আমার কেন জানি খুব বেশি ভালো লাগতো । তখন ও অবশ্য দেখিনি তোমায় । তাতে কি না দেখেই তোমার প্রতি আমি দূর্বল হয়ে পরেছিলাম । ফেসবুকেই তোমার এস এম এস এর অপেক্ষায় থাকতাম । চলতো আমাদের কথোপকথন । তবে সেগুলো নিছকই বন্ধুত্বের সূত্রে । তোমার প্রতি আমার দূর্বলতা তা তুমি জানতে না । এরবেশ কিছুদিন পর পহেলা ফাল্গুন তোমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ শুরু হয় । কিছুদিনের মধ্যেই তোমাকে ভালোলাগা থেকে ভালোবাসতে শুরু করি । তখনও দেখিনি তোমায় । একই কলেজে পড়তাম আমরা তারপরও কখনো দেখা হয়নি । আচ্ছা তুমিই বলো চেহারা না দেখে কি ভালো বাসা যায় না..??
ডায়রির পাতায় লিখতাম প্রতিদিনের ঘটনাগুলো । তোমার প্রতি ক্রমশ ও দূর্বল থেকে দূর্বলতর হয়ে পরার ঘটনাগুলো । অত:পর আমাদের দেখা হয় তোমার জন্মদিনে । তখনও তুমি জানতে না আমি তোমার ও সঙ্গে বাধতে চেয়েছিলাম আমারও প্রাণ । এভাবেই চলতে থাকে বাড়তে থাকে মুঠোফোনে চ্যাটিং ।
ভেবেছিলাম তোমাকে জানাবো অনেক পরে । মোটামুটি একটা যোগ্যতা অর্জন করলে । যদিও যোগ্যতা দিয়ে ভালোবাসা হয়না ।
মনে আছে কি তোমার, শুনে ছিলাম তোমার পড়াশুনা শেষ হতে কয় বছর লাগবে ।। সেদিনই হিসেব করেছিলাম কিভাবে তোমার সমযোগ্য হওয়া যাবে । আর বলতে সাহস পাইনি কখনো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি । এটা হয়তো চেষ্টা করলেই যেত । কিন্তু তুমি যদি সেটাকে একসেপ্ট না করো তাহলে হয়তো হারাতে হবে তোমাকে । নষ্ট হয়ে যাবে বন্ধুত্ব । তাই খুব কাছে থেকে নিরবে ভালোবেসে যাওয়াটাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলাম ।
তা আর হলো না । অবশেষ এ হারাতেই হলো তোমায় । অচ্ছা বলতো এমটা কেন হয় ..? এত কষ্ট কেন মানুষের ..??
আমার বন্ধুটি তোমায় যে অনেক আগেই বলে দিয়েছিলো সব ।
বলতে পারো এখন এসব কথা বলছি কেন..?? সব কিছু যখন যেনেই গেছো বাকিটুকুও…
তবে কোন উপরি পাবার আশায় নয় ।
তোমার কি কখনো মনে হতো না আমি তোমার কতটা আপন হতে চেয়েছিলাম । চেষ্টা করেছিলাম তোমার খুব কাছের কেউ হতে । তোমার মন খারাপ হলেই আমি বুঝতে পারতাম । চেষ্টা করতাম মন ভালো করার । জানিনা পারতাম কি না । অবশ্য তোমার ১৩২০ টা বার্তা জমা আছে আমার মুঠোফোনে ।
তুমি কখনো খেয়াল করেছো কিনা জানিনা । তোমার সাথে দেখা হলেও আমি কখনো তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারতাম না । তোমার অন্যায়ের প্রতি যে ঘৃণাবোধ তা আমি খুব কাছ থেকেই দেখেছি । এই বিষয়টা অনেক বেশি ভালো লাগতো আমার । ভালো লাগতো আমার ডাকে সাড়া দিয়ে রাজপথে তোমার বিচরণ ।
একদিন তোমাকে বাসায় ডেকেছিলাম । আম্মুকে বলেছিলাম আমার এক বন্ধুকে আমার খুব ভালো লাগে । আর সেদিন আম্মুর তোমাকে বেশ ভালো লেগেছিলো । আর তোমার মাঝে আমি আম্মুর একটা প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই । মনে আছে কি তোমার ছবি দুটো ..??
তুমি একদিন রেডিয়ামের কিছু তারা আমায় দিয়েছিলে । বলে ছিলে তারা হয়ে জলে উঠুক আমার জীবন ।
দেখ আমি যদি তোমাকে ভালোনাই বাসতাম তবে খুব বেশি রিয়াক্ট করতাম হয়তো তোমার রিলেশন এর কথা শুনে । সেদিনের সেই কথামালাগুলো দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম । আজ বন্ধু মারফত জানতে পারলাম ।
সত্যি করে বলছি আমি কোন কষ্ট পাইনি । আর ফেসবুকে তো আমি সবসময়ই মন খারাপের স্ট্যাটাস দেই । অবশ্য কষ্ট পাইছি কিনা সেটা মূখ্য নয় বা তুমি হয়তো এটা জানতে চাও না ।
আরো অনেক কিছু লিখতে চাচ্ছিলাম কিন্তু মন সায় দিচ্ছে না । জানি তোমার ও পড়তে বিরক্ত লাগছে ।
যার সাথে পথচলা শুরু হচ্ছে, শুভ কামনা তোমাদের জন্য । কখনো কোন সমস্যা হলে জানাইও । তোমাদের পাশে অবশ্যই থাকবো ।। মানুষকে সুখি দেখতে আমার বেশ ভালো লাগে তবে যদি তা হয় কাছের মানুষ ।।
তবে তোমার বা তোমাদের জীবনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবোনা ।।
আর বলবোনা যে যদি কখনো বুঝতে পারো তবে ফিরে আসিও । কারন এটাও হয়তো সম্ভব হবে না । আমাকে মেনে না নেওয়ার কারন গুলো তো আমি জানি । যদিও তখন সেগুলো ছিলো নিছক তোমার মিথ্যাচার । তাতে কি..?? কখনো কখনো মিথ্যা থেকেই অনেক ভালো কিছু হয় । আর বিশ্বাস সেটা যে তোমার উপর আমার এখনো পূর্ন ।
জানিনা এর পরে তোমার সাথে আমার আর কথা হবে কিনা । একবার দেখা করার খুব ইচ্ছে ছিলো । মনে আছে তোমাকে কতবার ডেকেছিলাম আমাদের সেই জায়গাটায় । তুমি বলেছিলে সময় করে আসবে । তা আর হয়ে উঠলো না ।
আমি আর কখনো মুঠোফোন কিংবা কোন ভাবেই তোমাকে বিরক্ত করবো না । দেখা করতেও চাইবোনা । শুধু তোমার প্রিয় প্রিয় দিনগুলোতে একটু কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে কষ্ট করে যেও । কিছু জিনিস হয়তো তোমার অপেক্ষায় থাকবে ।
সর্বপরি সুখে থেকো ভালো থেকো ।
ইতি
নামটা আর নাই লিখলাম ।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩০ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯



আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষড়যন্ত্রঋতু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:২৯

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×