somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ঘটনা: গত রাতে ঘুমাতে পারিনি

২৩ শে জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল বিকালে চ্যানেল আই'তে খবরের অন্তরালে/ অন্তরালের খবর নামের অনুষ্টানে একটি বাস্তব ঘটনা সামনে তুলে এনেছে ক্ষুদ্র নাটকের মাধ্যমে। অনুষ্টানের নামটা সঠিক মনে না রাখতে পারলেও যে ঘটনাটা উপস্থাপন করা হয়েছে সে ঘটনাটা ভুলতে পারিনি। বার বার মনে পড়ছে আমার সে ঘটনাটা। একটা কাল্পনিক অসহায় চেহারা ভেসে উঠছে চোখের সামনে।

ঘটনাটা এ রকম: মেয়েটির বিয়ে হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল কিন্তু কোন বাচ্ছা হচ্ছেনা এখনো। এ নিয়ে সংসারের লোকজন তাকে নানা ধরনের কথা বলে। এক দিকে তার সন্তান না হওয়ার কষ্ট অপর দিকে স্বামী সংসারের নানা কথা তাকে অতিষ্ট করে তুলে ছিল। সন্তান হওয়ার জন্য সে অনেক জায়গাতে দৌরা দৌরি করেছে কিন্তু কোন ফল হয়নি। ডাক্তার কবিরাজ কিছুই বাকি রাখেনি সে। তবে ডাক্তার বলেছে এরা দোজনেরই বাচ্ছা জন্ম দেয়ার ক্ষমতা নেই। চিকিৎসা করালে বাচ্ছা হতে পারে। কিন্তু সে সময় পর্যন্ত তার শাশুরি এবং স্বামী অপেক্ষা করতে পারছিল না। শাশুরি তার ছেলেকে আরেকটি বিয়ে করার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া মেয়েটির মেজাজ কেমন যেন হয়ে গেল। স্বামীর উপর চরাও হল।

এক পর্যায়ে তালাক দিল তার স্বামী তাকে। পাগলের সাথে নাকি ঘর করা যায় না। তালাক প্রাপ্ত হয়ে সে তার পুরনো বান্ধবীকে খুজে বের করলো। নার্স এর চাকরী করা বান্ধবীকে খুলে বললো এসব কথা। বান্ধবী তাকে সান্তনা দিল। মাতৃত্বের পিপাসায় পিপাসিত মেয়েটির মাথায় কুবুদ্ধি এল। বান্ধবীর কাছ থেকে নার্স এর পোষাক নিয়ে পুরাতন ঢাকার এক বাসায় গিয়ে বাচ্ছার মাকে বললো আপনার বাচ্ছা অসুস্থ। তাকে হাসপাতাল নিতে হবে। বাচ্ছার দাদী আর মেয়েটি রিকসা করে হাসপাতালের সামনে এসে দাদীকে বললো আপনি এখানে অপেক্ষা করুন,আমি এখনই আসছি। সে মেয়েটিকে নিয়ে সেই যে গেল আর আর ফিরলো না। বাচ্ছা হারিয়ে বাচ্ছার পরিবার পুলিশ রিপোর্ট করা সহ নিজেরাও খুজতে লাগলো। হঠাৎ একদিন পেয়ে গেল মেয়েটিকে। পুলিশের কাছে প্রথমে শীকার করতে চায়নি সে বাচ্ছাকে চুরি করেছে। পরে শীকার করেছে। আইন তাকে যাবত জীবন কারাদন্ড দিয়েছে।

নারী ও শিশু বিষয়ক ট্রাইবুননালের এক কর্মকর্তা বলেন, বিচার চলাকালীন মেয়েটি আদালতে বলতো, স্যার আমাকে সাজা দিয়ে দিন। হাজতে পাঠিয়ে দিন। এভাবে এখানে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন আমি বুঝতে পারছি মেয়েটির মনের কষ্ট। কিছুই করার ছিল না আমার। সবছেয়ে বড় কথা হল মেয়েটির স্বামীর পরিবার বা বাপের বাড়ির লোকেরা অর্থবান ছিল, এখনোও আছে। কিন্তু তারা কেউ মেয়েটির জন্য এগিয়ে এলনা। ভাল একজন উকিল নিয়োগ করতে পারেনি সে। জানা গেছে মেয়েটির বাবার বাড়ির প্রাপ্ত সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার জন্যই বাবার বাড়ির কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।

ভদ্র লোকের এই কথা গুলো শুনে খুব খারাপ লাগলো। মনে পড়ে গেল মীর মোশারফ হোসেনের "অর্থ" প্রবন্দটি। আসলেই অর্থই সকল অনর্থের মূল।
এরকম ঘটনায় বলা যায় না দোষটা কার। মেয়েটি সৃষ্টি কর্তা কর্তৃক চিরন্তন সত্যের মুখোমুখি আর বাচ্ছার পরিবার নিজ সন্তান হারানোর ব্যাপার। আইন অবশ্যই প্রমান এর উপর রায় প্রদান করে। মানসিক অবস্তা দেখে না।
মহান আল্লাহর কাছে দোআ, কারো যেন এমন সমস্যা না হয়। চাই তা মেয়ে বা ছেলে। বাবা হবার ক্ষমতা না থাকলে বউয়ের কাপুরুষ বলে গালি আর নিজ পরিবার কর্তৃক হেয় পতিপণ্য হওয়া ছারা সমাজের কথা তো শুনতে হবেই। সর্বোপরি নিজের কাছে নিজেকেই লাগবে ছোট।
মেয়েরা মা হতে না পারলে দেখেছেন তো কি হতে পারে।
মহান আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×