somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২২ঘন্টা পর কবর থেকে উদ্ধার জীবন্ত মানুষ(পর্ব-৪)

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে লোকটি কাজী আবেদ হোসেনের হাতের উপর কাঁপুনি দিয়ে মারা গিয়েছিল তাকেও তিনি ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িতে তুললেন।যদিও দৃশ্যমান ভাবে মনে হয়েছিল লোকটি মৃত তথাপি তিনি ভাবলেন,দীর্ঘক্ষণ মাটির নিচে চাপা থাকার কারণে কোন ভাবে হয়ত সে জ্ঞান হারিয়েও ফেলতে পারে।তাই তাকেও হাসপাতালে নেওয়া জরুরী। তিনি দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ফোন করলেন এবং বললেন,বাসস্ট্যান্ডের কাছে কবর থেকে আমি দু’জন মানুষকে উদ্ধার করেছি এবংমুমূর্ষু অবস্থায় তাদেরকে নিয়ে আমি হাসপাতালে আসছি।হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তারদেরকে তৈরি থাকতে বলুন,অক্সিজেন সিলিন্ডার নীচতলায় নামিয়ে রাখুন যাতে করে আসামাত্রই যেন তাদেরকে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হয়।এদিকে ঘটল মহা বিপত্তি।ইতিমধ্যে এলাকার লোকজন আর বাসস্ট্যান্ড থেকে অনতি দূরে চলা সার্কাসের লোকজনে পুরো আঙ্গিনা এবং সমস্ত পথ ভরে গেল।এবার কাজী আবেদ হোসেন ভাবতে লাগলেন পুলিশ হেফাজতে রাখা মহিলা ৩জনকে কিভাবে রক্ষা করা যায়?যদি জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে মহিলা ৩জনকে আক্রমণ করে কিংবা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে তাদেরকে মেরে ফেলে তাহলে তো সত্যি ঘটনাটা জানা হবে না।তাছাড়া তারা সত্যিকারের অপরাধী কি না তা তখনও পর্যন্ত অজানাই ছিল। তিনি মোহনগঞ্জ থানার ও.সি সাহেব কে বললেন, যেভাবেই হোক মহিলা ৩জন কে দ্রুত বারহাট্টা থানায় নিয়ে যেতে হবে।তিনি আরও বললেন, তাদেরকে খুবই কৌশলের সাথে বারহাট্টা থানায় নিয়ে যেতে হবে।সাধারণ জনগণের সাথে মিলিয়ে তাদের চোখ এড়িয়ে তাদেরকে বারহাট্টা থানায় নিয়ে যেতে হবে।শহরের পথ দিয়ে কোনমতেই যাওয়া সম্ভব হবে না ।তাই গ্রামের ভেতরের কোন বিকল্প পথ দিয়ে তাদেরকে নিয়ে যেতে হবে।ও.সি সাহেব কাজী আবেদ হোসেনের কথামত তাদেরকে খুবই কৌশলের সাথে বারহাট্টা থানায় নিয়ে গেলেন।উৎসুক জনগণ গাড়ির চারপাশে ভীড় করে ছিল আর ভেতরে থাকা মানুষ দু’জন কে উঁকি দিয়ে দেখছিল।তিনি খুব দ্রুত কবরের ভেতরের দিকে উঁকি দিলেন এবং দেখলেন,কবরের ভেতরে একটা মাদুর সুন্দর করে বিছানো রয়েছে। বিড়ির পেছনের কিছু পোড়া অংশ,পাউরুটির অংশ বিশেষ মাদুরের উপর ছড়ানো,ছিটানো ছিল।কবরের ভেতরের সবকিছুই তিনি পুলিশকে বাজেয়াপ্ত করতে বললেন।পুলিশ যখন সব কিছু তাদের হেফাজতে নিয়ে নিয়েছিল তখন তিনি অবাক হয়ে গেলেন কবরের মেঝে দেখে। কবরের মেঝেটা ছিল ঠিক যেন ঘরের দেয়ালের মত মসৃণ।কোথাও এক বিন্দু ময়লা ছিল না।পুরো মেঝে ঝকঝক করছিল।এরপর তিনি জনগণের প্রচন্ড ভীড় উপেক্ষা করে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িতে উঠে পড়লেন। কবর থেকে উদ্ধার করা মুমূর্ষু মানুষ দু’জনকে সাথে নিয়ে তিনি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা করলেন।
(চলবে)

বিঃদ্রঃ[তথ্যসূত্র শেষপর্বে প্রকাশ হবে।]

৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×