somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিতায় সাধু ও চলতি রূপের মিশ্রণঃ

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুরা শুভেচ্ছা নিন। আলোচনার আসর ইদানিং বেশ কিছুদিন যাবত ঝিমিয়ে আছে! নতুন কোন আলোচনার সূত্রপাত না হলে আলোচনার আসর সরব হয় না। আর সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা সরব না হলে আমরাও কিছু শিখতে পারি না। কাজেই, ভুল হোক শুদ্ধ হোক; একটা কিছু দিয়ে মৌচাকে খোঁচা দিলে যৌক্তিক প্রয়োজনে গুণীজন নিশ্চয়ই আলোচনায় এগিয়ে আসবেন! সেই সুবাদে আমরাও কিছু শিখতে পারব! তেমন প্রত্যাশায় আমি একান্তই নিজের কিছু অভিব্যক্তি এখানে তুলে ধরছি। আমার মতের সাথে অনেকেরই দ্বিমত থাকতে পারে – যুক্তি-উপমায় তাঁদের মতামত তুলে ধরার জন্য সকল কবি বন্ধুর কাছে সনির্বন্ধ আহ্বান জানাচ্ছি।

ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে নানান বিষয়েই আলোচনার সূত্রপাত করেছি। আজ আমি সাহিত্যে (গানে, গল্পে, কবিতায়) বাংলাভাষার সাধুরূপ ও চলতিরূপের মিশ্রণ বা ব্যবহারে বিষয়ে দু’টি কথার অবতারণা করছি। বিজ্ঞ বন্ধুরা এবিষয়ে নিজ নিজ অভিমত সহ প্রতীতযশা ব্যক্তিবর্গের মতামত তুলে ধরলে আমার এই উপস্থাপনা সার্থক হবে; সাহিত্য বিষয়ে জানা অজানা কিছু তথ্য ও তত্ত্ব জেনে আমরাও খানিক লাভবান হতে পারি!

বাংলাভাষায় যে দু’টি রূপ বিদ্যমান তারমধ্যে বর্তমানে কেবল চলতি-রূপটাই টিকে আছে। ক্রমে ক্রমে সাধু-রূপটি হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ দুই তিন যুগ আগেও কিছু পত্রিকার ভাষায়, দলিল সম্পাদনার কাজে, চিঠিপত্রে আর কতিপয় লেখকের গল্প কবিতায় সাধুরূপটি ধুঁক-ধুঁক করে টিকে ছিল। সম্প্রতি তা ও হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন সর্বত্রই ভাষার এমন শ্রুতিমধূর সাধু-রূপটি যেন প্রবেশাধিকার হারিয়ে ফেলেছে।

অধুনা কোন পত্রিকায় তো নয় ই, কতক রম্য-আলোচনা বা রম্য-গল্প ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রেই সাধুভাষার ব্যবহার দেখছি না। বিষয়টা নিয়ে ভাষাবিদ ও বিজ্ঞজন কি ভাবছেন এটা জানার খুবই কৌতুহল জাগে। তবে কি বাংলাভাষার এক সময়ের অলংকার- ওই সাধু-রূপটি চর্যাপদের মতই কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে? ভাষা-বৈচিত্রে বলিয়ান আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাধু-রূপটি হারিয়ে গেলে বাংলাভাষার যে কত ক্ষতি হবে তা কি ভাষাবিদ ও ভাষাপ্রেমী বিজ্ঞজনরা ভেবে দেখেছেন?

আমরা জানি শিল্প-সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে কোন বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা যায় না। সংস্কৃতি তার সমসাময়িক সময়ের বাস্তবতায় আপন নিয়মেই আবর্তিত হতে থাকে। তাকে চর্চার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করতে হয়। আর সংস্কৃতির চার্চা্ ও বিকাশের প্রধান মাধ্যমই হল ভাষা। সুতরাং, সংস্কৃতির স্বার্থেই প্রতিটা জাতি তার ভাষাকে পরিশীলিত ও সমৃদ্ধ রাখে। অতএব, আমাদের ভাষার একটা অঙ্গ এই সাধুরীতিটা সংরক্ষণ করাও আমাদের কর্তব্য নয় কি?

