somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কথা ও কলম

১১ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি তখন, যতদূর সম্ভব, ক্লাস ১০ এ পড়ি। আমাদের বাংলা বইটা তখন আমার খুব মনে ধরেছিল। অথবা আমাদের সেলিমা ম্যাডামের জন্য হয়তো সেটা নিয়ে একটু বেশিই সময় কাটাতে হতো। যেটাই হোক, বাংলা বইটা নিয়ে অনেক সময় পার করতে বাধ্য হই। সেখানে গদ্য ভাগে একটা প্রবন্ধ ছিল। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রচনার শিল্পগুণ’। সেখানে একটি কথাকে কিভাবে সবার বোঝার উপযোগী করে এবং কিভাবে সেটিকে সাবলীল করে লিখা যায় সেটা নিয়ে নানা রকম কথা লেখা আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে যে প্রবন্ধটা আমার লেখালেখির মান বেশ খানিকটা উন্নত করেছে। তবে আমি সেরকম বড় কোন লেখক না। আমি আসলে কোন লেখকই না। আমার বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে ধারণা খুবই নগণ্য। মনের শখে কিছু লেখকের বই পড়ি আর কি। এদের মাঝে বেশির ভাগ বই-ই প্রতিষ্ঠিত ও উন্নতমানের অভিজ্ঞ লেখকের। তবে এমন না যে আমি নতুন লেখকদের বই পড়ি না। পড়ি; কিন্তু মজা পাই না।
কথা সামনে নিয়ে যাওয়ার আগে কিছু কথা বলে রাখা ভাল। কারন আমি একেই তো কোন লেখক না। তার উপর আমার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন আসতে পারে। তাই আমার মনে হয় যে আমার অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও কিছুটা তথ্য এখানে তুলে ধরা উচিত। এটা তুলে না ধরলে হয়তো আমার পরের সব কথাই বৃথা হবে আর নব্বই শতাংশ পাঠক বাকিটুকু না পড়েই চলে যাবেন।
আমি বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য পাব্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের (Literature) এর ছাত্র। আজ আমি যে বিষয় নিয়ে কথা বলতে যাব, সেটা আমার মাথায় আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগেই এসেছে। কিন্তু তখন আমার কাছে সাহিত্য বলতে আসলে কি বোঝায়, সেটাই জানা ছিল না। এখন বলতে দ্বীধা নেই কারন এখন আমার হাতে সব প্রশ্নের উত্তর আছে। যাই হোক, আপনাদের মাঝে অনেকেই বলতে পারেন,
“আপনি ইংরেজি সাহিত্যের সাথে বাংলা সাহিত্যের তুলনা করছেন?”
আমি বলবো, “জ্বী, করছি। কারন বাংলা একা একাই আসেনি। এর সাংগঠনিক রূপ কোন বাঙ্গালীর হাতে হয়নি। সর্ব প্রথম বাংলা ব্যকরণ লিখেন Manuel da Assumpção (1743)। ইনি একজন পর্তুগীজ মিশনারি। এছাড়াও ইংরেজিতে পন্ডিত হয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাকে নতুন দীক্ষা দিতে পারলে আমি কেন পারবো না। আর যাই বলুন না কেন, আমিও তো বাংলার উন্নতিই চাই। আমার লক্ষ্য একজন ভাল লেখক হওয়া না, কিছু ভাল লেখক বানিয়ে যাওয়া।

