somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনাগাঁথা_২০২০

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩ জুলাই, ২০২০
সোমবার
মনে বড় ফূর্তি আজকাল। ভাবতেই অবিশ্বাস্য লাগে! প্রিয়তমেষু আমার সিলেট হতে ট্রান্সফার হয়ে ঢাকায় চলে এসেছে! এই সপ্তাহে কবে বৃহস্পতিবার আসবে, কখন বাসায় যাব। ছাদে গিয়ে ঘুড়ি উড়াব। বৃহস্পতিবারের আশায় থাকা আমি প্রতিদিনের মত আজকে সকালেও অফিসে গেলাম। শরীর কেমন যেন ক্লান্ত লাগে। মনে হয় আরো ঘুমাতে পারলে ভালো হত। ক্যান্টিনে গিয়ে তুলসি চা খেলাম। কতক্ষণ পর রুমে এসে কাজকর্ম শুরু করলাম। সেই কেমন কেমনই লাগে। প্রোডাকশন ম্যানেজার এসে বলল রূপাকে কেমন যেন অসুস্থ লাগে দেখতে। আমি বলি ধুর ভাইয়া, কিছুই হবে না আমার। এমনিতেই আজকে আমাদের রুম ভরপুর। প্রায় ১ মাস পর টিমমেট দীপ ভাইয়া করোনা জয় করে আসছে। ১২ টার দিকে আসলেই খারাপ লাগা বাড়তে থাকে। আরেক টিমমেট ওয়ারেশকে বললাম। ও বলে প্রচুর খাইতে হবে আপা!! এই বলে লাঞ্চে নিয়ে গেল। লাঞ্চ সেরে এসে আমার দুর্দশা দেখে কপালে হাত দিয়ে বলে আপনার তো জ্বর! তড়িঘড়ি করে মেডিকেল রুম হতে নার্সকে রুমে তলব করে। ও এসে অক্সিমিটারে মেপে দেখে অক্সিজেন কমে গেসে অনেক। হালকা-পাতলা শ্বাসকষ্টও শুরু হয়ে গেসে। ওরা তিনজন মিলে বারবার মেপে সেই একই অবস্থা পায়। দীপ ভাইয়া ক্রুর হাসি দিয়ে বলে মেয়েদের এমনই হয়। ব্যাপার নাহ! আর ওয়ারেশ বলে কোনভাবেই অসুস্থ হওয়া চলবেনা। কোরামিন ইঞ্জেকশন দিয়ে দিবে একদম। নার্স সাথী আমাকে নিয়ে বাইরে গিয়ে ফুসফুসের ব্যায়াম করায়। লাভ হয় না। তারপর আর কি। সারাদিন ঝিম মেরে বসে ছিলাম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে অস্থিরতা আরো বাড়ল। বড় ভাইয়া (ভাসুর) মোটামুটিভাবে নিশ্চিত যে এইটা করোনা!! সে রাতে জ্বরের জন্য ভাত খেতে বড়ই কষ্ট হয়েছে! অক্সিজেন স্যাচুরেশনও কমছে ধীরে ধীরে।
১৪-১৬ জুলাই, ২০২০
মঙ্গলবার সকালে উঠে নাশতা করতে গিয়ে দেখি গন্ধ, স্বাদ কিচ্ছু পাইনা! ছোট ভাইয়া (ভাসুর) প্রচুর ফল এনে দিয়ে বলল "তোমার কাজ একটাই, শুধু খাবা"! বুধ, বৃহস্পতিবার সারাদিন ঝিম মেরেই কাটে। একটুখানি গন্ধ পাওয়ার জন্য কি যে আকুলিবিকুলি লেগেছে আমার! কারে বোঝাই। জানালার পাশের প্রিয় মধুমঞ্জরির ঘ্রাণ আমি পাইনা। এটা কেমন কথা!! টেস্টের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করি। কাল শুক্রবার স্যাম্পল নিয়ে যাবে।
১৭ জুলাই, ২০২০
শুক্রবার
অত্যন্ত বাজে অনুভূতি। শরীরে কেমন অস্বস্তি ভাব। বিকাল ৩ঃ৩০ এর দিকে অবশেষে স্যাম্পল নিতে আসে। কাঠি দিয়ে দুই নাকে আমার ঘুটা দিয়ে!
১৮ জুলাই, ২০২০
শনিবার
জ্বি আমিসহ বাসার সবাই অপেক্ষায় আছি পজেটিভ বা নেগেটিভের জন্য!!
১৯ জুলাই, ২০২০
রবিবার
ঘুম থেকে উঠে টুকটাক অফিসের কাজ করে মেইল ওপেন করলাম। আহহহহ!! শেষ পর্যন্ত পজেটিভ। রিপোর্ট গতরাতেই এসেছে। বিমর্ষ হয়ে আয়নায় দেখলাম। আমি কোভিড পেশেন্ট! অফিসে জানালাম। তারা অভিনন্দন জানালো!

রোজার ঈদেও পান্ডার মত সারাদিন গড়াগড়ি করে কেটেছে সময় এই করোনাটার জন্য। ভেবেছিলাম এই ঈদ ইনশাআল্লাহ ভালো কাটবে। মনে ক্ষীণ আশা ছিল সব ঠিক হয়ে যাবে হয়ত। প্রিয় বর্ষার জন্য প্ল্যান ছিল। পছন্দের গাছ কিনবো, বারান্দাটা আরো সবুজ হবে। অফিসের ডেস্কের জন্য কিউট একটা গাছ রাখবো। দোয়েল চত্বরে ঘুরে ঘুরে গাছ দেখবো। হুম!! ঘুরেফিরে না হলেও গাছ দেখার ইচ্ছা উপরওয়ালা পূরণ করেছেন, তবে সেটা বসে বসে! প্রতিবার কোরবানির পশুর হাটের জন্য অফিসে যেতে আসতে কত কষ্ট। কি বিরক্তই না হতাম! এবার সেই কষ্টও করতে হয়নি! বরং কষ্ট লেগেছে হাট দেখতে না পেরে। কোভিড পেশেন্ট হয়ে জীবনে প্রথমবারের মত এই বন্দীদশা। জানালা হতে কৃষ্ণচূড়ার ডালে পাখিদের রংঢং, মাধবীলতার হেলদোল (গন্ধও পাইনি), আর এইটুকু আকাশে মেঘেদের আনাগোনা দেখে সময় কেটে যায়।
পাক্কা ২১ দিনে পর দ্বিতীয় টেস্টে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। করোনা মুক্ত হই আমি। প্রায় একমাস পর অফিসে জয়েন করি।
কেমন কেটেছে করোনাকালীন সময়?! সারাক্ষণই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছি সবার।
একটাই কথা, খেতে হবে প্রচুর। প্রচুর মানে আসলেই প্রচুর!! মনোবল থাকতে হবে ভরপুর। আর প্রাণভরে স্রষ্টার কাছে দোয়া। দূর হবে দুষ্টু করোনা!!

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×