somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"মিথালীর আর্তনাদ "

১০ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


;;;;মিথালীর আর্তনাদ ;;;

আমার চোখে চিন্তাবিহীন বসন্ত আজ ,
শুনতে পাই পাখিদের কলরব ,
নিবির চোখে দেখি মানুষের আনাগোনা ,
কি যে খুশি আজ মনে ..
হে পাখি , হে ঝলমলে রোদ তোমাদেরকেই তা বলতে ইচ্ছে করছে সারাক্ষণ ।
হাহাহাহাহ্হাহ হাহহাহাহা হাহাহ্হাহ আজ সব কিছু ভুলে অট্টহাসিতে নিজেকে উজার করে দিতে চাই এ মন , যদি পারতাম দুহাত মেলে উড়ে যেতে ওই নীল্ আকাশের বুকে , যদি পারতাম জানতে মেঘের ওপরে কে বসত করে ..!
উফ ! কি খুশি আজ আকাশে বাতাসে , জানো কি তুমি ? আজ ভীষণ ভাবে পেতে ইচ্ছা করছে আমার স্বপ্নের বন্ধুকে, আজ ভীষণ ভাবে ইচ্ছা করছে তাকে নিয়ে , ওই যে দুরে, মাটের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে ময়ুরাক্ষী, পাশের মস্ত বড় বট গাছটি দাঁড়িয়ে , সেই ছোট্ট নদীটির ধারে যেতে , তার হাত ধরে খরস্রোতহীন নদীর বুকে পাঁড়ি দিতে এক অজানা দেশে ।
আহ ! মা আমাকে এক গ্লাস জল দাও তো !
মিথালী এত লাফাস না ,, কথায় আছে মনে রাখিস যে ," যতো খুশি ততো কাঁন্না ",বলে গেছেন কোনো এক অচেনা মান্না ,, এই বলে আমি আবার অট্টহাসিতে লুটিয়ে পরলাম মায়ের খোলে ।
মাকে আল্টো করে জড়িয়ে ধরে বললাম , মা গো গত তিন মাস আমি হাসিনি, কাল আমার পরীক্ষা শেষ হয়েছে , তুমি আমাকে এখন আর দয়া করে result এর ভয় দেখিও না please, আমার লক্ষী মা !
মা মুচকি হেসে বললো আচ্ছা বাবা আচ্ছা ! আর তোকে ভয় দেখাবো না । ও হা তোর দীদু (মায়ের মা ) ফোন করে ছিল , জিজ্ঞাসা করছিল যে , তুই কবে যাবি । মা তুমি দীদু কে বলে দিও কাল এ যাবো আমি তার কাছে , কতদিন যে উনার হাতে বেগুন মাখা আর গরম ভাত খায়নি , আহা কি যে ভালো লাগে খেতে ।
মা তুমি এখন যাও তো আমাকে একটু একা থাকতে দাও , পাখি গুলো আমাকে যে ডাকছে তাদের সাথে গল্প করার জন্য । টিক আছে , টিক আছে বাবা ! য়াতছি আমার পাগলি মেয়ে !

এই পাখি আমার সাথে গল্প করবি , আমি মিথালী রে মিথালী এই বাড়ির মেয়ে , কাল আমার HS পরীক্ষা শেষ , আজ জানিস তো আর পড়তে হবে না , আজ আমার যা খুশি তাই করবো, আজ মা আর বোকা দেবে না । আয় না টুনটুনি , শালিক , চড়ুই পাখিটি একটু গল্প করি , আমি কিন্তু কাল চলে যাবো আমার দিদুমনির বাড়িতে তখন হাজার বার ডাকলেও আসবো না মনে রাখিস এই কথাটি । আচ্ছা তোরা আমার ভুলে যাবি না তো , আমি ফিরে এসে আবার তদের সাথে অনেক অনেক গল্প করবো , থাকিস আমার প্রতিক্ষায় ততদিন, কেমন !
ওই যা মা ডাকছে , ...
পাখি যদি আমি রাখি তোদের মতো দুটি ডানা ,
তোরা কি নিয়ে যাবি তোদের দেশে ,বলনা !
কখনো দিবি না আমায় ফাঁকি !

