somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য মাযহাবের অনুসরণ করা অপরিহার্য তথা ফরয-ওয়াজিব ।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাযহাবের আভিধানিক অর্থ ‘চলার পথ’।
শরীয়তের পরিভাষায় কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ তথা ফিক্বাহর অনুসরণ করতে গিয়ে যে যেই ইমাম উনার তাকলীদ বা অনুসরণ করে সে সেই ইমাম উনার মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত। মূলত প্রত্যেক ছাহাবী এবং প্রত্যেক ইমাম-মুজতাহিদ উনারা প্রত্যেকেই একটি করে মাযহাব ছিলেন। তবে তৃতীয় হিজরীতে ইজমা হয় যে, হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী- এ চারটি মাযহাবের যেকোন একটি অনুসরণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয।

মাযহাবের উৎপত্তি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ থেকে শুরু হয়েছে এবং তাবিয়ীন, তাবি-তাবিয়ীনগণের মধ্যে অনেকেই মাযহাবের ইমাম ছিলেন। কেননা শুরু যামানায় অনেকেই মুজতাহিদ ছিলেন তাঁরা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ পড়ে নিজেই ইজতিহাদ করে চলতেন, কারো অনুসরণ করার প্রয়োজন ছিল না।

হিজরী শতকের তৃতীয় শতাব্দি থেকে হানাফী (৮০-১৫০), মালিকী (৯৩ বা ৯৫-১৭৯), শাফিয়ী (১৫০-২০৪) ও হাম্বলী (১৬৪-২৪৬) মাযহাব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সর্বজন মান্য হিসেবে গৃহীত হয়। আর চতুর্থ হিজরী শতকে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, উক্ত চার মাযহাবের যে কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করা ফরয-ওয়াজিব এবং তা অমান্য করা বিদয়াতী ও গোমরাহী।

‘মুছাল্লাম’ কিতাবে, “যে ব্যক্তি মুজতাহিদে মতলক্ব নয় যদিও সে আলিম, তথাপি তার জন্য তাকলীদ অর্থাৎ কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করা ফরয।” তাফসীরে আহমদীয়াত হযরত মুল্লা জিউন রহমতু্‌ল্লাহি আলাইহি বলেন, “সাধারণের জন্য আলিমগণকে এবং আলিমগণের জন্য মুজতাহিদগণকে অনুসরণ করা ওয়াজিব।” তিনি আরো বলেন, “চার মাযহাবের কোন একটাকে অনুসরণ করা ওয়াজিব।” ‘জামিউল জাওয়াম’-এর উদ্ধৃত হযরত আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যারা ইজতিহাদের (মতলক্ব) ক্ষমতা রাখে না, তাদের জন্য কোন একজন ইমামের মাযহাবকে অনুসরণ করা ওয়াজিব।”

হযরত ইমাম গায্‌যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফতওয়া “কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করা ওয়াজিব।”

ফতওয়া হচ্ছে প্রত্যেকের জন্য মাযহাব চতুষ্ঠয়ের যে কোন এক মাযহাবের অনসরণ করা ফরয-ওয়াজিব। অন্যথায় সে ফাসিক ও গোমরাহ হবে। এ ফতওয়ার উপর ইমাম-মুজতাহিদগণ ইজমা করেছেন। যারা মাযহাব মানে না বা মাযহাবের বিরোধিতা করে তারা বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন, ওহাবী, সালাফী, মুহম্মদী, লা-মাযহাবী, আহলে হাদীছ, রফেদান ইত্যাদি।

তারা নিজেরাই নিজেদের মধ্য থেকে ইমাম বানিয়ে তার অনুসরণ-অনুকরণ করে। তাদের ইমামের আক্বীদা-আমল কুরআন-সুন্নাহর খিলাফ হলেও সেটাকেই তারা অনুসরণ করে থাকে।

এরূপ নব উদ্ভাবিত ইমামদের সম্পর্কেই হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমার পরে অনেক ইমাম বের হবে। তারা আমার হিদায়েতের উপর চলবে না এবং আমার সুন্নত আমল করবে না। তাদের মধ্যে এমন সকল লোক দাঁড়াবে বা পয়দা হবে যাদের দিল শয়তানের মত অথচ আকৃতিতে তারা মানুষ।” তারা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের বিপরীত মত-পথ পোষণ করে।


ছিহাহ ছিত্তাহ শরীফ-এর ইমামগণ সকলেই মাযহাবের অনুসরণ করেছিলেন। ছিহাহ ছিত্তাহ শরীফ-এর ইমামগণের মধ্য থেকে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা শাফিয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। হযরত ইমাম আবু দাঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত ইমাম ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখগণ হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।
৪৮টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×