somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রসওয়ার্ড পাজল এবং আমি

১৫ ই মে, ২০১৭ দুপুর ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক্রসওয়ার্ড পাজল (Crossword Puzzle)। বাংলায় যাকে বলা হয় শব্দধাঁধাঁ/শব্দখেলা/শব্দভেদ/শব্দজট/শব্দছক। এই পাজলটির সাথে আমার পরিচয় হয় ২০০৫ সালে। তখন আমি ক্লাস ফাইভে। কিশোর কণ্ঠ নামক একটি মাসিক পত্রিকায় ৭x৭ মাত্রার শব্দধাঁধাঁ প্রকাশ হতো। আমি ওইগুলো মিলানোর চেষ্টা করতাম। এরপর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ৮x৮ মাত্রার শব্দখেলার দেখা পাই এবং সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করি।

পাজল সমাধান করতে করতে একসময় ভাবলাম, আরে চেষ্টা করলে তো আমিও এইগুলো তৈরি করতে পারি। যেই ভাবা সেই কাজ। লেগে গেলাম ওয়ার্ড পাজল তৈরিতে। দারুন মজা লাগতো আমার কাছে। একসময় এই পাজল তৈরি করাটা নেশার মত হয়ে গেল। প্রতিনিয়ত খুঁজতে লাগলাম নতুন নতুন শব্দ। বাংলা পাঠ্য বইয়ের যত শব্দার্থ ছিলো সবগুলো দিয়ে বানানো শেষ। আরো শব্দ চাই, আরো বেশি শব্দ।

আমার কাছে কোন বাংলা অভিধান ছিলো না। এখনকার মতো হাতের নাগালে গুগুল কিংবা মোবাইল ডিকশনারি এপস ও ছিলো না। তারপরও বিভিন্ন বই ঘেঁটেঘেঁটে অর্থসহ শব্দ শিখতাম। একদিন পুস্ককালয় থেকে একটা মোটা খাতা কিনে আনলাম। সেই খাতায় প্রতিটি পাতায় পাতায় শব্দখেলা তৈরি করে রাখতাম।

২০০৯ সালে যখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি, তখন একদিন ডাকযোগে দৈনিক যুগান্তরে আমার তৈরি করা একটি শব্দখেলা পাঠাই। ১২জুলাই সেটি প্রকাশিত হয়। আমি কিন্তু তখনও জানতাম না বিষয়টা। স্কুলে ক্লাসে ছিলাম। তৃতীয় কি চতুর্থ পিরিয়ডে ইয়াকুব স্যার এসে বললেন আজকে যুগান্তর পত্রিকা দেখিস। এই কথা বলেই স্যার মুখে কুলুপ দিলেন। আর যতই জিজ্ঞেস করি স্যার কিছুই বলেন না। অগত্যা টিফিন পিরিয়ডে দৌড় লাগালাম পত্রিকা স্টোরে।

কিন্তু আমাকে হতাশ হতে হলো। যুগান্তর সব বিক্রি হয়ে গেছে। পরে একটি মুদি দোকানে গিয়ে দেখলাম উনি যুগান্তর পড়তেছেন। উনার থেকে পত্রিকাটা চেয়ে নিলাম। পাতা উল্টেই তো আমি হেব্বি খুশি। আহ, আমার তৈরি করা পাজল প্রকাশিত হয়েছে। সেই থেকে শুরু, একে একে প্রথম আলো, ইত্তেফাক, নয়া দিগন্ত এবং যুগান্তর ইত্যাদি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে পাজল পাঠাতে শুরু করলাম। একেকটা পাজল প্রকাশিত হত, আর আমি দশটা পাজল তৈরি করে পান্ডুলিপিতে জমাতে লাগলাম।

শুধুমাত্র ২০০৯-১০ সালেই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে আমার তৈরি করা ৩০০+ পাজল প্রকাশিত হয়েছিল। স্কুলপড়ুয়া একটা ছেলের কাছে ব্যাপারটা তখন বেশ আনন্দদায়ক ছিলো। নিচে প্রথম আলোতে ২০০৯-২০১০-২০১১ সালে প্রকাশিত আমার তৈরি করা তিনটি শব্দভেদ দিলাম।


২০ ডিসেম্বর ২০০৯ এ প্রকাশিত এই পাজলটি প্রথম আলোর ই-পেপারে দেখতে [ Click This Link ]


৩০ মে ২০১০ এ প্রকাশিত এই পাজলটি প্রথম আলোর ই-পেপারে দেখতে [ Click This Link ]



১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তে প্রকাশিত এই পাজলটি প্রথম আলোর ই-পেপারে দেখতে [ Click This Link ]
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১৭ রাত ৮:১০
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×