যাচ্ছি .......( চিৎকার করে মা কে উত্তর দিলাম )

তোরা সবাই ভালো থাকিস
আর পারলে তোদেরকে আমার অপেক্ষায় রাখিস ,
যতদিন না আসি ততো দিন তোরা আমার পথ চেয়ে থাকিস !

বল মা ! কি বলবে বলে ডাকছো আমাকে , তোর বাবা বাজারে যাবে , আমার সোনা তুই একটু রান্না ঘরে গিয়ে দেখ না , কি কি ফুরিয়েছে সেই গুলো একটি কাগজে লিখে আর বাজারে ব্যাগ টি বাবা কে দিয়ে দে , তারাতারি করিস কিন্তু বাবা কিন্তু বসে আচ্ছে । মা ..! আমি পারব না তুমি যাও ,
আমার সোনা মামনি কাল তো তুই দিদনের বাড়ি যাবি , তখন তো আর করতে হবে না , তখন দেখিস সব আমি করবো শুধু আজ এইটুকু করে দে । মায়ের এতো মিষ্টি আবদার আর ফেলতে পারলাম না , সব কিছু গুছিয়ে সুন্দর করে বাবা কে দিয়ে দিলাম , বাবা বাজারে উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল । আর আমি tv ঘরে ডুকলাম। অনেক দিন বাদে আজ শান্তি মতো মুভি দেখব ।

tv সামনে বসলে যে কিভাবে আমার সময় কেটে যায় তা টেরই পায় না আমি । মা ডাকলো খাওয়ার জন্য তখন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ৮ বাজে । tv বন্ধ করে খেতে গেলাম , বাবা আজ বাজার থেকে বড় একটি রুই মাছ এনেছে , জমিয়ে খাওয়া হবে । খেতে খেতে বাবা আমাকে জিজ্ঞাসা করলো , কি রে মামনি কাল নাকি তুই তোর দুদনের বাড়ি যাবি , তা কাছে কত টাকা আছে শুনি , আমি আদর মিশানো গলায় বললাম বাবাকে , বাবা ! আমার কাছে কোনো টাকা যে নেই কিন্তু যার কাছে টাকা আছে সে আমার কাছে আছে !
বাবা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো কে সে ? আমি বললাম তুমি,,,এই শুনে আমর মা বাবা সবাই হেসে উটলো , বাবা মা কে বললো দেখেছ গিন্নি কি চালক তোমার পুচকি মামনি ! আমি বাবাকে বললাম ,,বাপি আমাকে পুচকি বলোনা আমি কিন্তু এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছি । মা বললো ,, হ্যাঁ দেখছি তো তুই কত বড় হয়েছিস , এখন আর পাকা পাকা কথা না বলে তারাতারি খাওয়া শেষ করে ব্যাগ গুচ্ছিয়ে রাখ , তুই আবার সকালে দেরী করে ঘুম থেকে উটিস। টিক আছে মা , আমি এখনি গুছিয়ে নেব তুমি কোনো চিন্তা করনা তো ।
খাওয়া শেষ করে নিজের ঘরে চলে গেলাম ব্যাগ গুছাতে । খানিক বাদে মা এসে দেখলো ব্যাগ গুছানো হয়েছে কি না , সব দেখে বললো বাহ ! সত্যি তো আমার মেয়ে বড়ো হয়ে গিয়েছে , টিক আছে এবার গুমিয়ে পর আমি সকালে ডেকে দেব , আমি মা কে গালে একটি পাপ্পি করে বললাম টিকে আছে মা , শুভো রাত্রি !


