সেদিন এক বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করল আচ্ছা দোস্ত তুই কি মাজার পন্থি?
হঠাত্ তার মুখে এমন আজগবি কথা শুনে একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।
তাকে প্রশ্ন করলামঃ দোস্ত তুই মাজার বলতে কি বুঝাচ্ছিস? কবর তো?
যদি মাজার বলতে তুই কবর বুঝিয়ে থাকিস তাহলে আমি মাজার পন্থি।
কারণ যেহেতু Man is mortal সেহেতু সবাইকে একদিন না একদিন মরতে হবে। আর মরার পর তো সবাইকে কবরস্থই করা হয়। আগে পরে যেহেতু সে ঘরের বাসিন্দা হতেই হবে তাহলে তার বিরুদ্ধাচরণ করে লাভ কি?
বন্ধুঃ আরে নাহ আমি এটা বুঝাই নাই তো। আমি বলতে চেয়েছি মাজার যেয়ারত, মাজার কেন্দ্রিক ইবাদাত এসব আর কি! :-|
আমিঃ মাজার যেয়ারত তো খারাপ কিছু না। আমি যতটুকু বুঝি মাজার যেয়ারত হল মৃত ব্যক্তির মাগফেরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাতে খারাপ কিছু তো আমি দেখি না। আর রসূল (সাঃ) ও তো মৃত ব্যক্তির মাগফেরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।
আর মাজার কেন্দ্রিক ইবাদাত সম্পর্কে আমার মতামত হল
"যারা মাজারে গিয়ে নামাজ পড়ছে তারা কিন্তু মাজারে গিয়েও আল্লাহর একত্ববাদই ঘোষণা করছে। প্রত্যেকবার "আল্লাহু আকবার" বলার সাথে সাথেই ঘোষণা করছে আল্লাহ এক। সমস্যাটা হল Wrong placement.
কারণ প্রত্যেক কাজের জন্য আলাদা আলাদা জায়গা থাকে।
একটা ঘরের কথাই চিন্তা কর! শোয়ার জন্য এক রুম তো বসার জন্য এক রুম। রান্নার জন্য এক রুম তো প্রকৃতিক কাজ সারার জন্য এক রুম।
এখন কেউ যদি রান্না ঘরে গিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারে আর টয়লেটে গিয়ে যদি রান্না করে কাজ কিন্তু সেরে যাবে। কিন্তু যিনি বা যারা ঘরে থাকবেন এবং খাবেন তিনি বা তারা এই কাজগুলো গ্রহণ করবেন কিনা সেটাই হল মূল ব্যাপার।
কাজ কিন্তু হয়ে যাবে।
টয়লেটে গিয়ে রান্না করলে রান্নাও কিন্তু হয়ে যাবে।
বিষয়টা হল গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে।
আর আমি ব্যক্তিগত ভাবে যারা মাজার কেন্দ্রিক ইবাদাত করে তাদের কোন দোষ দেই না। কারণ তারা প্রথম থেকেই জেনে এসেছে ইবাদাত এই স্থানে করতে হয়, এই ভাবে করতে হয়।
এখন ধর একটা শিশু যদি জন্মের পর থেকেই দেখে আসে তাদের বাসায় রান্নাঘরে টয়লেট আর টয়লেটে রান্না করা হয় সে তো তাই শিখবে নাকি?
এখানে দোষ টা হল প্রতিবেশীদের (যারা জানে)।
কারণ হয় তারা কখনো প্রতিবেশীদের খবর নেয় নি, না হয় তারা প্রতিবেশীদের ভালো ভাবে বোঝাতে পারে নি।
তা দোস্ত তুই কোন পন্থি?
বন্ধুঃ আঁই ন জানি বাজি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

