somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

বাইতুল্লাহর মুসাফির (পর্ব-৬)

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পবিত্র বাইতুল্লাহর ছাদে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অনিন্দ্য সুন্দর নালা। এটিকে মীযাবে রহমত বলা হয়।

তিনি অনন্যসাধারন একজন
জীবনে কত সালাতইতো আদায় করলাম। আল্লাহ পাক তাওফিক দিলেন। কত জনপদের কত মসজিদে যে পাপে পূর্ন এই মস্তক সিজদায় অবনত হয়েছে তার কি ইয়ত্তা আছে? আল্লাহু আকবার! আমার মালিকের সামনে। আমার রবের সামনে সিজদাহ দেয়ার সৌভাগ্য! আহ, মাঝে মাঝে তো মন বলে ওঠে, এ জীবন যদি একটি সিজদায় কাটিয়ে দিতে পারতাম! আচ্ছা, সিজদায়-সালাতে এত মধুর স্বাদ কেন? প্রিয়তম প্রভূর সবচে' কাছে, সবচে' নিকটে পৌঁছে যায় যে বান্দা তখন! আমারতো মনে হয়, সত্যিকার হুজূরে ক্কলব আর খুশূ' খুজূ' নিয়ে আদায় করা দু'রাকাআত নামাজ হাজার রাকাআত থেকে উত্তম। 'ছল্লূ কামা রআইতুমূনী উছল্লি' 'সেইভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখ' প্রিয়তম রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশমতে এইরকম তরতাজা নামাজ আদায়ের অনুভূতি ভিন্ন! স্বাদ আলাদা! এতে মন-প্রানে প্রশান্তি আসে। হৃদয়ে তৃপ্তি জাগে। প্রাপ্তি-পরিতৃপ্তির ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙে যায় কৃত্রিমতার সকল বাধার প্রাচীর! মালিকের সাথে দিদারের-সাক্ষাতের-মোলাকাতের মাধুর্যে আমোদিত মন বিমোহিত হয়! তাঁর রহমত অবারিত হয়ে ঢেকে দেয় বান্দার পাশ ও পরিপার্শ্ব! জীবনে অনেকবার এরকম ধ্যান-জ্ঞান একাকার করা নামাজ আদায়ের সৌভাগ্য হলেও পবিত্র বাইতুল্লাহর সম্মুখে এইবারই প্রথম। আচ্ছা, প্রিয় রসূলের নামাজ কেমন ছিল? সালাতে দাড়ালে তাঁর অবস্থা কেমন হত? কান্নার তোড়ে বুকের ভেতর ফুটন্ত ডেকচির মত বলক উঠতে থাকার কথা কি আমাদের নামাজে আমরা খুঁজে পাই? প্রিয় নবিজীর সেই দীর্ঘ কিয়াম, ততোধিক দীর্ঘ রুকূ', তারও অধিক দীর্ঘ-দীঘল সিজদাহর কথা কি আমাদের নামাজে আমরা খুঁজে পেতে চেষ্টা করি? চোখের পানিতে কপোল-দাড়ি ভিজে যাওয়া সেই ভেজা-সিক্ত, প্রেমপূর্ন নূরানী নামাজের কোন নমুনা কি আমাদের ভেতরে আমরা তালাশ করি কখনও? আল্লাহু আকবার! বন্ধু, বিশ্বাস করুন, এ বছরের হজ্বের সফরে যারা ছিলেন, তাদের থেকে ইচ্ছে করলে হয়তো জেনেও নিতে পারেন, শুধু একটি মানুষ, হ্যাঁ, একজন ব্যক্তি তিনি, তিনি যতবার যত ওয়াক্ত নামাজে লিড দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, কেঁদেছেন, কাঁদিয়েছেন। প্রতি ওয়াক্তে তাঁর ভরাট কন্ঠে কান্নার নূর মিশ্রিত সেই মধুর ক্কিরাত শোনার প্রতিক্ষায় অপেক্ষমান থাকতাম। তিনি আর কেউ নন। কাবা শরীফের প্রধান ইমাম এবং প্রেসিডেন্ট অফ হারামাইন ৪৮ বছর বয়স্ক ড. আব্দুর রহমান বিন আবদুল আজীজ আস সুদাইস। আল্লাহ পাক তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিন। তার হায়াতে বরকত দান করুন। তার প্রতি বর্ষন করুন রহমতের অফুরান বারিধারা।

এছাড়াও ভাল লেগেছে। প্রান জুড়িয়েছে প্রতি ওয়াক্তের নামাজে যাদের সুমধুর তিলাওয়াত তারা হচ্ছেন- ডেপুটি চীফ অফ ইমাম এট মাসজিদ আল হারাম ড. সাউদ বিন ইবরাহিম আশশুরাইম, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার এবং মসজিদের হারামের ইমাম, ড. আব্দুল্লাহ আওয়াদ আল যুহানী, প্রফেসর এট কিং আব্দু্ল্লাহ সাউদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি এবং মসজিদের হারামের ইমাম, ড. মাহির আল মুআইকালি, জজ অফ দাওয়াহ এন্ড উসূল আদদ্বীন ফ্যাকাল্টি এট উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটি ড. খালিদ আল গামদি, শাইখ সালেহ বিন হুমাইদ, শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ সুবাইয়াল, শাইখ খাইয়াত, শাইখ সালেহ আতত্বালিব, শাইখ ফায়সাল আলগাযাবী, শাইখ আদিল আল কালবানী বারাকাহুমুল্লাহু ফি হায়াতিহিমুল আলিয়্যাহ।

