গতকাল বিকালে চ্যানেল আই'তে খবরের অন্তরালে/ অন্তরালের খবর নামের অনুষ্টানে একটি বাস্তব ঘটনা সামনে তুলে এনেছে ক্ষুদ্র নাটকের মাধ্যমে। অনুষ্টানের নামটা সঠিক মনে না রাখতে পারলেও যে ঘটনাটা উপস্থাপন করা হয়েছে সে ঘটনাটা ভুলতে পারিনি। বার বার মনে পড়ছে আমার সে ঘটনাটা। একটা কাল্পনিক অসহায় চেহারা ভেসে উঠছে চোখের সামনে।
ঘটনাটা এ রকম: মেয়েটির বিয়ে হয়েছে প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল কিন্তু কোন বাচ্ছা হচ্ছেনা এখনো। এ নিয়ে সংসারের লোকজন তাকে নানা ধরনের কথা বলে। এক দিকে তার সন্তান না হওয়ার কষ্ট অপর দিকে স্বামী সংসারের নানা কথা তাকে অতিষ্ট করে তুলে ছিল। সন্তান হওয়ার জন্য সে অনেক জায়গাতে দৌরা দৌরি করেছে কিন্তু কোন ফল হয়নি। ডাক্তার কবিরাজ কিছুই বাকি রাখেনি সে। তবে ডাক্তার বলেছে এরা দোজনেরই বাচ্ছা জন্ম দেয়ার ক্ষমতা নেই। চিকিৎসা করালে বাচ্ছা হতে পারে। কিন্তু সে সময় পর্যন্ত তার শাশুরি এবং স্বামী অপেক্ষা করতে পারছিল না। শাশুরি তার ছেলেকে আরেকটি বিয়ে করার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া মেয়েটির মেজাজ কেমন যেন হয়ে গেল। স্বামীর উপর চরাও হল।
এক পর্যায়ে তালাক দিল তার স্বামী তাকে। পাগলের সাথে নাকি ঘর করা যায় না। তালাক প্রাপ্ত হয়ে সে তার পুরনো বান্ধবীকে খুজে বের করলো। নার্স এর চাকরী করা বান্ধবীকে খুলে বললো এসব কথা। বান্ধবী তাকে সান্তনা দিল। মাতৃত্বের পিপাসায় পিপাসিত মেয়েটির মাথায় কুবুদ্ধি এল। বান্ধবীর কাছ থেকে নার্স এর পোষাক নিয়ে পুরাতন ঢাকার এক বাসায় গিয়ে বাচ্ছার মাকে বললো আপনার বাচ্ছা অসুস্থ। তাকে হাসপাতাল নিতে হবে। বাচ্ছার দাদী আর মেয়েটি রিকসা করে হাসপাতালের সামনে এসে দাদীকে বললো আপনি এখানে অপেক্ষা করুন,আমি এখনই আসছি। সে মেয়েটিকে নিয়ে সেই যে গেল আর আর ফিরলো না। বাচ্ছা হারিয়ে বাচ্ছার পরিবার পুলিশ রিপোর্ট করা সহ নিজেরাও খুজতে লাগলো। হঠাৎ একদিন পেয়ে গেল মেয়েটিকে। পুলিশের কাছে প্রথমে শীকার করতে চায়নি সে বাচ্ছাকে চুরি করেছে। পরে শীকার করেছে। আইন তাকে যাবত জীবন কারাদন্ড দিয়েছে।
নারী ও শিশু বিষয়ক ট্রাইবুননালের এক কর্মকর্তা বলেন, বিচার চলাকালীন মেয়েটি আদালতে বলতো, স্যার আমাকে সাজা দিয়ে দিন। হাজতে পাঠিয়ে দিন। এভাবে এখানে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। তিনি আরো বলেন আমি বুঝতে পারছি মেয়েটির মনের কষ্ট। কিছুই করার ছিল না আমার। সবছেয়ে বড় কথা হল মেয়েটির স্বামীর পরিবার বা বাপের বাড়ির লোকেরা অর্থবান ছিল, এখনোও আছে। কিন্তু তারা কেউ মেয়েটির জন্য এগিয়ে এলনা। ভাল একজন উকিল নিয়োগ করতে পারেনি সে। জানা গেছে মেয়েটির বাবার বাড়ির প্রাপ্ত সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার জন্যই বাবার বাড়ির কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
ভদ্র লোকের এই কথা গুলো শুনে খুব খারাপ লাগলো। মনে পড়ে গেল মীর মোশারফ হোসেনের "অর্থ" প্রবন্দটি। আসলেই অর্থই সকল অনর্থের মূল।
এরকম ঘটনায় বলা যায় না দোষটা কার। মেয়েটি সৃষ্টি কর্তা কর্তৃক চিরন্তন সত্যের মুখোমুখি আর বাচ্ছার পরিবার নিজ সন্তান হারানোর ব্যাপার। আইন অবশ্যই প্রমান এর উপর রায় প্রদান করে। মানসিক অবস্তা দেখে না।
মহান আল্লাহর কাছে দোআ, কারো যেন এমন সমস্যা না হয়। চাই তা মেয়ে বা ছেলে। বাবা হবার ক্ষমতা না থাকলে বউয়ের কাপুরুষ বলে গালি আর নিজ পরিবার কর্তৃক হেয় পতিপণ্য হওয়া ছারা সমাজের কথা তো শুনতে হবেই। সর্বোপরি নিজের কাছে নিজেকেই লাগবে ছোট।
মেয়েরা মা হতে না পারলে দেখেছেন তো কি হতে পারে।
মহান আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুক।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






