
সাম্প্রতিক আরাকান মিয়ানমার নিয়ে অনেক লেখালিখি হয়েছে। গল্প-কবিতা-ফিচার কত যে লেখা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বই পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন অনেকে। সবাই লিখছেন। কিন্তু ফলাফল কি একটুও পাল্টেছে? অবস্থা কি সামান্য পরিমানও বদলেছে? হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের খড়গ কি তাদের মাথার উপর থেকে এক চুলও সরে গেছে? হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন! আমি নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা বলছি! আরাকানের বিপন্ন মানবতার কথা বলছি! বার্মিজ রক্তখেকোদের অত্যাচারের স্টীমরোলারে জর্জরিত নাস্তানাবুদ বিভীষিকাময় এক মৃত্যুকূপের কথা বলছি! রোহিঙ্গাদের নিয়ে লিখতে লিখতে লেখকরাও বোধ করি এখন ত্যক্ত-বিরক্ত-বিতশ্রদ্ধ। এদের নিয়ে লিখলে লাভ হয় কি কোনো? কেউ কি এদের নিয়ে লেখা কোনো ফিচার সংবাদ পড়েন? এদের রক্তের কি দাম আছে কোনো? এরা কি আসলে বাকি সভ্য বিশ্ববাসীর কাছে মনুষ্য প্রজাতির বলে স্বীকৃত?

আমরা আজ আধুনিক দাবি করি নিজেদের। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ছড়াছড়িতে বিশ্ববাসী গৌরব বোধ করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নয়ন আর উতকর্ষতায় পৃথিবী যখন এই গ্রহটিকে উন্নত শিক্ষিত সজাগ জাতি হিসেবে পরিচয় দেয়াকে গর্বের আর গৌরবের বিষয় মনে করছে, তখন অবাক বিস্ময় নিয়ে আমি পৃথীবির দিকে তাকিয়ে থাকি! কর্দমাক্ত এ গ্রহটির দিকে তাকিয়ে এর মানচিত্র বোঝার চেষ্টা করি! উঁচু নিচু অভাজন বিভাজন পরিমাপের প্রচেষ্টায় গলধঘর্ম হই! প্রিয় পৃথিবীর আবাস এই ছায়াপথের পানে তাকাই অবাক বিস্ময়ে! পৃথিবীর গতিপথ নিয়ে ভাবনায় ডুবে যাই! ভাবি, বিভিষিকাময় এ কোন সময় পার করছি আমরা? জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নত সভ্য শিক্ষিত সুসংগঠিত এক জাতিগোষ্ঠি হিসেবে ঘোষনা করছি, তখনো চলছে মর্ত্যের পরতে পরতে আদিম বর্বরতা! আজো সীমান্তে সীমান্তে পাখির মত মরছে মানুষ! বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে হাজারো লাখো মানুষ! ইরাক-আফগান-পাকিস্তান-সিরিয়ায় লাশের নহর! লিবিয়ার মাটি খুড়ে শান্তি কেড়ে নেয়া হয় আটলান্টিকের ওপাড়ে! গোটা ফিলিস্তিন আজও শবমিছিলের শহর! শব মিছিলেও সেখানে গুলি ছুঁড়ে মারে আততায়ী ইসরাইল! মারে ইঙ্গ-মার্কিন জঙ্গিগনও! তবে, তাদের নামে জঙ্গি অপবাদ ওঠে না! জঙ্গি বলতে পৃথিবীতে একমাত্র একটি জাতিই চিহ্নিত! জঙ্গি মানেই মুসলিম! জঙ্গি মদদদাতা মানেই ইসলামী বিশ্ব! ওরা মারলে হয় 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা'! দেশে দেশে মুসলিম যখন বাঁচার আঁকুতিতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরে, প্রতিরোধের অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তখন তাকে বলা হয় 'জঙ্গি'। তাকে বলা হয়, 'উগ্রবাদী'। ইহুদীদের বুলেট আর বুলড্রোজারের আঘাতে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের উপর দাঁড়িয়ে ইসরাইলী দখলদারদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারা বালককে ধরে নেয়া হয়, জঙ্গি ততপরতার অপরাধের শাস্তি দেয়ার জন্য! বালিকা-কিশোরীদেরও নেয়া হয়! তবে, তাদের দিয়ে মেটানো হয় ইহুদী সেনাদের যৌনক্ষুধা! হায়রে মানবতা! হায়রে পৃথিবী! এ কোন্ পৃথিবীর চেহারা দেখছি আমরা আজ!

আজ আরাকানে ছিন্ন ভিন্ন হচ্ছে সভ্যতা! নীরিহ নিরপরাধ মানুষেরা সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে! তারা সব কিছু দিয়ে দিচ্ছে! দিতে বাধ্য হচ্ছে! ইজ্জত দিচ্ছে! আব্রু দিচ্ছে! এবং সবশেষে জীবনটাও! তাদের দিতে হচ্ছে! আমরা অসহায় নেত্রে তাকিয়ে থাকি! তাদের করুন পরিনতি দেখি! নির্মম মৃত্যু দেখি! একটি জাতির একটি সভ্যতার পতন দেখি! একটি এলাকার-একটি লোকালয়ের ধ্বংসাবশেষের করুন বিভতস দৃশ্যপানে তাকিয়ে থাকি! হায় হায় এ দেখার কি কোনো সমাপ্তি-পরিসমাপ্তি আছে!
গৌতম বুদ্ধকে ভালো মানুষ মনে করতাম। এখনও করি। 'অহিংসা পরম ধর্ম', এটা তো সম্ভবত: তাঁরই মুখ নি:সৃত বানী! আহারে, কি সুন্দর মুখরোচক বানী! কত শ্রুতিমধুর সাধু সজ্জনীয় বক্তব্য! আহহা! আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, আর তার অনুসারী মিয়ানমারের বৌদ্ধগন যে পরিমান 'হিংসা' প্রতি দিন, প্রতিনিয়ত জগতকে উপহার দিচ্ছে, ভদ্রলোক তা দর্শনে কেবল নিজের বাড়ি-ঘরই নয়, সম্ভবত: দুনিয়া ছেড়েই চলে যেতেন!
লতা-পাতা আর ঘাস-সবজি খাওয়া প্রানীদের নাকি মাথা ঠান্ডা থাকে! তারা নাকি অন্যের উপরে হামলে পড়ে না! কিন্তু এ কোন্ ঠান্ডা মাথার বুদ্ধ ভক্তদের দেখছে সভ্য পৃথিবী? মহান বুদ্ধের শিক্ষা কি এমনই? খুনখারাবি? রক্তপাত? হত্যাযজ্ঞ? জাতিগত নিধন? অগ্নি সংযোগে বাড়িঘর লোকালয় পুড়ে ছাই ভস্ম করা? শিশুদের হত্যায় মেতে ওঠা? যুবকদের মেরে ফেলা? নারী-কিশোরী-যুবতীদের ধর্ষনের মহড়া দেয়া? গ্রামের পর গ্রামে লুটতরাজ চালিয়ে যাওয়া?


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