মিথালী এই মিথালী উটে পর মা আমার আর কত গুমাবি , দেখ কটা বাজে , আমি ঘুম মাখানো স্বরে ভাঙ্গা ভাঙ্গা তরে মাকে বললাম আর একটু খানি ঘুমায় না please !
মা জোর করে আমার গায়ের কাথাটি টেনে নিলো বললো আর না ,, তারতারি উটে ready হয়ে থাক তোর বাবা তোকে রাখতে যাবে , এই বলে মা রান্না ঘরে চলে গেল আর আমি স্নান ঘরে । বাবা সকালে বাজার থেকে ফিরে ,,মামনি মামনি করে আমাকে ডাকতে লাগলো , আমি চিৎকার করে বাবা আর একটু সমোয় লাগবে ....
বেরিয়ে দেখি মা গরম গরম লুচি আর আলুদ্দম করে রেখেছে ,, আহ দেখেই তো জ্বিভে জল চলে এলো ,, তারাতারি খেয়ে নিলাম আর মা খানিক টা ব্যাগ এ দিয়ে দিলো দিদুনের জন্য ।
আমি লাল টুকটুকি রংয়ের একটি জামা পারলাম , মা আমাকে দেখে বললো আমার পরি যেনো কারোর নজরে না পরে , আমাকে কপালে একটি মিষ্টি পাপ্পি করলো । বেড়ানোর সময় মা কে বললাম যে মা ফিরে এসে কিন্তু আমি তোমার হাতে মাংস রান্না খাব আর সাথে লুচি , এই বলে আমি আর বাবা বেরিয়ে পরলাম ।

বারাসাত থেকে ট্রেন এ ৪০ মিনিট তার পর আবার বাস থেকে ১ ঘন্টা , শহর থেকে অনেক দুরে- যেখানে শুধু মন ছুঁয়ে যায় সবুজের বন , বনের মাঝে আঁকাবাকা রাস্তা , মানুষের সরলতা এইসব আমাকে ভীষণ ভাবে টানে ।এই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে ৪০ মিনিট পেরিয়ে এলাম তা খেয়ালই করলাম না , বাবা বললো চলো এবার নামতে হবে । নেমে আবার বাস, বাস এ উটে আমি জ্বানালার ধারে সিট এ বসে পরলাম আর কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনতে লাগলাম ।
বাস থেকে নেমে দেখি আমাদের কে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার মামা বাস স্ট্যান্ড এ দাঁড়িয়ে আছে , মামা আমি আর বাবা একটি ভ্যান এ উটলাম তারপর পাকা রাস্তা ছেড়ে পাঁড়ি দিল মাটির রাস্তা ধরে , মিনিট ১০ পর অবশেষে মামা বাড়ি ডুকলাম ।
দিদুমা আমাকে দেখে বুকে জড়িয়ে ধরলো , আমার পিটের ব্যাগ টি নামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো খুব কষ্ট হয়েছে , তাইনা মামনি , তারাতারি হাত মুখ ধুয়ে আয় দেখ তোর জন্য কি রান্না করেছি ।
এই শুনে আমি তারাতারি হাত মুখ ধুতে গেলাম । বাবা আর আমাকে দিদুন খেতে দিলো সাথে মামা কেউ বসতে বললো কিন্তু মামা বললো সে একটু পরে খাবে , ও মা গো দিদুন এত কিছু তুমি কখন রান্না করলে ?
পাশ থেকে মামা বলে উটলো তুই আসবি তাই তোর দিদুন সকাল থেকে এই সব রান্না শুরু করে দিয়েছে ,আমার সামনে রুই মাছ , কষা মুরগির মাংস , পায়েশ , মিষ্টি আর সাদা ভাত , ও মা , দিদন তুমি দেখছি আমার প্রিয় বেগুন মাখা টিও করেছ,,দিদন হালকা হাসি দিয়ে বললো ,, করবো না , আমার সোনা মামনি কত দিন বাদে যে এলো !
খাওয়া দাওয়া করে বাবা ঘুমাতে গেলো আর দিদন আমাকে নিয়ে গল্প শুরু করলো ,,কতো গল্প আর গল্প , এরই মাঝে মা ফোন করে ছিল আমরা টিক মতো পৌছেগিয়েছি কিনা জানতে ।
বাবা ঘুম থেকে উটে ready হয়ে নিলো বেড়াবে বলে , মামা বাবা কে অনেক অনুরোধ করলো কিন্তু বাবা direct মামা কে না বলে দিলো,,আর একটু পরে বেড়ালে বাড়ি পৌছাতে দেরী হয়ে যাবে , বেড়ানোর সময় দিদন আবার ব্যাগ করে মায়ের জন্য সব রান্না তরকারী দিয়ে দিলো, আমরা সবাই বাবাকে পাকা রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গেলাম ,, পাকা রাস্তা তেহেকে ভ্যান পাওয়া যাই , ভ্যান এ উটে বাবা আমাকে ১০০ টাকা দিয়ে বললো , দিদন কে একটুও জ্বালাতন করবে না আমি ৫-৬ দিন পরে এসে নিয়ে যাবো , আমি শুধু মাথা টি নাড়ালাম আর বাবা টাটা করলাম ,,বাবা চলে গেলো ।

