আনোয়ার খানের দুই পুত্র যথাক্রমে মনোয়ার খান এবং সানোয়ার খান।এরা সর্বদাই একে
অপরের সাথে কলহে লিপ্ত থাকে।ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি অনেক সম্পত্তির অধিকারী;এসব দেখে
তার পুত্রদ্বয়কে থাকতে দিলেন নিজের দুইটা আলাদা ফ্ল্যাটে এবং মাস শেষ হলে তার ব্যাক্তিগত
এ্যাকাউন্ট থেকে পুত্রদের এ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে দেন,এতে করে পারিবারিক শান্তি
ফিরে আসলেও পুত্ররা কিন্তু উনার উপরই নির্ভরশীল থেকে যাচ্ছে।
তিনি চাইলে এটাও করতে পারতেন;পুত্রদের নির্দিষ্ট একটা অংকের টাকা দিয়ে দিতে পারতেন
ব্যাবসার জন্য।বলতে পারতেন তোমরা নিজের উপর নির্ভরশীল হও,এখন থেকে তোমরা
স্বাধিন।
প্রথম ক্ষেত্রে তিনি যেটা করেছে সেটা হচ্ছে পুত্রদের একে অপরের থেকে পৃথক করে দেয়া।
আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি যেটা করেছেন সেটা হচ্ছে পুত্রদের স্বাধিনতা প্রদান।
আনোয়ার খান এখানে যে কাজটি করেছেন সেটা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু নয় তবে উনার
ব্যাবস্থাপনার অদক্ষতা নির্দেশ করে অবশ্যই।
স্বাধিনতা এবং পৃথকীকরণ একই জিনিস নয়।
আমাদের এই বঙ্গদেশের বিচারবিভাগকে পৃথক করা হয়েছে ঠিকই তবে স্বাধিনতা দেয়া হয়নি।
বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ ব্যাবহিত হয় স্বল্প অর্থে অন্যদিকে স্বাধিনতা ব্যাবহিত হয় ব্যাপক
অর্থে।
১৯৯৯ সালে আপীল বিভাগের(মাজদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ)রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার
বিভাগকে পৃথক করা হয়েছে।এবং বলা হয়ে থাকে ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর থেকে বিচার
বিভাগ আর নির্বাহী বিভাগের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অথবা সংশ্লিষ্ট নয় কোন অংশে।
ড.ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কতৃক এই সংশোধন অধ্যাদেশটাকে
বিতর্কিত করা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ এর দোহাই দিয়ে।ওখানে বলা হয়েছে
রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
আমাদের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এটাই বলেন যে এই জিনিসটা করার এখতিয়ারতো রাষ্ট্রের
আছে সেটাতো বিচারিকভাবে বলবৎযোগ্য নয়।আমার প্রশ্ন আপনি যদি সেটা নিশ্চিৎ করার
বিষয়টা মানেন্ তাহলে কে করলো কে করলোনা সেটা খোঁজার কী দরকার?আদালত তো
স্বেচ্ছাচারী কিছু করেনি শুধু মাত্র সংবিধানকে বলবৎ করেছে।তাছাড়া প্রজাতন্ত্রের সংবিধান যে
বিষয়টাকে নিশ্চিৎ করার আদেশ সরকারকে দিয়েছে এদেশের কোনো সরকারই সেটা পালন
করেনি কোনোদিন,তাহলে এতো সংবিধানের দোহাই দেয়ার দরকার কী।?
আমাদের মহান নবম জাতীয় সংসদ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯০(৪) উপধারা সংযোজন করে
ঐতিহাসিক এই রায়ের একেবারে বারোটা বাজিয়ে তবেই ছেড়েছে।
এখানে বলা হয়েছে সরকার যেকোন সময় কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান
করতে পারবে ১ উপধারার ক,খ ও গ এর অপরাধসমূহ আমলে নেয়ার জন্য।
এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এধরনের বিষয়কে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করতে পারবে।
সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ,এই উপধারা সংযোজনের মাধ্যমে সরকার ঠিকই বিচার
বিভাগকে নিয়ন্ত্রিত করছে।
একটু খেয়াল করুন-
শান্তি পুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট জনাব তোফায়েল আহমেদকে সরকার ক্ষমতা প্রদান করলো
একটা বিশেষ ধরনের অপরাধ আমলে নেয়ার জন্য এবং যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে
প্রেরণ করার জন্য,তিনি যেহেতু সরকারের চামচা তিনি অবশ্যই সরকারের স্বার্থটাই বজায়
রাখবেন।উল্লেখ্য আমাদের দেশে সরকার বলতে রাজনৈতীক দলকেই বোঝায়।
খ নামের এক ব্যাক্তি গিয়ে উনার কাছে নালিশ করলো যে বিরোধিদলীয় নেতা অথবা কর্মী।
এখন তিনি খ এর নালিশ আমলে নিলেননা,খ কোথায় যাবে?
md ziawol haq vs state 58 DLR(2006)193
অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক অপরাধটি আমলে নেয়ার ক্ষমতা কেবল
ম্যাজিস্ট্রেটের।মূল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত রুপে কোন অপরাধ আমলে নেয়ার কোনো
ক্ষমতা দায়রা আদালতের নেই।
এখান থেকে এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে অপরাধ আমলে নেয়ার বিশেষ ক্ষমতা কেবল
ম্যাজিস্ট্র্যাটেরই আছে,ঠিক এই যায়গাটাতে যদি নির্বাহী বিভাগ নাক গলায় তাহলে ন্যায়
বিচার পথভ্রষ্ট হবে।
তাছাড়া প্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনুচ্ছেদ ১১৫ এবং ১১৬ যদি পড়া হয় তাহলে দেখা যায় যে
বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন পদে বা ম্যাজিস্ট্র্যাট পদে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি করবেন সে উদ্দেশ্য প্রণিত
বিধান অনুযায়ী।যিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান।অনুচ্ছেদ ১১৫
১১৬ অনুযায়ী বিচার কর্ম বিভাগে নিযুক্ত থাকেন অথবা ম্যাজিস্ট্র্যাট পদে অধিষ্টিত থাকেন উনাদের নিয়ন্ত্রন,
কর্মস্থল নির্ধারন এবং,পদোন্নতি এবং ছুটি মঞ্জুরী সমূহ ও শৃংখলা বিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যাস্ত থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের সহীত পরামর্শক্রমে তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করবেন।
এসব কিছুর পরে এটা বলার কোনও সুযোগ নেই যে বিচার বিভাগ স্বাধিন অথবা আসলেই পৃথক হয়ে গেছে।
স্বাধিনতার ৩৫ বছর পর যদিও বিচারবিভাগকে কিছুটা পৃথক করা হয়েছিলো,তবুও এটা বলার সুযোগ নেই
যে বিচারবিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




