somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া সূর্যোদয়ের ছবিটি এআই দ্বারা উন্নত করা হয়েছে।

ইসলামের পবিত্র আলো ওদের চোখে যেন চিরন্তন গাত্রদাহের কারণ। এই মাটি আর মানুষের উন্নয়ন আর আত্মমর্যাদার উজ্জ্বল পথচলা দেখলেই ওদের বুকে অদৃশ্য বিষাক্ত কাঁটা দংশন করে। কুরআনকে ওরা বানোয়াট গল্পের সারিতে বসায়, ঐশীবাণীকে বলে কল্পলোকের নিছক উপাখ্যান। নবী ও রাসূলদের প্রজ্ঞা, যেটি যুগে যুগে মানবতার আলো হয়ে পথ দেখিয়েছে, তা ওরা অবমূল্যায়ন করে শিশুশ্রেণির বাচ্চাদের জ্ঞানের চেয়েও নিচে বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মাধ্যমে। আরব জাতিকে ওরা বেদুইন বলে তুচ্ছ করে, যেন পুরো আরবসভ্যতা মরুর বালুকায় ছুটে চলা কোনো পথহারা কাফেলার চেয়ে বেশি কিছু নয়। ওদের অন্যতম হাস্যকর দাবি, বেদুইনদের নিয়ন্ত্রণ করতেই নাকি আসমানের ফেরেশতা মিথ্যা অহীর আয়োজন করেছিলেন। এমন বিকৃত কল্পনায় ওদের মস্তিষ্কই যেন এক উজাড় মরুভূমি।

দেশের পক্ষে উচ্চারিত একটি বাক্যও ওদের সহ্য হয় না। ধর্মের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান তুললেই ওরা রক্তচক্ষু নিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। জামায়াত, শিবির কিংবা স্বাধীনতাবিরোধী ট্যাগিংয়ে ঝাপিয়ে পড়ে আমাদের মুখ বন্ধ করতে চায়। এই ওরাই এতকাল খুবলে খেয়েছে এই দেশকে। ওদের কারণেই আজ বিধ্বস্ত স্বদেশ। ওদের কাছে মানবতা ও দেশমাতৃকা ধর্ষিতা হয়েছে বারংবার। ওরা সত্য সহ্য করতে পারে না। সে কারণেই আবরারদের সহ্য করতে পারেনি। কারণ, আবরার ফাহাদরা ওদের গোমর ফাঁস করে দিত।

আসলে ওরা এ দেশের স্বাধীনতার উত্তরসূরি কেউ নয়, স্বাধীনতার বুলিকে পুজি করে ওরা শুধু ব্যবসাই করেছে। এদেশের মানুষকে বোকা বানিয়ে শাসন আর শোষনের যাতাকলে পিষ্ট করেছে। দেশের সম্পদ পাচার করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত করেছে। ওরা বরং এ দেশের ভাত খেয়ে অন্যের সুরে নেচে গেয়ে আনন্দিত বোধ করেছে। ঢাকায় বৃষ্টি নামলে ওরা দৌঁড়ে গিয়ে দিল্লীর আকাশে ছাতা ধরতে চেয়েছে। কিন্তু জনগণ ওদের এই কষ্ট বেশিদিন সহ্য করেনি। সসম্মানে ওদেরকে পাঠিয়ে দিয়েছে ওদের কাঙ্খিত ঠিকানায়। ওদের নিঃশ্বাসে ভিনদেশের গন্ধ, কথায় ভিনদেশের স্বপ্ন, হৃদয়ের গভীরে গোপনে লুকিয়ে থাকে অন্য দেশের পতাকার ছায়া।

বাংলাদেশ নিজের শক্তিতে উঠে দাঁড়াক; এটা ওদের গা জ্বালিয়ে দেয়। ওরা চায় না এই জাতি নিজের পরিচয়ে, নিজের মর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। ওদের আকাঙ্ক্ষা, বাংলাদেশও যেন সেই ভিনদেশের করুণার ওপর চিরদিন নির্ভরশীল থাকে, যার ছায়াতলে আজ ওদের মিথ্যুক প্রতারক দলনেতারা লুকিয়ে আছে, সেই অপশক্তির সামনে যাদের ইতিহাসই হলো নতজানু আত্মসমর্পণ। ওরা চায় আমরা ভুলে যাই আমাদের শক্তি, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের স্বাধীনতা।

কিন্তু আমরা থেমে যাবার পাত্র নই। থামবো না কখনও। আমরা এগিয়ে যাবো স্বাধীনতার দ্যুতিময় আলোকে হৃদয়ে ধারণ করে। ধর্মের সম্মান, দেশের মর্যাদা, মানুষের আত্মসম্মান রক্ষার অভিযাত্রায় আমরা দৃপ্ত পদক্ষেপে হাঁটবো। বিভেদের অন্ধকার ভেদ করে আমরা তৈরি করবো ঐক্যের উজ্জ্বল পথ। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আমাদের মুঠোয়, বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শিরায় শিরায়। কোনো বিদেশী অপশক্তির সিন্ধান্তে নয়, কোনো পরাধীন স্বপ্নের শেকলে নয়; আমাদের আগামী নির্মিত হবে আমাদের অদম্য সাহস, আমাদের বিশ্বাস, আমাদের সংগ্রামী চেতনায়।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে নিজের আলোয়; নিজের চেতনায়; নিজের স্বাধীনতার অটল বিশ্বাসের দূরন্ত উদ্দীপনায়। এই অঙ্গীকারই আমাদের পথরেখা। এই পথরেখা অনুসরণ করেই আমরা গড়ে তুলবো আমাদের ভবিষ্যৎ; একটি স্বাধীন, মর্যাদাশীল, মাথা উঁচু বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৮
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'বাবু': একটি শব্দের উদ্ভব ও এগিয়ে চলা

লিখেছেন আবু সিদ, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০৮

'বাবু' আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ। কয়েক শ' বছর আগেও শব্দটি ছিল। বাংলা ভাষাভাষীরা সেটা ব্যবহারও করতেন; তবে তা ভিন্ন অর্থে। 'বাবু' শব্দের উৎপত্তি ও বিবর্তনের ধাপগুলো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শতরুপা

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

তুমি কি কোন স্বপ্ন রাজ্যের পরী?
কিভাবে উড়ো নির্মল বাতাসে?
ঢেড়স ফুলের মতো আখি মেলো-
কন্ঠে মিষ্টি ঝড়াও অহরহ,
কি অপরুপ মেঘকালো চুল!
কেন ছুঁয়ে যাও শ্রীহীন আমাকে?
ভেবে যাই, ভেবে যাই, ভেবে যাই।
তুমি কি কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×