আমার দিদুনের পাশের বাড়ি একটি দিদি থাকে ওই তো কলেজ এ পরে নাম মাধুরিমা, আমার সাথে বেশ বন্ধুত্ব তার , আমি এলেই চলে যায় দিদির বাড়ি গল্প করতে ,, তাই বাবাকে রেখে এসে সোজা গেলাম দিদির বাড়ি , তখন ও দিদি কলেজ থেকে ফিরিনি বলে বলে আবার চলে এলাম ।
খুবই ক্লান্ত লাগছিল তাই দিদন কে বললাম আমি ঘুমাবো , দিদন তার ঘরে ব্যবস্থা করে দিলো।
এই মামনি , মামনি চা খাবি না উটে পর , সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে তো , তারাতারি উটে পর । আমি তোর জন্য চা নিয়ে আসছি । এই বলে দিদন চা আনতে চলে গেল , আমি উটে হাতে মুখে জল দিয়ে গরম চায়ে চুমুক দিলাম ,আহ কি শান্তি আমার দিদনের হাতের তৈরি চায়ে , আমি চা শেষ করে দিদন কে বললাম , আমি একটু পাশের মধুরিমা দি বাড়ি যাচ্ছি , তখন গিয়েছিলাম দেখা হয়নি , দিদন বললো টিক আছে যাও তবে তারাতারি ফিরবে , আমি টিক আছে বলে বেরিয়ে পরলাম গেট এর সামনে এসে আবার দৌড়ে দিদুন এর কাছে গেলাম , দিদন আমাকে দেখে বললো কি হলো আবার ফিরে এলি কেনো ,, আমি হেসে বললাম দিদুন বাবা যে টাকা টা দিল ওটা দাও তো যাওয়ার সময় চিপস কিনে নিয়ে যাবো , আমি আর দিদি গল্প করতে করতে খাবো , টাকা নিয়ে আবার বেরিয়ে পরলাম ,.।

মাধুরিমা দির বাড়ি থেকে একটু দুরে দোকান , তাই ভাবলাম আগে দোকান থেকে চিপস টা কিনে নিয়ে আসি তারপর দিদি বাড়ি যাবো ,,
কাকু আমাকে দুটো চিপস এর প্যাকেট দাও তো , কে মামনি , কবে এসেছিস তুই , কেমন আছিস ( এত গুলো প্রশ্ন করে বসলো আমাকে দেখে বিমল কাকু ) আমি বললাম হ্যাঁ কাকু ভালো আছি , তুমি আমাকে দুটো চিপস এর প্যাকেট দাও তো , কাকু বললো চিপস তো নেই তুই অন্য খাবার নিয়ে যাও , আমি বললাম যা !...আমি তো চিপস খাব বলেই এলাম , এখন কি হবে , আচ্ছা কাকু ওই দিকে আর একটি দোকান আছে না ? এখনো কি আছে সেটি , কাকু মাথা নাড়ালো হ্যা আছে কিন্তু এখন কি করে যাবি রাস্তা তো অন্ধকার , ভয় পাবি না । আমি কাকু কে বললাম আমি এক দৌড়ে যাবো আর আসবো ভয় কেনো পাবো !

