
আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে ঘুমাবো, সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। সকাল ৭ টায় এক ছাগলে ফোন দিলো। আমার ঘুম একবার ভেঙে গেলে, আর আসে না। আমার ঘুমের প্রয়োজন আছে। গড়ে রাতে ৫ ঘন্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। একজন মানুষের ৭/৮ ঘন্টা ঘুমানো দরকার। খাওয়া ঘুম মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অগত্যা ফ্রেশ হয়ে বাইরে গেলাম।
রেস্টুরেন্টে গেলাম। রেস্টুরেন্ট ভরা লোকজন। হইচই প্রচন্ড। নেহারি নিলাম। স্বাদ ভালো নয়। রুটি দিয়ে নেহারি খেলাম। শেষে চা। চায়ের মানও ভালো নয়। নেহারি নিয়েছে ১৭০ টাকা। দুটা রুটি ৩০ টাকা। চা এক কাপ ত্রিশ টাকা। ওয়েটারকে দিলাম বিশ টাকা। সব মিলিয়ে ২৫০ টাকা। ছোট বেলা নাস্তা করতে লাগতো ১৫ টাকা। একটা রুটি ছিলো ২ টাকা। এরপর দুই টাকা থেকে হয়ে গেলো ৫ টাকা। এখন ১৫ টাকা। সব যুগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়তির দিকে থাকে। একটা বেনসন সিগারেট হয়ে গেছে ২৩ টাকা!
বাইরে বের হয়ে একটা বেনসন সিগারেট ধরালাম।
আকাশের অবস্থা শরৎ কালের মতোন হয়েছে। এই রোদ, এই মেঘ! আগের বর্ষাকাল এখন আর নেই। সব কিছুর মধ্যে ঘাপলা। আজ আমার কোনো কাজ নেই। সুরভি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেছে। ফিরতে ফিরতে দুপুর একটা বেজে যাবে। মেয়ের জন্য ফল কিনতে হবে। এখন আপেলের কেজি ৪২০ টাকা। কিছুদিন আগেও ২৮০ টাকা ছিলো। মেয়ে বাসায় ফিরেই বলবে, বাবা আজ তুমি আমাকে গোছল করিয়ে দিবে। এবং বিকেলে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে। মেয়ের ঘুরা মানে, তাকে কিছু কিনে দিতে হবে। শেষে বাসায় ফেরার পথে তাকে বড় রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে সে তার পছন্দ মতো খাবার অর্ডার দিবে।
আমার পরিচিত একজন সকালে নাস্তা করেন চা বিস্কুট।
উনি অনেক ভোরে অফিসে আসেন। চা বিস্কুটে আমার পোষাবে না। আমার দরকার ভারী খাবার। বুদ্ধিমান এবং সৃষ্টিশীল মানুষদের ক্ষুধা কম লাগে। আমি বুদ্ধিমান ও সৃষ্টিশীল নই। ক্ষুধা পেলে আমার মেজাজ খারাপ থাকে। মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি। পেট ভরা থাকলে মেজাজ ভালো থাকে। এজন্য আমার যথাসময়ে নাস্তা করা প্রয়োজন। তবে আজকাল আমার কি হয়েছে, ক্ষুধা লাগে না। কিছুই খেতে ইচ্ছে করে না। অনুভব করছি ওজন কমানো দরকার। ডায়বেটিস আছে। ডায়বেটিসের ভয়ে আজকাল কোনো কিছু খেতেও ভয় করে। ফ্রিজ ভরতি চকলেট, খেতে পারি না।
মূলত আমি ছোট বেলা থেকেই হোটেলে নাস্তা করি।
বাসায় নাস্তা খাওয়া হয় না। কেন জানি ঘরের চেয়ে হোটেলের নাস্তাই বেশি ভালো লাগে। সুরভি আবার বাইরের নাস্তা খেতে পারে না। ঘরে নাস্তা করলেও আমি আবার বাইরে গিয়ে নাস্তা করি। ঢাকা শহরের কোন রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ কেমন সেটা আমি জানি। মাঝে মাঝে সুরভিকে খুশি করার জন্য ঘরে নাস্তা করি। সে আফগানি পরোটা বানায়। এই পরোটা একটা খেতে পারলে, দুপুরে আর কিছু না খেলেও চলবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




