-আহসান : সোমা আপু।
সোমা : কী খবর ভাইয়া?
-আহসান : ভাইয়া এই চিঠিটা পাঠিয়েছে।
সোমা : নে ধর তুই আমার মোবাইল ফোনে গেমস খেল বসে, আর আমি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবি।
-আহসান; হাসিমুখে মাথা ঝাকিয়ে-আচ্ছা।
প্রাণপ্রিয় হারামজাদী
তুই নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিস ! আমি নিজেই আসতুম, কিন্তু আসিনি কারন মুখোমুখি হলেই তুই আমাকে কিল দিতি আর আমিও টেনে দিতাম তোর চুল; কথায় আছেনা যেমন কুকুর তেমন মুগুর।
কয়দিন পরেই তোর বিয়ে, এখন আর পারিনি আবেগটাকে সামাল দিতে।সেবার আমি যখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে একমাস বাইরে ছিলাম!ফিরে আসার পর আমাকে জড়িয়ে তোর সে কী কান্না ! একটা থাপ্পড় ও দিয়েছিলি, একমাত্র ঐ থাপ্পড় টার শোধ আমি নেইনি তোর থেকে।কারন-আমিও বুঝেছিলাম থাপ্পড়টা আমার পাওনা ছিলো, তোকে ছাড়া থাকতে আমারও বড্ড কষ্ট হয়েছিলো, এই সত্যটা তুই বুঝিস কিনা জানিনা।
বড় চাচার ঘর থেকে তুই নিয়ে আসতি গাড়ির চাবি চুরি করে, আর দুজন বের হতাম ঘুরতে।প্রতিদিনই ঝগড়া হতো, কোথায় যাবো সেটা নিয়ে আমারই জয় হতো সবসময়; তবুও তুই আমার সাথেই বের হতি।কলেজে কার সাথে তোর ভালো সম্পর্ক-কার সাথে মন্দ, সবই তুই আমাকে জানাতি।কলেজের কোনো ছেলে তোর সাথে উল্টাপাল্টা ব্যাবহার করতো না কারন ওরা জানে তুই সণ্ডামার্কা আমার পাখি, এবং তুইই সেটা জানিয়েছিলি, যদিও ওটা ছিলো নিতান্তই তোর একটা চাতুরী মাত্র।
একটা চূড়ান্ত সত্য আজ আর গোপন করবোনা; আসলে আমি যে তোকে ভালোবাসি সেটা আমি ছাড়া আর কেউ জানেনা।আজ তুই এটা জেনে নে।
আমি জানি বড় চাচা এবং বড় মা কোনো দিনই আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবেননা, আমার মতো এতো অকর্মণ্য ছেলের কাছে কোনোভাবেই উনারা তোকে সপে দেবেননা।তুই আসলে ঠিকই বলতি, আগে কন্যার বাপেরা হতেন কন্যা দ্বায়গ্রস্ত, আর এখন আমার মতো ছেলেদের বাপেরা হবেন পুত্রদ্বায়গ্রস্ত।
বিশ্বাস কর, আমার কোনো আফসোস আর নেই তোকে পাবোনা বলে।আমি জানাতে পেরেছি তোকে এ আমার স্বান্তনা, আর হ্যাঁ তোর বরটা অনেক সুন্দর হয়েছে।ওকে আমি চিনতাম, খুব ভালো গান গায় সে, উচ্চ শিক্ষিত, নম্র, ভদ্র তার উপর বিশ্ববিখ্যাত একটা কোম্পানীতে চাকরীরত উচ্চপদস্থদের মধ্যে একজন।
তোর কাছে আমার মিনতি; এই কথাগুলো তুই কাউকে কোনোদিন বলবিনা, আমরা যেমন ছিলাম তেমনই থাকবো আর বিয়ের পর তুই এই চিঠির কথা মনে করিয়ে আমাকে নষ্টালজিক করার চেষ্টা করবিনা।তাহলে আমি কোনদিন ও তোর সামনে আসতে পারবোনা।
ভালো থাকিস ভালো করে।
ইতি
ছাগল
সোমা ও চিঠির জবাবটা আহসানকে দিয়ে পাঠিয়ে ছিলো।
প্রানপ্রিয় ছাগল
তুইতো জানিস ছাগলের মাংস আমি খাইনা।কারনটা হলো তোকে আমি ছাগল বলে ডাকি।মনে মনে আমি তোর স্ত্রী হয়ে বসে আছি অনেক আগে থেকেই, নিজের স্বামির মাংস আমি খাই ক্যামনে?
স্বামী যেই হউক আর যতো বড় চাকরিজীবিই হোক।স্বামী হিসেবে আমার তোকেই বেশী পছন্দ, তুই আমার স্বামী হলে হরেকরকমেরে সুবিধা মিলবে, এই যেমন ধরে যখন তখন তোকে আমি কিলাতে পারবো, ঘুরতে বের হতে পারবো, তোর ভে ভে ডাক শুনতে পারবো।এইসব হাবিজাবি আরকি।
বাবা মা যে আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবে না, সে আমি জানি।আমার কিন্তু তোকেই চাই।তোকে ছাড়া বাচতে আমি পারবোনা, সুতরাং এখন আমি যা বলছি তাই তোকে করতে হবে।কাল বেরুচ্ছি কেনাকাটা করতে।তুই আসবি তোর বাইক নিয়ে, সেখান থেকেই আমরা দুইয়ে মিলে চম্পট মেরে দেবো; বউটাকে নিয়ে তোর যেদিকে দুচোখ যায় পারবিনা সেদিকে চলে যেতে?তুই আমার সব, তুই ছাড়া আর কেউ আমার জামাই হতে পারেনা।তুই যেখানেই যেতে বলবি সেখানেই যেতে আমি রাজি।
অপেক্ষায় রইলাম; কাল আমাকে নিয়ে যাবি তুই।
ইতি
হারামজাদী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