এই বলে আমি মাঠের ধারের রাস্তা ধরে যেতে লাগলাম , ফাঁকা জায়গা , এদিকে অন্ধকার ও আছে খুবই ভয় করছিল , মন বলছিল না এলেই বুঝি ভালো করতমা ,, না এসেই যখন পরেছি তখন কিনে নিয়ে যায় । খানিক টা দুরে দেখি ২ -৩ ছেলে রা রাস্তার ধারে দাড়িয়ে সিগারেট খাটছে , পাশ দিয়ে যেতেই এক ঝাজালো গন্ধ নাকে এলো , ভয়ে ভয়ে পাশ দিয়ে চলে গেলাম তার একটু দুরে সেই দোকানটি ,বাবা দোকান টি দেখে মনে একটু শান্তি পেলাম কিছুটা হলেও ভয় টা একটু কমেছে , দোকানদার কে গিয়ে বললাম আমাকে দুটো চিপস দাও তো , চিপস নিয়ে টাকা দিয়ে আমি বেরিয়ে পরলাম ,,

মনের মধ্যে এবার যেনো এক সাগর মিশ্রিতি ভয় কাজ করছিল , তবুও মন কে দ্রিও সান্তনা দিয়ে বোঝাতে লাগলাম , এখন তো সবে ৭ টা বাজে এত ভয় কিসের আমি না শহরী মেয়ে , এমন ভাবতে ভাবতে ছেলে গুলির পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় , একটা ছেলে আমার হাত টেনে ধরলো , তখন আমার বুকের মাঝে যেনো ভয়ের এক মরুভূমি খরা জেগে উতেছিল তবুও সাহস করে আমি হাত টি এক টানে ছাড়িয়ে নিয়ে হাটতে লাগলাম , টিক তখনই আর একটি ছেলে পিছন থেকে এসে আমাকে কুৎসিত ভাবে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল , আমি ভয়ে কাঁন্নায় চিৎকার করতে যাবো , তখন ই আর একটি ছেলে এসে আমর মুখ চেপে ধরলো , আমি হাওমাও করে কাঁন্নায় চিৎকার করতে থাকি , সে শব্দ কারো কানে যদি পৌছায় , আমার আত্তনাদ যদি পায় শুনতে কেউ ।
আমাকে ওরা উঁচু করে নিয়ে যেতে লাগলো মাঠের মাঝ দিয়ে , আমার বোবা কাঁন্না অঝোরে নেমে আসতে লাগলো আমার চক্ষু বেয়ে , আমার উন্মাদ মন ছটফটানি দেহ, কোনো কিছু ওরা পৌছাতে দিলো না কারো কানে । অসহায় আমি ভাবিনি কখনো, যে মাঠ, যে নির্জনতা আমার এতো প্রিয় সেই নির্জনতাই একদিন বিষন্ন বিশাল আকাশ হয়ে আমার ওপরে ভেঙ্গে পড়বে। আমার আত্তনাদ আর পৌছাবার নয় , আমার ভয়ে পুরো শরীর তখনি মৃদ প্রায় , তবুও বার বার আর্তনাদের চেষ্টা , যদি কেউ শুনতে পায় আমার গুন্ড়ানো আর্তনাদ , তবে বুঝি আমি আবার ফিরতে পারব আমার প্রাণ প্রিয় মাধুরিমা দির কাছে , ফিরতে পারবো আমার অপেক্ষায় থাকা বৃদ্ধ দিদনের কাছে , কিন্তু না কেউ নেই আমার আত্তনাদ শোনার মতো , ততক্ষণে মানুষ রুপী লালসামহি জন্তু গুলি আমাকে নিয়ে গিয়েছে গ্রাম থেকে অনেক দুরে এক বাঁশ বাগানে ..!

