somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুখোশ

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১১ দুপুর ১২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুখোশ
নবারুণ

সুয়েটার আর চাদর দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে ফেললাম। মাফলার জড়িয়ে মুখটাও গোপন করলাম। শুধু চোখ দুটিই অনাবৃত।পায়চারি করছি ইউএসটিসি গেইটের সামনে। কিছু সময় পরপর দুএকটি মোটরযান পাশ কেটে যাচ্ছে।দরোয়ান সন্দেহের দৃষ্টিতে থাকতেই সোজা ফয়েজ লেকের গেইটে চলে আসলাম। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখলাম ইউএসটিসি গেইটের দিকে।মাঝে মাঝে পায়চারী করতে করতে চিন্তা করছিলাম কিন্তু চোখ দুটিকে সতর্ক রাখলাম।

হঠাৎ আমার পেছন দিক থেকে একজন আমার মুখটা চেপে ধরলো। আরেকজন আমার দুই হাত পেছন থেকে বেধে ফেললো। দুজনেই মুখোশ আর জ্যাকেট পরিহিত।নেতা টাইপের লোকটি শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললো, চলো আমাদের সাথে।
কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে রাস্তা একদম ফাকা। মাইক্রোবাসটি ৬০ কিমি বেগে সাই সাই করে ছুটে চললো। পরো শহরবাসী তখন শীতের প্রচণ্ডতায় কুপোকাত। প্রতিটি স্টেশন জনশূন্য। কালো মাইক্রোবাসটি ইউএসটিসি জিইসি মোর হয়ে মুরাদপুর এসে থামলো ।

মিনিট দুয়েক দাড়িয়ে থাকার পর আবার চললো। এবার প্রধান সড়ক নয়, গলি পথে চললো মাইক্রোবাসটি। পাঁচ মিনিটের মাথায় গাড়ি এসে থামলো দুতলা একটি ভবনের সামনে।
নেতা লোকটি আশেপাশে দেখে নামার ইঙ্গিত দিতেই অপর লোকটি আমাকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিলো। আমরা প্রবেশ করতেই দারোয়ান এসে গেইট বন্ধ করে দিলো।

নিচ তলায় চারটি এবং দুতলায় চারটি কক্ষ। আমাকে দুতলার একটি কক্ষে নিয়ে হাতের বাধন খুলে দিলো। বসতে বললো ইশারায়।
সবাই নীরব।আমিও ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব। শুরু থেকেই আমার মুখ দিয়ে একটু কথাও বের হয়নি। এবার বললাম আপনারা কারা? বলা শেষ হতেই নেতা লোকটি ঠোটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকার ইশারা করলো। আমি আর কথা বললাম না।

একটু পর দারোয়ান লোকটি তিন কাপ চা নিয়ে হাজির। ওরা দুজন তখনও মুখোশ পরিহিত। আমি ভাবলাম ওরা এখন চা পানের জন্য মুখোশ খুলবে। কিন্তু আমার ভাবনাকে পাত্তা না দিয়ে ওরা চায়ের কাপ দুটো নিয়ে বেরিয়ে গেলো এবং আমাকে চা শেষ করতে ইশারা করলো। আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে বসে রইলাম।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও কুয়াশায় পুরো শহর ঢাকা পড়েছে। কর্মজীবীরাও যেন হার মেনেছে শীতের কাছে। এমন জমাট বাধা ঠাণ্ডায়ও আমার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে লাগলো। ভয়ে আমি অস্তিত্বই হারালাম। চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়লাম। ওরা কারা? আমাকে কেনো ধরলো? ওরা মুখোশ পড়া কেনো? আমার সামনে মুখোশ খুললোনা কেনো? তাহলে কি ওরা আমার পরিচিত?

একটু পর আমাকে চমকে দিয়ে মুখোশহীন অবস্থায় প্রবেশ করলো ওরা। আমার চোখ তো তখন ছানাবড়া। নেতা টাইপের লোকটি আমার গ্রামের বাড়ির সামাজিক সংগঠন "পাওয়ার বয়েজ" ক্লাবের সভাপতি সাইদুল মামুন। মিনিট দশেক আমি বাকহীন থেকে কথা বলতে চাইলেও আর পারলাম না।



বি দ্র:- ঘটনাটি আমার জীবনে কয়েকদিন আগে ঘটেছিলো। কোনো কল্পকাহিনী নয়। নয় কোনো থ্রিলার।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের বিরুদ্ধে মরণোত্তর মামলা করা হোক।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

আ ন ম সিরাজুর রহমান (১৯৩৪ – ১ জুন ২০১৫) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর বিবিসি বাংলা বিভাগে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছিলেন.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কথা!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর এমপি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ অপ্রত্যাশিত উপহার

লিখেছেন সামিয়া, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪০




সৌদি আরবের রিয়াদের একটা পাঁচ তারকা হোটেলে আমার চাকরি। চাকরিটা খুব কঠিন কিছু না। প্রতিদিন একটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতে নিয়ে হোটেলের কার্পেট পরিষ্কার করি। লবি, করিডোর, হলরুম, অতিথিদের বসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×