somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ফুনফুনা ফুন

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত। মানুষ বাস করতো পাহাড়ের চিয়ায় চাপায়। মানুষ একা না আলাদা থাকতে ভয় পেতো। এজন্য মানুষ একসাথে মিলেমিশে থাকতো। সে সময় আধুনিক জীবন ব্যবস্থা কিছুই ছিলো না। কিন্তু মানুষজন আনন্দ নিয়ে জীবন যাপন করতো। খুন, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ, চাদাবাজি, দূর্নীতি কিছুই হতো না। মানুষ গুলো সহজ সরল মানবিক ছিলো। হিংসা বিদ্বেষ ছিলো না। সবাই একসাথে মিলে আনন্দ নিয়ে বেচে থাকতো। গানবাজনা করতো, নাচতো। ধর্ম ছিলো না। ধর্ম নিয়ে কামড়াকামড়ি ছিলো না।

বিশ্বের অনেক অঞ্চলের মধ্যে মেসোপোটেমিয়া ও মিশরের নীল নদ এলাকা গুলো বেশ জমজমাট ছিলো।
অন্যদিকে উন্নত ছিলো বর্তমান জাপানের 'বিওয়া' অঞ্চলটি। বিওয়া অঞ্চলের মানুষের কোনো অসুখ বিসুখ হতো না। তারা কোনো পশু হত্যা করে মাংস খেতো না। তারা খেতো সবজি। কাচা সবজি। যাইহোক, যীশুর জন্মের আগের ইতিহাস অত্যন্ত চমৎকার। যীশুর জন্মের আগে অনেক মহামতির জন্ম হয়। গৌতম বুদ্ধ থেকে শুরু করে এরিস্টটল। অন্যদিকে আরবের লোকেরা করতো ডাকাতি। জমজমাট অঞ্চল মেসোপোটেমিয়ার রাজা ছিলেন তখন হাম্মুবারি। হাম্মুবারি খুবই রসিক মানুষ ছিলেন। উনি নতুন নতুন নিয়ম চালু করতেন। এলাকার মানুষ তার উপর খুব বিরক্ত। উনি একবার নিয়ম করলেন, সুন্দরী মেয়েরা কোনো জামা কাপড় পরতে পারবে না। তারা কেন সৌন্দর্য ঢেরে রাখিবে!

৬ হাজার বছরের পুরোনো অনেক গল্প আমি জানি।
একটা গল্প আমি বলছি: জবু নামে একলোক আছে। বেশ ধনী। সে আবার ধার্মিক। ধার্মিকদের সমস্যার শেষ নেই। দিনের পর দিন জবু মন খারাপ করে থাকে। তার কিছু ভালো লাগে না। একজন সুন্দর মেয়ের সাথে তার প্রেম হয়। তারা মিলামিশা করে। মেয়েটা গর্ভবতী হয়। নতুন শিশু আসবে জবু খুব খুশি। কিন্তু সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মা এবং সন্তান দুজনেই মারা যায়। এরপর থেকে জবু'র মনে শান্তি নেই। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে অদৃশ্য প্রভুকে গালমন্দ করে। তার দেবতা ছিলো হুবু। হুবু ঘোড়ায় করে মহাশুন্যে ঘুরে বেড়ায়। তার ঘোড়া ধবধবে সাদা। জবুর স্বপ্নে দেবতা হুবু এসেছিল। এবং বলেছিল তোর পুত্র সন্তান হইবে। হ্যা তার পুত্র সন্তান হয়েছিল। কিন্তু জন্মের পর মাত্র তিন মিনিট বেচে ছিল।

জবুর দরবারে একদিন একলোক আসে।
সাথে তার ১৬ বছরের কন্যা। কন্যা অনেক রূপবতী। স্বর্গের দেবীদের মতো। লোকটা দাবী করে সে অনেক জ্ঞানী। জবু বলে, জনাব আপনি কি আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী? বিজ্ঞ লোকটা বলে, পৃথিবীতে আমার চেয়ে জ্ঞানী ব্যাক্তি আর কেউ নেই। আমার আগে জ্ঞানী ব্যাক্তি ছিলেন, বোদ্ধ, এরিস্টটল এবং তার দুই শিষ্য। জবু বলল, আসেন একটা প্রতিযোগিতা করি। দেখি কার জ্ঞান কতটুকু? বিজ্ঞা লোক বলল, ওকে। তার আগে আপনি এবং আপনার কন্যা আমার প্রাসাদে আশ্রয় গ্রহণ করুন। অতিথিদের সেবাযত্ন করা আমার ধর্ম। জবু বলল, জনাব আপনার কন্যা ভীষণ মায়াবতী। মিথ্যা বলব না, আমার স্ত্রীর থেকেও আপনার কন্যা অনেক বেশি রূপবতী। আমি কবি হলে, আপনার কন্যাকে নিয়ে অনায়াসে এক হাজার কবিতা লিখে ফেলতাম।

প্রতিযোগিতায় আয়োজন কর হলো।
আসেপাশে সব এলাকা থেকে লোকজন এলো। চারিদিকে মেলা বসে গেছে। এযেন এক উৎসব! মানুষজন ভেবেছিলো, কুস্তি হবে। জ্ঞানী ব্যাক্তিরা কাজ করে মাথা দিয়ে। শক্তি দিয়ে নয়। জবু বলল, আপনি আমায় প্রশ্ন করেন। বিজ্ঞ লোক প্রশ্ন করলেন, ফুনফুনা ফুন অর্থ কি? জবু তো অবাক! এমন শব্দ সে তার জীবনে শুনেনি। বিজ্ঞ লোক দর্শকদের উদ্দেশ্য করে বলল, আপনারা কেউ পারবেন? সবাই বলল, না আমরা পারিব না। জবু সহ সকলে পরাজয় মেনে নিলো। এবং বলল, আজ থেকে আপনি আমার ওস্তাদ। ওস্তাদ বলেন, আমি আপনার জন্য কি করতে পারি? ওস্তাদ বললেন, তুমি আমার কন্যা ফুনফুনা ফুনকে বিবাহ করো। জবু বলল, কবুল। আচ্ছা, ফুনফুনা ফুন অর্থ কি? অর্থ হলো- প্রচুর আনন্দ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমাধি

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৩৯



ফুরিয়ে গেলেও ফিরে আসা যায় বটে
শুধু মানুষ ফুরিয়ে গেলেই ফেরে না মানুষ।
খুব কাছাকাছি আকাশ;
জানালা খুলে একদিন ছুঁয়ে টের পেলাম-
হায় কৃত্রিম আকাশ!
তাই তো কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সন্ত্রাসী অধ্যাপক ড.ইউনূস!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬


গত সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে৷ এতে দেখা যায়, অধ্যাপক ইউনূসের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×