যখন আমার উড়না দিয়ে বেঁধে ছিল আমার হাত , আমার ই জামা ছিঁড়ে বন্ধ করে ছিল আমার মুখ , যখন আমার গায়ের বস্ত্র বিবস্ত্র হচ্ছিল তখনি বার বার মায়ের কথা মনে পড়ছিল , মা গো কেমন তোমার দেবতা !, কেমন তোমার দেবতার শক্তি ! যে , এই তিনটি নিকৃষ্ট জন্তু দের নজর এড়াতে পারল না ।
খুব অভিমান হচ্ছিল মাগো তখন তোমার দেবতার দের ওপর যখন এক এক করে নর খাদকের মতো আমার দেহে পড়ছিল লুটিয়ে , আর তাদের নির্মন ছাপ রেখে যাচ্ছিলো আমার বিবস্ত্র দেহে ।
আমার আর্তনাদ , আমার কাকুতি মিনতি ততক্ষণ পর্যন্ত ছিল মাগো যতক্ষণ না , ওই পশুর দল আমার উড়নাটি না জড়িয়ে দিয়েছিল আমার গলায় ...।
তার পর বিশ্বাস করো মাগো আর কষ্ট পায়নি আমি । তারপর আর টের পায়নি নিজের মধ্যে ভয় , আর শুনতে পায়নি আমার বোবা আত্তনাদ , শুধু বড়ো অদ্ভূৎ লেগেছিল নিজের বিবস্ত্র দেহ বাঁশের সাথে লুটিয়ে পরে থাকতে দেখে , কখনো ভাবিনি নিজের পছন্দের উড়না এইভাবে জড়িয়ে থাকবে আমার গলায় ।
কখনো ভাবিনি হটাৎ করে এমন ভাবে নামবে ভেঙ্গে আকাশ আমার ওপর , যেখানে কেউ শুনতেও পাবে না আমার আর্তনাদ ..!
মা গো সত্যি কি আমার আর্তনাদ আর কেউ শুনবে না , মা গো এমন হলো আমি তো কথা দিয়েছিলাম তোমাকে ফিরে গিয়ে তোমার হাতে রান্না খাব বলে ,, মা গো আমি যে কথা দিয়েছিলাম ,, আমার জ্বানালার পাশের গাছে বসা পাখি গুলোকে , থাকতে বলে ছিলাম তাদেরকে অপেক্ষায় আমার , মা গো ওদের কে বুঝিয়ে বলো আমি আর ফিরবো না , আমাকে যেনো ওরা মিথ্যুক না ভাবে...।
মা গো তুমি বাবাকে বলে দিও , উনি যেনো আমাকে আবার পুচকি বলে ডাকে ,,আর বকবনা না ওনাকে আমি ,, আমি যে বড় হওয়ার সব চাওয়াতে কঠিন শাস্তি পেয়েছি....। এর পরে বুঝি আর কেউ বড়ো হতে চাইবে না ,,, তাই না মা গো !





বিদ্রোপ ;-
উফ ! আর পারছি না লিখতে ,
কতো কষ্ট মিথালী তোমার বুকে ,
তোমার আর্তনাদ আমি পৌছাবোই,
তুমি থাকবে সাবর বুকে মুখে !

প্রাথনা :- হে ঈশ্বর সত্যি যদি তুমি থাকো , সত্যি যদি তোমার শক্তি থাকে , তবে তোমার কাছে চাইবো আমি ,,,-,
এমন করে যেনো আর কোনো মিথালী না মরে ,
এমন করে যেনো আর না কোনো মিথালীর আর্তনাদ শুনতে হয় ।
এমন করে যেনো আর না কোনো নিস্পাপ ফুলের মতো প্রাণ ঝরে পরে মানুষ রুপী জঘন্য দানবের আঘাতে ।

কোথাও বানান ভুল দেখিলে sms আমাকে জানান ,,
ধন্যবাদ ।

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ১১:১১
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×