
আকাশ কাঁদছে। গুমড়ে-গুমড়ে। ক্ষণে-ক্ষণে। থেমে-থেমে। টুপ-টাপ কোলাহল। কি এক অব্যক্ত ব্যাথা তার বুকে সে খবর কেউ জানে না। প্রকৃতি শান্ত, নিঝুম। যেন আকাশের ব্যাথায় প্রকৃতিও ব্যাথিত। পরী আলতো করে চোখের কোণ'টা মুছলো। তাঁর চোখও আকাশের মত ক্ষণে ক্ষণে ভেসে যাচ্ছে অশ্রুর বন্যায়। চোখের কোণে মুক্তোর মত অশ্রুবিন্দু চিক-চিক করছে। অসহ্য এক যন্ত্রনায় ভেঙ্গে যাচ্ছে পরী'র বুক।
আস্তে করে কলমটি হাতে নেয় পরী। লিখতে থাকে- 'প্রথম প্রহর কেঁটে গ্যালো যাচ্ছে-তাই ভাবে। দ্বিতীয় প্রহরে ঝড়ে পড়বো নাতো? কেউ কখনো আমাকে বুঝতে পারেনি; নাকি বুঝতে চায়নি তার উত্তর আমি জানি না। আমার অসহায়তা, আমার যন্ত্রণাগুলোকে মানুষ কপট ভেবেছে। বিধাতা কি মনে করে আমাকে এভাবে গড়েছেন, সেটি তিনিই জানেন। আমার বড় ইচ্ছে করে জানতে। কিন্তু সেটি যে সম্ভব নয় আমি জানি। তখন যন্ত্রণাগুলো সমস্বরে মিছিল শুরু করে।
কাল থেকে জীবন সম্পূর্ণ নতুন এক যাত্রা শুরু করবে'- এটুকু লিখে চুপ করে বসে থাকে পরী। সঙ্গী শুধু চোখভর্তি পানি। কিছুক্ষণ পর চোখ মুছে আবার লিখতে শুরু করে- 'যাচ্ছি, নতুন এক জগতে- অচেনা মানুষ, অচেনা পরিবেশ, অজানা জীবন! এ এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা। কত শত নতুন মুখ, নতুন বন্ধন, সম্পর্কের কত টানাপোড়েন।
আমি কি পারবো তাল মেলাতে? সবাই আমাকে বুঝতে পারবে তো? আমার অনিচ্ছাকৃত অপারগতা, আমার আন্তরিকতা, আমার বুক নিংড়ানো ভালবাসা যদি সবাই অভিনয় ভাবে তখন বাঁচবো কি করে? আর যাকে নিয়ে এই সূচনা সে আমাকে বুঝবে তো? নিজেকে শুধু প্রশ্ন করে যাই কিন্তু একটি প্রশ্নের উত্তরও আমার জানা নেই'।
পরী লেখা বন্ধ করে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায়। তখনও কেঁদে চলেছে আকাশ। অনিমেষে। পরী সঙ্গী হয় আকাশের। আকাশের সাথে পরী'ও কাঁদে।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


