somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

'অহিংসা পরম ধর্ম', আহারে, কি সুন্দর মুখরোচক বানী!

২৪ শে মার্চ, ২০১৮ বিকাল ৩:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সাম্প্রতিক আরাকান মিয়ানমার নিয়ে অনেক লেখালিখি হয়েছে। গল্প-কবিতা-ফিচার কত যে লেখা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বই পর্যন্ত প্রকাশ করেছেন অনেকে। সবাই লিখছেন। কিন্তু ফলাফল কি একটুও পাল্টেছে? অবস্থা কি সামান্য পরিমানও বদলেছে? হত্যা-নির্যাতন-নিপীড়নের খড়গ কি তাদের মাথার উপর থেকে এক চুলও সরে গেছে? হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন! আমি নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা বলছি! আরাকানের বিপন্ন মানবতার কথা বলছি! বার্মিজ রক্তখেকোদের অত্যাচারের স্টীমরোলারে জর্জরিত নাস্তানাবুদ বিভীষিকাময় এক মৃত্যুকূপের কথা বলছি! রোহিঙ্গাদের নিয়ে লিখতে লিখতে লেখকরাও বোধ করি এখন ত্যক্ত-বিরক্ত-বিতশ্রদ্ধ। এদের নিয়ে লিখলে লাভ হয় কি কোনো? কেউ কি এদের নিয়ে লেখা কোনো ফিচার সংবাদ পড়েন? এদের রক্তের কি দাম আছে কোনো? এরা কি আসলে বাকি সভ্য বিশ্ববাসীর কাছে মনুষ্য প্রজাতির বলে স্বীকৃত?



আমরা আজ আধুনিক দাবি করি নিজেদের। বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ছড়াছড়িতে বিশ্ববাসী গৌরব বোধ করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নয়ন আর উতকর্ষতায় পৃথিবী যখন এই গ্রহটিকে উন্নত শিক্ষিত সজাগ জাতি হিসেবে পরিচয় দেয়াকে গর্বের আর গৌরবের বিষয় মনে করছে, তখন অবাক বিস্ময় নিয়ে আমি পৃথীবির দিকে তাকিয়ে থাকি! কর্দমাক্ত এ গ্রহটির দিকে তাকিয়ে এর মানচিত্র বোঝার চেষ্টা করি! উঁচু নিচু অভাজন বিভাজন পরিমাপের প্রচেষ্টায় গলধঘর্ম হই! প্রিয় পৃথিবীর আবাস এই ছায়াপথের পানে তাকাই অবাক বিস্ময়ে! পৃথিবীর গতিপথ নিয়ে ভাবনায় ডুবে যাই! ভাবি, বিভিষিকাময় এ কোন সময় পার করছি আমরা? জ্ঞান বিজ্ঞানে উন্নত সভ্য শিক্ষিত সুসংগঠিত এক জাতিগোষ্ঠি হিসেবে ঘোষনা করছি, তখনো চলছে মর্ত্যের পরতে পরতে আদিম বর্বরতা! আজো সীমান্তে সীমান্তে পাখির মত মরছে মানুষ! বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে হাজারো লাখো মানুষ! ইরাক-আফগান-পাকিস্তান-সিরিয়ায় লাশের নহর! লিবিয়ার মাটি খুড়ে শান্তি কেড়ে নেয়া হয় আটলান্টিকের ওপাড়ে! গোটা ফিলিস্তিন আজও শবমিছিলের শহর! শব মিছিলেও সেখানে গুলি ছুঁড়ে মারে আততায়ী ইসরাইল! মারে ইঙ্গ-মার্কিন জঙ্গিগনও! তবে, তাদের নামে জঙ্গি অপবাদ ওঠে না! জঙ্গি বলতে পৃথিবীতে একমাত্র একটি জাতিই চিহ্নিত! জঙ্গি মানেই মুসলিম! জঙ্গি মদদদাতা মানেই ইসলামী বিশ্ব! ওরা মারলে হয় 'বিচ্ছিন্ন ঘটনা'! দেশে দেশে মুসলিম যখন বাঁচার আঁকুতিতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরে, প্রতিরোধের অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তখন তাকে বলা হয় 'জঙ্গি'। তাকে বলা হয়, 'উগ্রবাদী'। ইহুদীদের বুলেট আর বুলড্রোজারের আঘাতে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষের উপর দাঁড়িয়ে ইসরাইলী দখলদারদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারা বালককে ধরে নেয়া হয়, জঙ্গি ততপরতার অপরাধের শাস্তি দেয়ার জন্য! বালিকা-কিশোরীদেরও নেয়া হয়! তবে, তাদের দিয়ে মেটানো হয় ইহুদী সেনাদের যৌনক্ষুধা! হায়রে মানবতা! হায়রে পৃথিবী! এ কোন্ পৃথিবীর চেহারা দেখছি আমরা আজ!



আজ আরাকানে ছিন্ন ভিন্ন হচ্ছে সভ্যতা! নীরিহ নিরপরাধ মানুষেরা সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে! তারা সব কিছু দিয়ে দিচ্ছে! দিতে বাধ্য হচ্ছে! ইজ্জত দিচ্ছে! আব্রু দিচ্ছে! এবং সবশেষে জীবনটাও! তাদের দিতে হচ্ছে! আমরা অসহায় নেত্রে তাকিয়ে থাকি! তাদের করুন পরিনতি দেখি! নির্মম মৃত্যু দেখি! একটি জাতির একটি সভ্যতার পতন দেখি! একটি এলাকার-একটি লোকালয়ের ধ্বংসাবশেষের করুন বিভতস দৃশ্যপানে তাকিয়ে থাকি! হায় হায় এ দেখার কি কোনো সমাপ্তি-পরিসমাপ্তি আছে!

গৌতম বুদ্ধকে ভালো মানুষ মনে করতাম। এখনও করি। 'অহিংসা পরম ধর্ম', এটা তো সম্ভবত: তাঁরই মুখ নি:সৃত বানী! আহারে, কি সুন্দর মুখরোচক বানী! কত শ্রুতিমধুর সাধু সজ্জনীয় বক্তব্য! আহহা! আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, আর তার অনুসারী মিয়ানমারের বৌদ্ধগন যে পরিমান 'হিংসা' প্রতি দিন, প্রতিনিয়ত জগতকে উপহার দিচ্ছে, ভদ্রলোক তা দর্শনে কেবল নিজের বাড়ি-ঘরই নয়, সম্ভবত: দুনিয়া ছেড়েই চলে যেতেন!

লতা-পাতা আর ঘাস-সবজি খাওয়া প্রানীদের নাকি মাথা ঠান্ডা থাকে! তারা নাকি অন্যের উপরে হামলে পড়ে না! কিন্তু এ কোন্ ঠান্ডা মাথার বুদ্ধ ভক্তদের দেখছে সভ্য পৃথিবী? মহান বুদ্ধের শিক্ষা কি এমনই? খুনখারাবি? রক্তপাত? হত্যাযজ্ঞ? জাতিগত নিধন? অগ্নি সংযোগে বাড়িঘর লোকালয় পুড়ে ছাই ভস্ম করা? শিশুদের হত্যায় মেতে ওঠা? যুবকদের মেরে ফেলা? নারী-কিশোরী-যুবতীদের ধর্ষনের মহড়া দেয়া? গ্রামের পর গ্রামে লুটতরাজ চালিয়ে যাওয়া?

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:১৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×