
Cat: Where are you going?
Alice: Which Way Should I go?
Cat: That depends on where you are going?
Alice : I do not know.
Cat: Then It does not matter which way you go.
—Louis Caroll
Politicians are like bad horsemen who are so
preoccupied with staying in the saddle they can’t bother
about where they are going.
—Joseph A. Schumpeter
জনৈক রসিক ব্যক্তি সংস্কারকে ব্যভিচারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো, ‘যারা ব্যভিচার করে, তারা কখনো এ সম্পর্কে উচ্চবাচ্য করে না। যারা পারে না, তারাই এ নিয়ে ফড়ফড় করে। যারা সংস্কার করে, তারাও এ নিয়ে বড়াই করে না; যারা সংস্কার করতে পারে না, তারাই এ সম্পর্কে হইচই করে।’ নৈতিক দিক থেকে সংস্কার ও ব্যভিচারের মধ্যে কোনো মিল নেই। ব্যভিচার গর্হিত আর সংস্কার হলো বাঞ্ছিত। তবু ব্যভিচার ও সংস্কার দুটোই হলো সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত অপ্রিয়। এ ধরনের অপ্রিয় কাজ লুকিয়ে সারতে পারলে ভালো হয়, হইচই করে করতে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়।
সংস্কার শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘পতিত অবস্থা থেকে মুক্তি’। বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন হয় না, সেখানেই অধঃপতন দেখা দেয়। ব্রিটিশ দার্শনিক এন্ডমুন্ড বার্ক যথার্থই বলেছেন, ‘A state without the means of some change is without its means of conservation’। যেকোনো রাষ্ট্রকে বেঁচে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। তাই রাষ্ট্রকাঠামোতে সময় সময় পরিবর্তন অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।
অত্যাবশ্যক হলেও সংস্কার সহজে অর্জিত হয় না। প্রতিটি রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে থাকে। যেকোনো পরিবর্তন হলে কোনো না কোনো স্বার্থগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাদের স্বার্থ বিঘ্নিত হয়, তারা পরিবর্তন ঠেকানোর জন্য মরণপণ সংগ্রামে লিপ্ত হয়।১ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাঁরা সংস্কারের ফলে লাভবান হন, তাঁরা সংস্কার বাস্তবায়নের ফলে যে তাঁদের লাভ হবে, তা নিজেরাও জানেন না। তাই সংস্কারের পক্ষে শক্তি থাকে অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল। সংস্কার নিয়ে যত ফড়ফড় করা হয়, তার এক অতি ক্ষুদ্র অংশের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
পৃথিবীর কোনো দেশেই শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি শুদ্ধ নয়। সব সংস্কার বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। উপরন্তু সব সংস্কার বাস্তবায়ন করলেও শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি শুদ্ধ হবে না; কেননা, সংস্কারের ফলাফল সব সময় বাঞ্ছিত হয় না। অনেক সময় সংস্কারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সংস্কার রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ঠিকই কিন্তু কোনো দিনই রাষ্ট্রকে ‘সব পেয়েছির দেশে’ রূপান্তর করতে পারবে না।
প্রশ্ন হলো, অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সব সময় সংস্কার অত্যাবশ্যক নয়। বাংলাদেশে বিগত দশকগুলোতে রাজনীতি ও অর্থনীতি উল্টো পথে চলছে। সুশাসনের অধোগতি সত্ত্বেও মাথাপিছু আয় প্রায় কয়েক গুণ বেড়েছে এবং মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে গেছে। যদি এত দিন সংস্কার ছাড়াই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়, তবে আদৌ সংস্কারের ঝক্কি-ঝামেলার প্রয়োজন রয়েছে কি?
এই লেখায় আমার নিজস্ব কিছুই নাই। তারপরও এসব নিয়ে লিখতে ইচ্ছে হয়। বিগত ১৮ মাসে নো-বেল ও খালি রিয়াজরা অনেক সংস্কারের ধ্বজা উড়িয়েছেন, যা নিয়ে ব্লগের অনেক তল্পিবাহক পোস্টের বন্যা বইয়েছেন। তাদের জন্য উৎসর্গিত এই কপি-পেস্ট পোস্ট। প্রয়োজনে আরও পর্ব আসবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





