somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

সকল সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায় শুধুমাত্র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতের প্রতি লক্ষ্য রেখে চললে

০২ রা জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রওজায়ে আতহার সংলগ্ন মসজিদে নববীর পবিত্র চত্বর, মদিনাতুল মুনাওওয়ারা।

সুন্নাতের পাবন্দিতাই সাফল্যের মাপকাঠি:
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। সাইয়্যিদুল আমবিয়া ওয়াল মুরছালীন, খাতামুন্নাবিয়্যিন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের নবী, রাসূল এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া মানবতার শ্রেষ্ঠতম আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণকে আমাদের নাজাত এবং মুক্তির মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। প্রিয় নবীজীর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে ধিকি ধিকি জোনাকির মত আলো বিকিরণ করে যায়। একজন মুমিনের জন্য প্রিয় নবীজীর এই ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে তাঁর জীবনাচার, তাঁর রেখে যাওয়া অনুপম আদর্শ -এই সুন্নাতকে মেনে চলার মাধ্যমে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের জন্য প্রিয় নবীজীর সুন্নাতকে উর্ধ্বে ওঠার সোপান বানিয়ে দিয়েছেন। আমাদের মর্যাদার মাপকাঠি, সাফল্যের চাবিকাঠি করে দিয়েছেন। কুরআন হাদিসের বানীর আলোকে একথা দিবালোকের মত সত্য যে, যার জীবনে যত বেশি সুন্নাতের প্রতি মুহাব্বত রয়েছে, সুন্নাত অনুসারে আমল রয়েছে তিনি তত উন্নত। তিনি তত সফল। তিনি তত বড় সম্মানের অধিকারী। জান্নাতেও তিনি তত উঁচু সম্মানে ভূষিত হবেন। এতবড় দামী সুন্নাত আমলের ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীনতা, অপারগতা এবং কখনো কখনো ব্যর্থতা ব্যথিত করে। আমাদের মানবিক দুর্বলতা, অলসতা ইত্যাদিও এর জন্য দায়ী। আজ সারা পৃথিবীর সকল মানুষ যদি প্রিয় নবীজীর সুন্নাতের ছায়াতলে আশ্রয় নিতেন, পৃথিবীতে একটি মানুষও অভূক্ত ও অনাহারী থাকতেন না। জুলূম অত্যাচারের এই যে সয়লাব গোটা পৃথিবীজুড়ে, সুন্নাতের মহান আদর্শ ধারণ করে পৃথিবীবাসীকে এগিয়ে নিতে পারলে ইনসাফের জান্নাতি পরিবেশ কায়েম হতে পারতো। বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজ পন্ডিত জর্জ বার্নাড’শ এর মন্তব্যটি এক্ষেত্রে প্রনিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন-
“IF A MAN LIKE MUHAMMAD WERE TO ASSUME THE DICTATORSHIP OF THE MODERN WORLD HE WOULD SUCCEED IN SOLVING ALL IT’S PROBLEMS IN A WAY THAT WOULD BRING SO MUCH NEEDED PEACE AND HAPPINESS”

'যদি মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মত কোনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি আধুনিক বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে পারতেন তবে তিনি বর্তমান জগতের সমস্যাবলীর সকল সমাধান টেনে দিতেন। যিনি মানুষের বহু আশা-আকাঙ্খা আর সুখ-শান্তি এনে দিতে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম হতেন।'

আসুন, জেনে নিই সেই সুন্নাত তিনটি:
তো কি এমন আমল যা করতে পারলে অন্যান্য প্রায় সকল সুন্নাত পালন করাই সহজ হয়ে যায় আমাদের জন্য? আজ সে কথাই আলোচনা করার প্রত্যাশা, ইনশাআল্লাহ। মুহাক্কিক আলেম উলামা, সলফে সালেহীন এবং বুজুর্গানে দ্বীন তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ তিনটি এমন সুন্নাত রয়েছে, যেগুলোর উপর আমল করতে পারলে অন্তরে নূর পয়দা হয় এবং এর দ্বারা অন্য সকল সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায়। আর অন্তরে সুন্নাতের প্রতি আমল করার স্পৃহা জাগ্রত হয়।

আলহামদুলিল্লাহ, গুরুত্বপূর্ণ সেই সুন্নাত তিনটি হচ্ছে-

১। সহীহ-শুদ্ধ উচ্চারণে আগে আগে সালাম দেয়া ও সর্বত্র সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানো:
সহীহ-শুদ্ধ উচ্চারণে আগে আগে সালাম দেয়া ও সর্বত্র সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানো। (সহীহ মুসিলম, হাদীস নং ৫৪; সুনানে তিরিমজী, হাদীস নং ২৬৯৯)

জ্ঞাতব্য, السلام (আস-সালামু) এর শুরুর হামযা এবং মীমের পেশ স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে হবে। সালাম এর উত্তর শুনিয়ে দেয়া ওয়াজিব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৬)

