মুখোশ
নবারুণ
সুয়েটার আর চাদর দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে ফেললাম। মাফলার জড়িয়ে মুখটাও গোপন করলাম। শুধু চোখ দুটিই অনাবৃত।পায়চারি করছি ইউএসটিসি গেইটের সামনে। কিছু সময় পরপর দুএকটি মোটরযান পাশ কেটে যাচ্ছে।দরোয়ান সন্দেহের দৃষ্টিতে থাকতেই সোজা ফয়েজ লেকের গেইটে চলে আসলাম। তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখলাম ইউএসটিসি গেইটের দিকে।মাঝে মাঝে পায়চারী করতে করতে চিন্তা করছিলাম কিন্তু চোখ দুটিকে সতর্ক রাখলাম।
হঠাৎ আমার পেছন দিক থেকে একজন আমার মুখটা চেপে ধরলো। আরেকজন আমার দুই হাত পেছন থেকে বেধে ফেললো। দুজনেই মুখোশ আর জ্যাকেট পরিহিত।নেতা টাইপের লোকটি শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললো, চলো আমাদের সাথে।
কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে রাস্তা একদম ফাকা। মাইক্রোবাসটি ৬০ কিমি বেগে সাই সাই করে ছুটে চললো। পরো শহরবাসী তখন শীতের প্রচণ্ডতায় কুপোকাত। প্রতিটি স্টেশন জনশূন্য। কালো মাইক্রোবাসটি ইউএসটিসি জিইসি মোর হয়ে মুরাদপুর এসে থামলো ।
মিনিট দুয়েক দাড়িয়ে থাকার পর আবার চললো। এবার প্রধান সড়ক নয়, গলি পথে চললো মাইক্রোবাসটি। পাঁচ মিনিটের মাথায় গাড়ি এসে থামলো দুতলা একটি ভবনের সামনে।
নেতা লোকটি আশেপাশে দেখে নামার ইঙ্গিত দিতেই অপর লোকটি আমাকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিলো। আমরা প্রবেশ করতেই দারোয়ান এসে গেইট বন্ধ করে দিলো।
নিচ তলায় চারটি এবং দুতলায় চারটি কক্ষ। আমাকে দুতলার একটি কক্ষে নিয়ে হাতের বাধন খুলে দিলো। বসতে বললো ইশারায়।
সবাই নীরব।আমিও ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব। শুরু থেকেই আমার মুখ দিয়ে একটু কথাও বের হয়নি। এবার বললাম আপনারা কারা? বলা শেষ হতেই নেতা লোকটি ঠোটে আঙুল দিয়ে চুপ থাকার ইশারা করলো। আমি আর কথা বললাম না।
একটু পর দারোয়ান লোকটি তিন কাপ চা নিয়ে হাজির। ওরা দুজন তখনও মুখোশ পরিহিত। আমি ভাবলাম ওরা এখন চা পানের জন্য মুখোশ খুলবে। কিন্তু আমার ভাবনাকে পাত্তা না দিয়ে ওরা চায়ের কাপ দুটো নিয়ে বেরিয়ে গেলো এবং আমাকে চা শেষ করতে ইশারা করলো। আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে বসে রইলাম।
প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও কুয়াশায় পুরো শহর ঢাকা পড়েছে। কর্মজীবীরাও যেন হার মেনেছে শীতের কাছে। এমন জমাট বাধা ঠাণ্ডায়ও আমার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে লাগলো। ভয়ে আমি অস্তিত্বই হারালাম। চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়লাম। ওরা কারা? আমাকে কেনো ধরলো? ওরা মুখোশ পড়া কেনো? আমার সামনে মুখোশ খুললোনা কেনো? তাহলে কি ওরা আমার পরিচিত?
একটু পর আমাকে চমকে দিয়ে মুখোশহীন অবস্থায় প্রবেশ করলো ওরা। আমার চোখ তো তখন ছানাবড়া। নেতা টাইপের লোকটি আমার গ্রামের বাড়ির সামাজিক সংগঠন "পাওয়ার বয়েজ" ক্লাবের সভাপতি সাইদুল মামুন। মিনিট দশেক আমি বাকহীন থেকে কথা বলতে চাইলেও আর পারলাম না।
বি দ্র:- ঘটনাটি আমার জীবনে কয়েকদিন আগে ঘটেছিলো। কোনো কল্পকাহিনী নয়। নয় কোনো থ্রিলার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


