somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিচ্ছেদনামা

০২ রা নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কলুষিত সমাজে আজ এতো বিচ্ছেদ যে অবাক হওয়ারও সময় পায় না। বিচ্ছেদপত্রে সাক্ষর করা কলম গুলো মনে হয় এ্যান্টি-শেক হয়,সাক্ষর করার সময় হাত একটুও কাঁপে না।আমি ওই কলমের ব্যবচ্ছেদ করে দেখব ভাবছি।
.
সমাজের বড় বিচ্ছেদ গুলো,আধুনিক পরিবারেই বেশি দেখা যায়। কারন দাদা বা দাদী কখনই তাদের সময় কেউ বৃদ্ধাশ্রমে থাকার গল্প বলতে পারেনি,কিন্তু আমরা পারি!!!
.
তাদের সময়কার গল্পে শুনতাম,কান্ত বাসরঘরেই কান্তার মুখ দেখত প্রথম।কিন্তু তবুও তাদের সম্পর্কগুলো যুগ যুগ টিকে থেকেছে কিন্তু আজ আমরা ৩-৪ মাস পরই হাঁপিয়ে উঠছি,সাথে থাকার প্রতিজ্ঞা রাখতে হিমসিম খাচ্ছি।সমাজের দোষ দিয়ে কি লাভ? সমাজে তো আমরাই বাস করি।আমরা যেমন চাইব সমাজ তেমনই হবে,সমাজ যেমন চাইবে তেমন আমার হবো এটা নিশ্চয় কাজের কথা নয়।
.
সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে ঠিকই কিন্তু দেখা যায়,এটাতে দুইজনের কারো না কারো একটু অমত ছিল তবুও সে বলতে পারে না কারন সাথে সুখ পায়নি তাই তো চলে যাচ্ছে আটকে রাখার অধিকার নেই।
দুইজনের কোনো একজন বিষন্নতার সম্মুখীন হবেই,তারা শুনি বেঁচে থাকে "আত্মহত্যা মহাপাপ" এই নীতিবাক্যে।
.
যাকে নিয়ে হাজার বসন্ত পার করার কথা বলেছি,জোছনাবিলাস বা কাশফুল দেখতে যাওয়ার স্বপ্ন বুঁনেছি কিন্তু একদিন এসবও ভাবতে আর ভালো লাগবে না তখন জোছনা টাও বিরক্তিকর লাগবে,কাশফুল ফ্যাকাসে লাগবে।কি অদ্ভুত না!! যার হাতে রেশমি চুড়ি খুবই পছন্দ ছিল,একটা সময় হাতটা ধরতেই কেমন জানি বিব্রতভাব আসবে।তখন বিচ্ছেদ শুরু হয়!!প্রথমে মনে,তারপর তো কাগজেকলমে।
.
যে বাবা ছোট বেলায় আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছে,যে মা দশ মাসের বেশি নিজের মধ্যে আঁগলিয়ে রেখেছিল তাদের সাথে বিচ্ছেদ ঘটছে আজকের এই কলুষিত সমাজে।কি অদ্ভুত না!!
.
.
প্রিয়র সাথে তোলা বিভিন্ন পোজে তোলা সেলফি বা ছবি গুলা মনে হবে ফাউ জায়গা খাচ্ছে,ডিলিট হয়ে যাবে ভাবান্তরেই।কি অদ্ভুত আমরা তাই না!!
.
আসলে সমস্যা আমার আর আপনার মাঝেই,ভালবাসা কখনই শেষ হয় না।প্রতিনিয়ত ভালবাসা উন্মোচিত করতে শিখতে হয়,নতুন করে ভালবাসতে শিখতে হয়।পুরাতন প্রিয়র মাঝে নতুনত্ব খুঁজতে হয়।আগে সে তার নিজের পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করত,আজকাল আপনার পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করছে।এই ছোট্ট একটা বিষয়েও যে অসীম ভালবাসার উপন্যাস আসে সেটা পড়তে হয়।
তবেই না আপনি সামনের মানুষটার কাছ থেকে ভালবাসা প্রত্যাশা করবেন? প্রত্যাশা সাথে সাথে প্রাপ্তি মেলে না,তারজন্য নিছক ভালবাসা আর সাধনা প্রয়োজন হয়।

লেখক:নাঈম আশফাক
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একে একে নিভিছে দেউটি.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০০

একে একে নিভিছে দেউটি.......

আমার পিতৃ-মাতৃকূল এর প্রথম-দ্বিতীয় প্রজন্মের অর্থাৎ, দাদা-দাদী, মা-বাবা, চাচা-চাচী, ফুফা ফুফু এবং নানা-নানি, মামা-মামী, খালা-খালু কেউ বেঁচে নেই। মায়ের একজন চাচাতো ভাই খলিলুর রহমান(চান্দু) স্বাধীনতা যুদ্ধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুরের বাঁধনে গড়া মানুষের মন

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৮

সঙ্গীতের কোন ধারাতেই আমার কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। অনেক ছোটবেলায় আম্মা আমাদেরকে কিছু কিছু কবিতা সুর করে মুখস্থ শোনাতেন। আমরা সেগুলো শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যেতাম। এখনও সেসব সুর করে গাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

আইন প্রয়োগ নাকি অপব্যবহার? রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ঘিরে বিতর্ক

ইমেজ আপলোড ব্লক করে রেখেছে বিধায় এই ব্যবস্থায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছ- আইন কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধের মাঝেই আম্মানে তিন রাত দুই দিন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এয়ারলাইন্স তাদের সময়সূচি পরিবর্তন করায় আমাদের জর্ডানের আম্মানে অনেকটা বিনা পরিকল্পনায় তিন রাত অবস্থান করতে হয়। আমরা যখন কুইন আলিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছাই, তখন প্রায় মধ্যরাত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নারীর ক্ষমতায়নের নামে বাঙালিকে স্রেফ টুপি পরানো হয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৪৩


বাংলাদেশে চেয়ার একটি আধ্যাত্মিক বস্তু। শুধু বসার জন্য নয়, এটি পরিচয়ের প্রমাণ, অস্তিত্বের স্বীকৃতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন। গাড়ি থাকুক না থাকুক, বেতন আসুক না আসুক,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×