somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

তুলসী গ্যাবার্ডদের ভণ্ডামি: বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ, কিন্তু ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনে নীরব কেন?

১৮ ই মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
তুলসী গ্যাবার্ডদের ভণ্ডামি: বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ, কিন্তু ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতনে নীরব কেন?



যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বাস্তবতা

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি বাস্তবতার প্রতিফলন, নাকি যুক্তরাষ্ট্রের চিরাচরিত ভণ্ডামির আরেকটি প্রকাশ? বাংলাদেশ সবসময়ই একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। যদিও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ নয় বরং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত অপতৎপরতার ফল। অথচ ভারতের মতো রাষ্ট্র, যেখানে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা রাষ্ট্রীয় মদদে নিপীড়নের শিকার, সে বিষয়ে তুলসী গ্যাবার্ড কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কোনো উদ্বেগ নেই।

ভারতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র

ভারতে গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। বিজেপি সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী নীতির ফলে মুসলমানরা নাগরিকত্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছে, খ্রিস্টান সম্প্রদায় গির্জায় হামলার শিকার হচ্ছে, শিখরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গোহত্যার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, নামাজের জায়গায় বাধা প্রদান এবং ধর্মীয় পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা—এসব ঘটনার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। শুধু তাই নয়, কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে লাখ লাখ মুসলমানের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চবাচ্য নেই। বরং তারা ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ববিরোধিতা

যুক্তরাষ্ট্র সবসময় মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে তাদের অবস্থান অত্যন্ত স্ববিরোধী। তারা যে দেশগুলো তাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উপেক্ষা করে, আর যেসব দেশ তাদের স্বার্থের বাইরে, সেসব দেশকে নানাভাবে চাপে রাখে। উদাহরণস্বরূপ, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যা কিংবা সৌদি আরবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী? তারা কি কখনো এসব নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বা কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে? বরং তারা বরাবরই দখলদার ও দমনপীড়নকারী শক্তির পাশে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বহু বছর ধরে বসবাস করছে এবং সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেই সেটিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে চিত্রিত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর পেছনে বহির্বিশ্বের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রয়েছে, যারা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে, যা মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শের অংশ।

শেষের কথা

যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে বিশ্বের প্রকৃত সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র বিশ্লেষণ করা এবং স্ববিরোধিতা পরিহার করা। শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে চাপে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং ভারতসহ অন্যান্য দেশ যেখানে প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা হচ্ছে, সেদিকে তাদের নজর দেওয়া উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০২৫ সকাল ১০:৪৯
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলাফত টিকে থাকা ও প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি না মানায় খেলাফত টিকে থাকেনি এবং খেলাফত ফিরে আসেনি

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৮



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১



বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই ঘটনায় শুধু একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়নি;... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ক্রিস্টিকে মনে পড়ে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

ক্রিস্টি,
এখন তুমি কেমন আছো, ক্রিস্টি?
কোন ভুবনে বিচরণ করছো তুমি?
কি আছে তোমার মনোলোকে?
কাকে খুঁজে বেড়ায় তোমার দুটো চোখ?
কি ভেবেই বা ক্ষণে ক্ষণে তুমি মুচকি হাসো?

অথচ-
এমনটি তো হওয়ার কথা ছিলনা।
মেধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ১০০ দিন কেমন কাটলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা জুন, ২০২৬ রাত ২:৫৬


যখন এই ব্লগটি লিখতে বসেছি তার কিছুক্ষণ আগেই সংবাদে দেখলাম সরকার বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির খবর এখন আর নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


ঐ এক ঝাক শিশুকে দেখলেই-
মনে পরে আমার শৈশবের কথা;
আমি হারিয়ে যাই, চিরচিনা পথের
ধূলি মাঝে- কতই না স্মৃতি! গুমরে
তুলে আমাকে- যার ভাষা হারিয়ে যায়;
লজ্জাবতীর মতো- মুচকি হাসি ফুরিয়ে
যায় অশ্রুসিক্ত নয়ন-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×