somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুদ্ধ ও বিজ্ঞানের মৌলিক স্মৃতি

২৩ শে মার্চ, ২০১৮ দুপুর ১২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উদয়ঃ
এক মহাবিষ্ফোরণ - বিগব্যাঙ। সূর্য হতে অসংখ্য ছিটকে পড়া বিগলিত লাভা খণ্ড যার যার অবস্থানে স্থির হয়ে আছে মাধ্যাকর্ষণ-শুণ্য মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডে। সহস্র আলোকবর্ষের পরিক্রমায় অগ্নিকুণ্ডগুলো ঠান্ডা হতে থাকে। তাদেরই এক খণ্ডানুর নাম - পৃথিবী। উত্তপ্ত এই অগ্নিকুণ্ড হতে অনবরত নির্গত হতে থাকা বাস্প মাহাশুণ্যের কোনে সৃষ্টি করছে মেঘ। ঝরে এসেছে মেঘ আবারো পৃথিবীতে, নানান খাদে জমেছে জল। সম্পূর্ণ প্রাণশূন্য এক মরভূমি, চারদিকে কলজে হু হু করা নিরবতায় শুনশান। এভাবে হঠাত একদিন কি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটে। জলে পরমাণুজাত হয়ে সৃষ্টি হয় পৃথিবীর এক নতুন আগন্তুক এককোষী সদস্য। আধুনিক বিজ্ঞান সে আদিজীবের নাম দেয় - এমিবা। হাহাহা....! কি অবাক করা কাণ্ড হে! এই প্রথম পৃথিবী নামক গ্রহে জীবন্ত সদস্য এসেছে মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে অবাক করে দিয়ে। সে ক্ষুদে ক্ষুদে নড়েচড়ে। এই আণুবীক্ষণিক আদিজীবই পৃথিবী সর্বপ্রথম জীব। হ্যা, সে এসেছিলো বলেই আজকে আমরা এসেছি। নাহয় এই মহাজগতই প্রাণহীন থেকে যেতো। ক্রমে সে অণুজীব বৃদ্ধি পায়, অবয়ব পরিবর্তন হয়। লক্ষ বছরের আবর্তনে হয় বিবর্তন। জলজ হতে বিবর্তন হয় স্থলে। কী অদ্ভুত তার লীলা। সে এককোষী হতে আসে প্রাগৈতিহাসিক ডায়নোসর যুগের বিকটকায় জীব। আধুনিক যুগে যার ফসিল উদ্ধার হচ্ছে। এমন যে আরো কতো জীব ছিলো জানা নেই। সেসব প্রাণীগুলোর বিবর্তন হতে হতে আজকের এই আধুনিক মানুষ। মানুষ তো আর শুণ্য হতে আসে নি। সেই কোটি বছর পূর্বের আদিজীব এমিবা, সে ই তো আমাদের আজকের জীবসত্ত্বার দাতা। এবং সেই লক্ষ-কোটি বছর পূর্বের ন্যায়, আগামী লক্ষ-কোটি বছর পর এই পৃথিবী নামক গ্রহটি যদি থাকে, এই দেহাবয়ব বিশিষ্ট মানবের বিবর্তিত রূপ কী যে হতে পারে তা ভাবতেই আশ্চর্য হচ্ছি। জীবের কিভাবে যে কত বিবর্তনে পরিবর্তন হয় তা বিজ্ঞান না থাকলে হয়তো জানতামই না আমরা।

বিলয়ঃ
আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত প্রকৃতির একটি সত্য হল "পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে যে পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত ছিল তার কাছে, এখনও তা একই পরিমাণেই স্থিত আছে, শুধু তার রূপ পরিবর্তীত হচ্ছে"। পদার্থবিজ্ঞান যাকে "নিত্যতার সুত্র" বলে। অর্থাৎ, প্রতি নিয়তই সকল সৃষ্টির পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে, যার মান প্রাকৃতিকভাবেই অপরিবর্তনীয় রয়েছে। অতএব সৃষ্টিলগ্ন থেকে আজ অবধি এই শক্তির শুধু রূপ পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু শক্তির মান ০ (শুণ্য)ই থেকে গেছে। শুণ্য থেকে কমছে না বা মাইনাস হচ্ছে না, একইভাবে তা বড়ছে না বা প্লাসও হচ্ছে না। শক্তির মান ধ্রুব ০ (শুণ্য)ই স্থিত। যাকে মধ্যমস্থিতি বা মধ্যম অবস্থান বললে কিঞ্চিত অর্থের পার্থক্য ঘটে না। মহাবিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই "স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি বা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি বা মধ্যম নিত্যতা"কে ২৫০০ বছর পূর্বের আদিজ্ঞানী বুদ্ধ "মধ্যম পন্থা" বলে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু তখন কোনও বিজ্ঞানী ছিল না আজকের মত, ছিল না কোনও গবেষণাগার। বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো এই ভবঘুরে কিন্তু ঠিকই এ মহাসত্যকে আবিষ্কার ও অনুভব করেছেন। এবং তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এই মধ্যম মহাসত্যকে মানুষ অনুভব ও ব্যবহারিক জীবনে চর্চা করলে তাদের মাঝে শান্তি ফিরে আসে, মানুষ আর চরমপন্থায় উদ্যত থাকে না, প্রকৃতির সন্তানকে প্রকৃতির সাথে এভাবেই পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বুদ্ধ। মহাপ্রকৃতির এ পরিবর্তন ধর্মকে তিনি "প্রতিত্য-সমুৎপাদ বা ক্ষনিকবাদ" তত্ত্বে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই ক্ষণ-পরিবর্তনশীল জগতের কোনোকিছুই আগের মত থাকে না। বুদ্ধ ও বিজ্ঞানের ভাষায় এই "ধ্বংস-সৃষ্টি বা উদয়-বিলয়" চলমান মহাপ্রকৃতির মহাসত্য হল সে "অনিত্য"। যেখানে এসে বুদ্ধ ও বিজ্ঞান একাত্ম-একাকার হয়ে যায়, যা মানব ইতিহাসের অবিস্মরণীয় স্মৃতি হিসেবে তোলা থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:০৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×