somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লংমার্চ নাকি ‘ফোর-হুইল ড্রাইভ’—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম!

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলের আজকের লংমার্চ—ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা। শুনে মনে হলো, ইতিহাস বুঝি আবার হাঁটতে শুরু করেছে!

কর্মসূচির ছয় দফার মধ্যে আছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

দাবিগুলোর মধ্যে শেষের চারটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্যান চলে না, গ্যাস না থাকলে চুলা জ্বলে না, দ্রব্যমূল্য বাড়লে বাজারের ব্যাগ হালকা হয়ে যায়, আর আইনশৃঙ্খলা খারাপ হলে মানুষ দরজা-জানালা বন্ধ করেও নিশ্চিন্ত হতে পারে না।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই লংমার্চে সেই সাধারণ মানুষ কোথায়?

কর্নেল অলি সাহেব বলেছেন, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নাকি এই কর্মসূচির সমর্থনে আছে। কথাটা শুনে মনে হলো, পরিসংখ্যানেরও বুঝি একটা আত্মসম্মান আছে!

দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ যদি সত্যিই পথে নামত, তাহলে শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাস্তা হয়তো মানুষের ঢলে এমনিতেই অচল হয়ে যেত। আপাতত অবশ্য দৃশ্যপটটা অনেকটা এমন—রাজনীতি আছে, নেতা আছেন, কর্মী আছেন; কিন্তু ‘সাধারণ মানুষ’ নামের সেই রহস্যময় চরিত্রটি কোথায়, সেটাই খুঁজে দেখা দরকার।

জোট বলছে, এটি সরকার উৎখাতের কর্মসূচি নয়; দাবি আদায়ের কর্মসূচি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ।

বিএনপির রুহুল কবির রিজভীও বলেছেন, লংমার্চ বিরোধী দলের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এর মাধ্যমে যেন পরিকল্পিত অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয়, সেই সতর্কতাও দিয়েছেন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সংসদে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই—এক দল লংমার্চ করে, আরেক দল তার গণতান্ত্রিক অধিকার স্বীকার করে, সঙ্গে ট্রাফিক জ্যামের সম্ভাবনাটাও মনে করিয়ে দেয়!

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ মন্তব্যটি এসেছে এনসিপির নাহিদ ইসলামের কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, লংমার্চে বাধা দেওয়া হলে ছয় দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে।

২০২৪ সালের ‘এক দফা’র রাজনৈতিক অভিঘাতের পর হয়তো ‘এক দফা’ শব্দটির প্রতি আলাদা এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, ছয় দফা যেন শুধু অপেক্ষা করছে—কখন তাকে এক দফায় নামিয়ে আনা হবে!

আরেকটি বিষয় না বললেই নয়—‘লংমার্চ’ শব্দটিরও কিন্তু একটা ইতিহাস আছে।

চীনের ঐতিহাসিক লং মার্চ বিশ্বরাজনীতিতে একটি প্রতীক হয়ে আছে। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা বাঁধের প্রতিবাদে রাজশাহী থেকে কানসাট পর্যন্ত যে ঐতিহাসিক লংমার্চ করেছিলেন, সেখানে ছিল মানুষের পায়ে হাঁটার কষ্ট, মাটির সঙ্গে মানুষের সরাসরি সংযোগ এবং দাবির প্রতি জনসম্পৃক্ততা।

আর আজকের লংমার্চ?

নেতা-কর্মীরা গাড়িতে, কেউ প্রাডোতে, কেউ অন্য কোনো চার চাকার বাহনে।

সময় বদলেছে। প্রযুক্তি এগিয়েছে। রাজনীতিও আধুনিক হয়েছে।

আগের লংমার্চ ছিল পদযাত্রা।

আজকের লংমার্চ—ফোর-হুইল ড্রাইভ!

ইতিহাসে মানুষ হেঁটেছে মাইলের পর মাইল; আধুনিক রাজনীতিতে মানুষ হাঁটে গাড়ি পর্যন্ত, তারপর গাড়িই হাঁটে মানুষের হয়ে!

তাই আপাতত প্রশ্ন একটাই—এটি কি সত্যিকারের জনসম্পৃক্ত লংমার্চ, নাকি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রাজনৈতিক ‘রোড ট্রিপ’?

শেষ পর্যন্ত লালদীঘির সমাবেশে কত মানুষ আসে, সাধারণ মানুষের কতটা অংশগ্রহণ থাকে এবং ছয় দফার কোন দফা নিয়ে বাস্তব জনমত তৈরি হয়—সেটিই আসল পরীক্ষা।

কারণ রাজনীতিতে মিছিলের গাড়ি গোনা সহজ, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে জায়গা হয়েছে কতটা—সেটা গোনার কোনো ওডোমিটার এখনো আবিষ্কার হয়নি।

তাই আজকের অপেক্ষা—
লংমার্চ শেষ হবে, নাকি ‘ফোর-হুইল ড্রাইভ’ রাজনীতির নতুন কোনো মাইলফলক তৈরি হবে?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×