প্রিয় বাইতুল্লাহয় মুআজ্জিন রয়েছেন প্রায় ১১ জন। এর মধ্যে ১৯৭৫ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রবীন সজ্জন ব্যক্তি শাইখ আলী আহমদ মোল্লা চীফ মুআজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন। তার সুললিত কন্ঠের সুমধুর আজানে বিমোহিত হয়ে ওঠে মক্কার পথ-প্রান্তর। এছাড়া ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট মুয়াজ্জিন ড. ইছাম আলী খানের মনোমুগ্ধকর আজানও হৃদয় কেড়েছে প্রতিবার। বাকিদের আজানও অনিন্দ্য সুন্দর। আল্লাহু আকবার। আজান শুরু হলে তার প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পরে মক্কার পাহাড়ে-কন্দরে-ইমারতে-অট্টালিকায়। ইথারের বুক চিড়ে সে আজান হৃদয়ের বদ্ধ অর্গল খুলে দেয়। মন অবচেতনে বলে ওঠে- এ আজান যদি চলতেই থাকতো! চলতেই থাকতো! শেষ ন হত কখনও!

যতটুকু জানতে পেরেছি, পবিত্র কা'বা শরীফে বর্তমানে সম্মানিত ইমাম সাহেবগনের সংখ্যা অনধিক ১২। মাহে রমজানে বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য এ সংখ্যা বেড়ে গিয়ে ১৬ কিংবা ১৭ তে পৌঁছায়। আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের শোকর এবং শোকরিয়া, তাঁর ঘরের মহান এ খাদেমদের কাছে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করার তাওফিক তিনি দয়া করে দিয়েছেন।

এই পর্বেও যুক্ত করা হল প্রিয় বাইতুল্লাহ এবং বাইতুল্লাহ রিলেটেড আরও কিছু ছবি। আশা করি ভাল লাগবে প্রত্যেকের।


প্রিয়তমের ঘরের সুদৃশ্য একটি গেইট।


কা'বা শরীফের ভেতরের অপূর্ব কারুকাজ।


চোখ জুড়ানো নকশায় বাইতুল্লাহর ভেতরের সৌন্দর্য্য।


বাইতুল্লাহর অপরূপ সৌন্দর্য্যের মুগ্ধতা।


প্রিয়তমের ঘরের সুদৃশ্য কারুকাজে নয়ন কেড়ে নেয়া আরেকটি গেইট।


অনাবিল সৌন্দর্য্য। অন্তহীন মুগ্ধতা!


সাফা পাহাড়। এখান থেকে সায়ী শুরু করতে হয়।

সকলের জন্য শুভকামনা, অফুরন্ত দোআ এবং ভাল থাকার কামনা। আল্লাহ পাক পৃথিবীর সকল প্রানীকে ভাল রাখুন।

হামদ এবং সানা পরম প্রিয় মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার জন্য। দরুদ ও সালাম প্রিয়তম রসূল মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রূহের প্রতি। শুরু এবং শেষে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:২০
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রনাথের মন্দির-গুলিয়াখালি সী বিচ-মহামায়া ইকো পার্ক(ভ্রমন ও ছবি ব্লগ)

লিখেছেন অপু দ্যা গ্রেট, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৪




কাজী নজরুল বলেছেন, "আল্লাহ আমাদের হাত দিয়েছেন বেহেশত ও বেহেশতী চিজ চাইয়া লইবার জন্য" । আর মহাপুরষ অপু বলেছেন, " আল্লাহ আমাদের পা দিয়াছেন তার সৃষ্টি সুন্দর এই দুনিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেস্ট পোস্ট

লিখেছেন আর্কিওপটেরিক্স, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৩

আমিই বাংলাদেশ

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:২২

ছবিসূত্র: গুগল.....

আমিই বাংলাদেশ জন্ম আমার উনিশ শ' একাত্তরে,
লাখো শহীদের রক্তে ভেসে ফিরেছি আপন ঘরে।
শেখ মুজিবের হুঙ্কারে আমি ফিরে পেয়েছি প্রাণ,
হাজারো মা-বোন আমাকে ফেরাতে হারিয়েছে সম্মান।
পাক হানাদার দেশি রাজাকার রক্তে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বার বার

লিখেছেন শিখা রহমান, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩৪


ভুমিকম্প হচ্ছে নাকি? শরীর ঝাঁকি দিচ্ছে; সৌম্য ঘুমের চোটে চোখ খুলতে পারেছে না। অনেক কষ্টে চোখ খুলতেই দেখলো একটা ছায়ামূর্তি ওর ওপরে ঝুঁকে আছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মানুষটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রহস্যময় অপু

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৭



বেশ রাত। একটু আগেও রাতের যে কোলাহল ছিল সেটাও এখন থেমে গেছে । মাঝে মাঝে পাড়ার কুকুর গুলো ডেকে উঠছে কেবল । তাড়াছা আর কোন আওয়াজ আসছে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×