এবার আসি আসল কথায়। আমাদের দেশে লেখকের অভাব নেই। কিন্তু এসব লেখকদের কিসের অভাব, যে তাদের নাম মানুষের মুখে আসে না? কেন একজন নতুন লেখকের প্রথম লেখা মনে ধরে না? একেবারেই যে মনে ধরে না, তা কিন্তু না। তবে কোন আড্ডা দিতে বসে যে বন্ধুদের কাউকে তার বই সম্পর্কে বলবো, তেমনটা হয় না। কথা উঠলেই সেই নজরুল, ঠাকুর আর হুমায়ুন, যাফর। আর নাহলে শরৎ আর নায়তো শীর্ষেন্দু। মাঝে মাঝে জহির আর সুকান্ত আর নাহলে আজাদ(আরও বড় বড় অনেক লেখকের নাম ছেড়ে গেলাম। আশা করছি আপনারা সেটা বুঝতে পেড়েছেন)। নতুনরা কোথায়? নতুনরা কিন্তু সারিতে নেই। কেউ কেউ বলে, “সারাদিন ফেসবুক – ব্লগ আর আড্ডা। লেখালেখিটা আসবে কোথায় থেকে?” কিন্তু আসলে কিন্তু সেটা না। আমরা অহরহ লেখালেখি করছি। কিন্তু পথভ্রষ্ট হয়ে।
এবার পথের দিকে আসা যাক। আমি বিগত এক বছরে নতুন নতুন বেশ কয়েকজন লেখকের লেখা পড়লাম । তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, কেন যেন, খুব দার্শনিক চিন্তা ধারা পোষণ করেন। আপনাদের জন্য বলতে চাই, Philosophy এত সহজ বিষয় না। আপনি হয়তো ফিলোসফিতে মাস্টার। কিন্তু আপনার লেখা যারা পড়বে, তারা হয়তো Marxism, capitalism, romanticism, evolutionism, rationalism ইত্যাদি সম্পর্কে ধারনা নাও থাকতে পাড়ে। সেক্ষেত্রে লেখাগুলোকে তাদের বোঝার উপযোগী করে লেখা কি ভাল না?
এছাড়া আরও অনেককে দেখেছি, যারা তাদের লেখায় Rhetorical term অথবা Figures of speech (যেমনঃ Paradox, Climax, Fable, Personification, Pathetic Fallacy, Irony, Allegory, Metaphor, Oxymoron, Hyperbole, Sarcasm, Innuendo, Chiasmus, Pun etc.) ব্যাবহারের চেষ্টা করেন। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে তাদের মাথায় যে সামান্যতম ধারণা নেই, এতে কোনই সন্দেহ নেই। Irony আর Sarcasm এর মাঝে পার্থক্য করতে বললেও তারা তা পারবে না।
এর পরে যে জিনিসটা আমার বিরক্তির অন্যতম কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা হল, যতি চিহ্ন(punctuation marks) এর অপব্যবহার। কথা বলার সময় stress বলে একটা বিষয় থাকে। যেটার মাধ্যমে মনের ভাব গুলো আরও গভীর ভাবে বোঝা যায়। লেখার মাঝে stress কাজ করে না। কিন্তু সেটাকে ভালো ভাবে প্রকাশের জন্য এসব ‘যতি চিহ্ন’ ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি ভুল যতি চিহ্ন ব্যবহার করেন, তাহলে তার অর্থ তো ভিন্ন হতে বাধ্য। যতি চিহ্ন নিয়ে আমার বাংলার শিক্ষক খুব ভালো একটা উদাহরণ দিয়েছিলেন। সেটা হল –
মুখের ঘা নিয়ে রোগে এসেছে ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার সব শুনে প্রেস্ক্রিপশানে লিখতে গেলেন -
“ইক্ষু খাবেন না, খেলে ঘা বেড়ে যাবে।” তাড়াহুড়োতে বেচারা লিখলেন –
“ইক্ষু খাবেন, না খেলে ঘা বেড়ে যাবে।” – এবার বড়ম্বনা কাকে বলে বুঝলেন?

আপনি হয়তো বিধাতার তৈরী খুব সুন্দর মস্তিষ্কের একজন অধিকারী। আপনার জীবনে অদ্ভুত ও সুন্দর নানান অভিজ্ঞতার হয়তো অভাব নেই। হয়তো লেখালেখি করার ইচ্ছারও অভাব নেই। কিন্তু মনের ভাবগুলো ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না বলে হয়তো আপনার নাম চিরকাল অজানা হয়ে থাকবে। চিন্তা করুন, সবাই জানে “Moby Dick” এর লেখক Sir Harman Melville। কিন্তু সেই জায়গাটা আজ Thomas Nickerson এর হতে পাড়তো যদি তিনি Sir Melville এর মত করে লিখতে পারতেন। কিন্তু তিনি শুধুই সামান্য নাবিক যে এই কাহিনী এর বাহক।
অনেক কিছু বলে ফেলেছি। অনেককে আহত করে ফেলেছি। ছোট মুখে বড় কথা বলা ঠিক না। তারপরেও বলছি, কারন ভালো লাগে তাই। এরপরে আরও একদিন আসবো; কবিদের ধুইতে। ততদিন পর্যন্ত সকল লেখকের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী রইলাম।
ধন্যবাদ।


নির্বাক
১১ নভেম্বর ২০১৬
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×