নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আজ সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতদিন কমিক্স বুকের হিরোরাই ছিলো তাদের কল্পোনার হিরো। এতদিন কমিক্সের সুপার হিরোদের কস্টিউম ছিলো শিক্ষার্থীদের কল্পোনার সেরা কস্টিউম, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মটা অনেক মূল্যবান। একটি আন্দোলন মনে করিয়ে দিলো আমাদের জাত, আমাদের ক্ষমতা, আমাদের ইচ্ছা, আমাদের আবেগ, আমাদের আত্মবিশ্বাস!
এই আন্দোলনের আগে কখনো মনে হয় না বাংলাদেশের রাস্তায় এ্যাম্বলেন্সের জন্য কনো ইমার্জেন্সি লেন ছিলো বলে। তবে ছাত্ররা আমাদের তা শিখিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশে আইন ১ম শ্রেণীর পাঠ্য বইয়ের থেকেও নিম্ন বলে মনে এতদিন। কিন্তু আন্দোলনের পর বুঝতে পারলাম আইন কি?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পটভূমি থেকে সহজেই জানা যায় যে, এই ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মিটারের এই দেশটা বাংলাদেশ হওয়াতে সব থেকে বড় অবদান, আত্মদান, রক্তোদান কিন্তু ছাত্রদের। অতীতের মর্যাদা ধরে রেখে আজ আবাবরো ১৮ এর ছাত্ররা রাজপথে সফলতম আন্দোলনীয় বিজয়ের ইতিহাস এঁকেছে। ছাত্ররাই যে, এদেশের আসল সত্য আন্দোলনকারী তার বিশাল বড় প্রমাণ হচ্ছে তাদের তৈরী নব নব স্লোগান।
"মাথায় গুলি কর, মেধা নষ্টো হবে।
কিন্তু বুকে গুলি করিস না, এই বুকে বঙ্গবন্ধু আছে।"
"আমার ভাই কবরে,
খুনি কেনো বাহিরে।"
"যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ,
যদি তুমি রুখে দাড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ।"
"We want justice"
এই স্লোগানগুলোই ৭১ অনুসারী ১৮-র ছাত্রদের প্রমান।
এই ছাত্ররা শিখিয়ে দিলো আমাদের দায়িত্ব। এবার বড়দের পালা। বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়ে মালেশিয়া যদি বিশ্বের বুকে নিজেদের দাপট প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তবে আমরা কোনো নয়! কারন, আজকের আন্দোলনটা নিরাপদ সড়ক চাইলেও এই আন্দোলন থেকে মহৎ শিক্ষাটা হলো আমাদের নিরাপদ নেতৃত্ব চাই। ১৬ কোটি মানুষের প্রতিজনই কনো না কনো ভাবে একজন নেতা। তাই সকলে যদি নিজের দিক থেকে সৎ নেতৃত্ব দিতে থাকে তবে বদলে যাবে দেশ। কিন্তু নিরাপদ নেতুত্ব আমরা তখনই পাবো যখন নিরাপদ মানুষের আবির্ভাব ঘটবে এই সমাজে। তাই বলছি আমাদের মেধা নষ্টো করবেন না। আমাদের সুযোগ দেন।
আমরা নিরাপদ মানুষ হইতে চাই, নিরাপদ নেতৃত্ব দিতে চাই, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