২। প্রত্যেক শুভ কাজের প্রারম্ভে ও ভাল স্থানে গমনে ডান দিককে প্রাধান্য দেয়া:
প্রত্যেক শুভ কাজের প্রারম্ভে ও ভাল স্থানে গমনে ডান দিককে প্রাধান্য দেয়া। যথাঃ মসিজেদ ও ঘরে প্রবেশকালে ডান পা আগে রাখা। পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো। এর বিপরীতে প্রত্যেক নিম্নমানের কাজে এবং নিম্নমানের স্থানে বাম দিককে প্রাধান্য দেয়া। যথাঃ মসিজদ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে রাখা, টয়লেটে বাম পা আগে দিয়ে প্রবেশ করা, বাম হাতে নাক পরিস্কার করা, পোশাক থেকে বাম হাত বা বাম পা আগে বের করা। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ১৬৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৫০৪৩; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ৭৯১; সহীহ মুসিলম, হাদীস নং ২০৯৭)

৩। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার যিকির বেশি বেশি করা:
বেশি বেশি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার যিকির করা। (সূরা আহযাব, আয়াত ৪১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১৮৩৯)

বিশেষ করে এই যিকিরগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া চাই-

এক. উপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার, নীচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ এবং সমতল ভূমিতে চলার সময় লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ পড়তে থাকা। (সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ২৯৯৩; সুনানে তিরিমজী, হাদীস নং ৩৩৮৩)

দুই. প্রতিদিন কুরআনে কারীম থেকে কিছু পরিমাণ তিলাওয়াত করা বা কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করা। (সহীহ মুসিলম, হাদীস নং ৭৯১; সহীহুল বুখারী, হাদীস নং ৫০৩৩)

তিন. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর সুন্নাত থাকলে সুন্নাতের পর নতুবা ফরজের পরে তিনবার ইস্তেগফার, একবার আয়াতুল কুরসী, একবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়া। তাসবীহে ফাতেমী অর্থাৎ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল-হামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া। (সহীহ মুসিলম, হাদীস নং ৫৯১; নাসায়ী, আসসুনানুল কুবরা, হাদীস নং ৯৮৪৮; তাবারানী, আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং ৭৫৩২)

চার. সকাল-বিকাল তিন তাসবীহ আদায় করা অর্থাৎ ১০০ বার কালিমায়ে সুওম (সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার), ১০০ বার ইস্তেগফার ও ১০০ বার কোন সহীহ দরূদ শরীফ পড়া। (সহীহ মুসিলম, হাদীস নং ২৬৯২, ২৬৯৫; ইতহাফ ৫/২৭৫)

পাঁচ. প্রত্যেক কাজে মাসনূন দুআ পাঠ করা। (সহীহ মুসিলম, হাদীস নং ৩৭৩; সুনানে তিরিমজী, হাদীস নং ৩৩৮৪)

ফরিয়াদ:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার নিকট ফরিয়াদ, আমাদের জন্য এই আমলগুলোকে তিনি যেন সহজ করে দেন যাতে প্রতিটি সুন্নাতের উপর আমল করার সুযোগলাভে ধন্য হতে পারি আমরা।

ছবি: অন্তর্জাল।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুবোধকে আমরা কি খুব দ্রুত ‘ব্র্যান্ড’ বানিয়ে ফেলছি?

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০১




ঢাকার দেয়ালে একসময় হঠাৎ করেই দেখা দিত একজন মানুষ। নাম তার সুবোধ। পাশে লেখা থাকত ‘হবেকি?’

কে এঁকেছে, কেন এঁকেছে, আবার কোথায় আঁকবে—কেউ জানত না। ওই না-জানাটাই ছিল শিল্পের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপরাধীর বিচার চাই.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

অপরাধীর বিচার চাই.....

যাদের থাকার কথা জেলে তারাই যদি স্বাভাবিক মানুষের মতো সমান অধিকার নিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আদালতে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী যদি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়- সেটা কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি শোক সংবাদ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:০৯



পেটের দায়ে সপরিবার নীলফামারি থেকে কুমিল্লা শহরে এসে,
ব্যাটারি চালিত রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মোঃ শরিফুল ইসলাম;
তিনি এখন মরহুম! স্ত্রী ও ২ কন্যা নিয়ে ছিলেন কোনোরকমে বেঁচেবর্তে।

গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিসাব বিষয়ক ভাবনা

লিখেছেন করুণাধারা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৩



সংখ্যাওয়ালা কোনো লেখা দেখলে হিসাব ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা আমার অভ্যাস। ইদানিং বিভিন্ন রকম সংখ্যাওয়ালা কিছু বিজ্ঞাপন সামনে আসছে, এগুলো ফ্ল্যাট বিক্রির বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে যেসব সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আরেকটা পদ্মা সেতু না বানিয়ে দেশ উন্নয়নের নিনজা টেকনিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৪৫




আগে জানতাম উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ লাগে, চাহিদা অনুযায়ী শিল্প গড়ে ওঠে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় - তারপর দেশের উন্নতি হয়।

কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতা ২.০-এ এসে উন্নয়নের সংজ্ঞাই পাল্টে গেছে।

এখন উন্নয়নের নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×