somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ইলন মাস্ক: প্রযুক্তির দিকপাল থেকে ট্রাম্পের বিতর্কিত সহযোগী

০৭ ই এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ইলন মাস্ক: প্রযুক্তির দিকপাল থেকে ট্রাম্পের বিতর্কিত সহযোগী

ছবি, বিবিসি অনলাইন থেকে সংগৃহিত।

ইলন মাস্ক ছিলেন বিশ্বের সম্পদ; উগ্রবাদী ট্রাম্পের অন্যায় কাজের সহযোগী হয়ে পকেটে ঢুকে গেলেন তার। এক সময় বিশ্বের চোখে ছিলেন ভবিষ্যতের নির্মাতা। প্রযুক্তির বিস্ময়, যিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে মহাকাশ যাত্রা পর্যন্ত মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন। কিন্তু সেই মানুষটিই আজ রাজনীতির এক বিতর্কিত চরিত্রে রূপ নিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে—স্বপ্নবাজ উদ্ভাবক থেকে তিনি কি তবে কেবলই একজন রাজনৈতিক সহযোগী হয়ে গেছেন?

প্রযুক্তির রাজপথে যাত্রা

ইলন মাস্কের নাম এক সময়ই ছিল উদ্ভাবন আর সাহসিকতার প্রতীক। তাঁর হাতে তৈরি হয় Tesla, যা বৈদ্যুতিক গাড়িকে আধুনিক সমাজের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিতে রূপ দেয়। এরপর আসে SpaceX—রকেট পাঠানো ও ফিরিয়ে আনার এক বৈপ্লবিক সাফল্য। শুধু প্রযুক্তি নয়, তিনি Starlink-এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পৌঁছাতে চেয়েছেন, আর Neuralink দিয়ে মানুষের মস্তিষ্ক ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এই সবকিছু তাঁকে গড়ে তুলেছিল আধুনিক সময়ের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে।

ধীরে ধীরে রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়া

তবে সব স্বপ্নের শেষ হয় না সৌন্দর্যে। ইলন মাস্ক ধীরে ধীরে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন। শুরুটা হয় ‘ফ্রি স্পিচ’ রক্ষার কথা বলে টুইটার (বর্তমানে X) কিনে নেওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু সেই মুক্তমতের প্ল্যাটফর্মই হয়ে ওঠে উগ্র ডানপন্থীষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসীদের অভয়ারণ্য

তিনি প্রকাশ্যে রিপাবলিকান পার্টির প্রতি সমর্থন জানান, এবং ডেমোক্র্যাটদের “ওক কালচার” ও “উগ্রতা”র সমালোচনা করেন। কিন্তু সবচেয়ে বিতর্কিত হয় তাঁর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন

ট্রাম্পের নির্বাচনী মিথ্যা দাবি, উস্কানিমূলক বক্তব্য, এমনকি ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার মতো ঘটনার পেছনেও ইলন মাস্কের প্ল্যাটফর্ম ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। তিনি ব্যক্তিগত মতামতের স্বাধীনতার আড়ালে এমন অনেক অ্যাকাউন্ট পুনর্বহাল করেন, যারা সমাজে বিভাজন ও ঘৃণা ছড়াতে অভ্যস্ত।

ইমেজে ধস: একজন নায়কের বিতর্কিত রূপ

এক সময়ের 'ভবিষ্যতের প্রতিনিধি' এখন পরিণত হয়েছেন এক বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে। বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনামে এখন আর তাঁর উদ্ভাবন নয়, বরং তাঁর উগ্র রাজনৈতিক মতবাদ, কনস্পিরেসি তত্ত্বে বিশ্বাস, ও ট্রাম্পপ্রীতির কথা বেশি আলোচিত।

যেখানে তিনি একসময় ছিলেন মুক্ত প্রযুক্তির মুখপাত্র, সেখানে এখন X প্ল্যাটফর্মে দেখা যায় ট্রাম্পপন্থী পোস্ট, ঘৃণা ছড়ানো কনটেন্ট, এবং মিথ্যা তথ্যের বন্যা। এক সময়ের এক্সপেরিমেন্টাল উদ্ভাবক হয়ে উঠেছেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক চরিত্রের ছায়া

সামনে কী?

এখন প্রশ্ন হলো—এই রূপান্তর কি চূড়ান্ত? ইলন মাস্ক কি আবারো উদ্ভাবনের পথে ফিরবেন, নাকি রাজনীতির অন্ধকার গোলকধাঁধায় পুরোপুরি হারিয়ে যাবেন?

এটা যেমন তাঁর ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের প্রশ্ন, তেমনি আমাদেরও প্রশ্ন—যখন একজন স্বপ্নবান উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন রাজনীতির হাতিয়ার, তখন নতুন প্রজন্ম কার মধ্যে দেখে আশার আলো?

উপসংহার

ইলন মাস্ক ছিলেন শুধুমাত্র একজন উদ্যোক্তা নয়, ছিলেন একটা সময়ের অনুপ্রেরণা। কিন্তু সেই অনুপ্রেরণা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি আমাদের দেখিয়েছিলেন কীভাবে প্রযুক্তি পারে মানুষকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যেতে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে—তিনি নিজেই হারিয়ে গেছেন এক পুরোনো রাজনীতির খেলায়।

একজন ‘বিশ্ব সম্পদ’ যদি বিভাজনের শক্তির সাথে হাত মেলান, তাহলে মানবতার অগ্রযাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?

সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:৪৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×