somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচার বিভাগ কী আসলেই নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথ্ক?

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আনোয়ার খানের দুই পুত্র যথাক্রমে মনোয়ার খান এবং সানোয়ার খান।এরা সর্বদাই একে
অপরের সাথে কলহে লিপ্ত থাকে।ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি অনেক সম্পত্তির অধিকারী;এসব দেখে
তার পুত্রদ্বয়কে থাকতে দিলেন নিজের দুইটা আলাদা ফ্ল্যাটে এবং মাস শেষ হলে তার ব্যাক্তিগত
এ্যাকাউন্ট থেকে পুত্রদের এ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে দেন,এতে করে পারিবারিক শান্তি
ফিরে আসলেও পুত্ররা কিন্তু উনার উপরই নির্ভরশীল থেকে যাচ্ছে।
তিনি চাইলে এটাও করতে পারতেন;পুত্রদের নির্দিষ্ট একটা অংকের টাকা দিয়ে দিতে পারতেন
ব্যাবসার জন্য।বলতে পারতেন তোমরা নিজের উপর নির্ভরশীল হও,এখন থেকে তোমরা
স্বাধিন।
প্রথম ক্ষেত্রে তিনি যেটা করেছে সেটা হচ্ছে পুত্রদের একে অপরের থেকে পৃথক করে দেয়া।
আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তিনি যেটা করেছেন সেটা হচ্ছে পুত্রদের স্বাধিনতা প্রদান।
আনোয়ার খান এখানে যে কাজটি করেছেন সেটা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু নয় তবে উনার
ব্যাবস্থাপনার অদক্ষতা নির্দেশ করে অবশ্যই।
স্বাধিনতা এবং পৃথকীকরণ একই জিনিস নয়।
আমাদের এই বঙ্গদেশের বিচারবিভাগকে পৃথক করা হয়েছে ঠিকই তবে স্বাধিনতা দেয়া হয়নি।
বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ ব্যাবহিত হয় স্বল্প অর্থে অন্যদিকে স্বাধিনতা ব্যাবহিত হয় ব্যাপক
অর্থে।
১৯৯৯ সালে আপীল বিভাগের(মাজদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ)রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার
বিভাগকে পৃথক করা হয়েছে।এবং বলা হয়ে থাকে ২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর থেকে বিচার
বিভাগ আর নির্বাহী বিভাগের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অথবা সংশ্লিষ্ট নয় কোন অংশে।
ড.ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কতৃক এই সংশোধন অধ্যাদেশটাকে
বিতর্কিত করা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ এর দোহাই দিয়ে।ওখানে বলা হয়েছে
রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচারবিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
আমাদের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এটাই বলেন যে এই জিনিসটা করার এখতিয়ারতো রাষ্ট্রের
আছে সেটাতো বিচারিকভাবে বলবৎযোগ্য নয়।আমার প্রশ্ন আপনি যদি সেটা নিশ্চিৎ করার
বিষয়টা মানেন্ তাহলে কে করলো কে করলোনা সেটা খোঁজার কী দরকার?আদালত তো
স্বেচ্ছাচারী কিছু করেনি শুধু মাত্র সংবিধানকে বলবৎ করেছে।তাছাড়া প্রজাতন্ত্রের সংবিধান যে
বিষয়টাকে নিশ্চিৎ করার আদেশ সরকারকে দিয়েছে এদেশের কোনো সরকারই সেটা পালন
করেনি কোনোদিন,তাহলে এতো সংবিধানের দোহাই দেয়ার দরকার কী।?
আমাদের মহান নবম জাতীয় সংসদ ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯০(৪) উপধারা সংযোজন করে
ঐতিহাসিক এই রায়ের একেবারে বারোটা বাজিয়ে তবেই ছেড়েছে।
এখানে বলা হয়েছে সরকার যেকোন সময় কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান
করতে পারবে ১ উপধারার ক,খ ও গ এর অপরাধসমূহ আমলে নেয়ার জন্য।
এবং উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট এধরনের বিষয়কে উপযুক্ত আদালতে প্রেরণ করতে পারবে।
সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ,এই উপধারা সংযোজনের মাধ্যমে সরকার ঠিকই বিচার
বিভাগকে নিয়ন্ত্রিত করছে।
একটু খেয়াল করুন-
শান্তি পুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট জনাব তোফায়েল আহমেদকে সরকার ক্ষমতা প্রদান করলো
একটা বিশেষ ধরনের অপরাধ আমলে নেয়ার জন্য এবং যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে
প্রেরণ করার জন্য,তিনি যেহেতু সরকারের চামচা তিনি অবশ্যই সরকারের স্বার্থটাই বজায়
রাখবেন।উল্লেখ্য আমাদের দেশে সরকার বলতে রাজনৈতীক দলকেই বোঝায়।
খ নামের এক ব্যাক্তি গিয়ে উনার কাছে নালিশ করলো যে বিরোধিদলীয় নেতা অথবা কর্মী।
এখন তিনি খ এর নালিশ আমলে নিলেননা,খ কোথায় যাবে?
md ziawol haq vs state 58 DLR(2006)193
অপরাধের বিচার করার ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক অপরাধটি আমলে নেয়ার ক্ষমতা কেবল
ম্যাজিস্ট্রেটের।মূল এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত রুপে কোন অপরাধ আমলে নেয়ার কোনো
ক্ষমতা দায়রা আদালতের নেই।
এখান থেকে এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে অপরাধ আমলে নেয়ার বিশেষ ক্ষমতা কেবল
ম্যাজিস্ট্র্যাটেরই আছে,ঠিক এই যায়গাটাতে যদি নির্বাহী বিভাগ নাক গলায় তাহলে ন্যায়
বিচার পথভ্রষ্ট হবে।
তাছাড়া প্রজাতন্ত্রের সংবিধান অনুচ্ছেদ ১১৫ এবং ১১৬ যদি পড়া হয় তাহলে দেখা যায় যে
বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন পদে বা ম্যাজিস্ট্র্যাট পদে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি করবেন সে উদ্দেশ্য প্রণিত
বিধান অনুযায়ী।যিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান।অনুচ্ছেদ ১১৫
১১৬ অনুযায়ী বিচার কর্ম বিভাগে নিযুক্ত থাকেন অথবা ম্যাজিস্ট্র্যাট পদে অধিষ্টিত থাকেন উনাদের নিয়ন্ত্রন,
কর্মস্থল নির্ধারন এবং,পদোন্নতি এবং ছুটি মঞ্জুরী সমূহ ও শৃংখলা বিধান রাষ্ট্রপতির উপর ন্যাস্ত থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের সহীত পরামর্শক্রমে তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রন করবেন।
এসব কিছুর পরে এটা বলার কোনও সুযোগ নেই যে বিচার বিভাগ স্বাধিন অথবা আসলেই পৃথক হয়ে গেছে।
স্বাধিনতার ৩৫ বছর পর যদিও বিচারবিভাগকে কিছুটা পৃথক করা হয়েছিলো,তবুও এটা বলার সুযোগ নেই
যে বিচারবিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×