শরৎ-রবীন্দ্র যুগের পর থেকে সাহিত্যে সাধুরীতির যে আকাল দেখা দিয়েছে তা ক্রমশঃ কমতে কমতে এখন কালে-ভদ্রে কোন কবিতা বা গানে কেবল অলংকরণের স্বার্থে বিচ্ছিন্নভাবে ছিঁটেফোঁটা দু’একটি শব্দ ঢুকতে দেখলেও ভাষার জাত গেল বলে অনেকেই হৈ হৈ করে তেড়েফুঁড়ে আসেন! অথচ ভিনদেশী ভাষা সরাসরি দিলে বা ইংরেজী বানানে দিলেও তাকে আধুনিক জ্ঞানে মেনে নিচ্ছেন।

আজকাল কেউ আর বিশুদ্ধ সাধুভাষাতে কোন সাহিত্য রচনা করেন না। গল্পে, প্রবন্ধে, বক্তৃতায় সাধু ও চলিতভাষার মিশ্রণে সেই বিষয়সমূহের সৌন্দর্য হারায় বলে একই লেখায় সাধু-চলতি’র মিশ্রণকে দূষণীয় ভাবা হয়। কিন্তু যতদূর জানি গান কবিতা বা শ্লোক উপমায় সাধু-চলতিরূপের যথার্থ মিশ্রণ সৌন্দয়ের ক্ষতি তো করেই না বরং অনেক ক্ষেত্রে সুষমা বাড়ায়। আমাদের আদিপুরুষগণ কিন্তু এটাকে দূষণীয় ভাবেন নি। আমার ব্যক্তিগত অভিমত; ভাষার দু’টি ধারাই সমভাবে চর্চিত হলে একই লেখায় দুই ধারার মিশ্রণ পরিত্যাগ করা যেতে পারে। অন্যথায় ছন্দ ও লয়ের সুবিধার্থে ভাষাকে শ্রুতিমধুর করতে প্রয়োজনে অলংকারের মতই সাধুরুপের ব্যবহার চলতে পারে।

পোস্ট-মডার্ণ এই যুগে অনেকের কাছে সাধুভাষাটা সেকেলে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধুভাষার যে একটা রাজসিক ও গুরুগম্ভীর আভিজাত্য বোধ ছিল তা কেউ স্বীকার করেন না। আমি কবিতায় শব্দ প্রয়োগে সাধু-চলিতের বিভেদকে বড় করে দেখি না বলে অনেক বন্ধুই আমাকে সেকেলে ভাবেন। আমার কাছে যে শব্দটা মনে হয় শ্রুতিমধুর, ছন্দে-লয়ে খাপ খেয়ে যায় তা সাধুরূপ হলেও অবলীলায় ব্যবহার করি। এমন কতক ক্ষেত্র আছে যেখানে ক্রিয়াপদের চলতিরুপের চেয়ে সাধুরুপটিই বেশী জুতসই ও শ্রতিমধুর লাগে। সেসব ক্ষেত্রে চলতিরূপের যথার্থ প্রতিশব্দ কোন ভাবেই যেন খাপ খায় না।

বাংলাভাষায় ক্রিয়াপদ ও বিশেষণপদের কিছু সাধুরূপের শব্দ ছাড়াও অনেক শব্দ আছে যা আমরা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করি না। মাঝে মাঝে এগুলো গানে গল্পে কবিতায় উপমায় ব্যবহার না হলে ক্রমেই যে সেই শব্দগুলো হারিয়ে যাবে! কাজেই আমি সাহিত্যে ওসব শব্দ ব্যবহারের পক্ষপাতি। ভাষার সাধুরূপ তো প্রায় উঠেই গেছে। অথচ একে টিকিয়ে রাখতে হলে গানে গল্পে কবিতায় শ্লোকে উপমায় এগুলোর ব্যবহার হওয়া উচিৎ। কেবলই সাধুরূপের রচনাও এযুগে ভাল শোনায় না। তাই মাঝে মাঝে চলিতরূপের পাশাপাশি সাযুজ্য ক্ষেত্রে সাধুরূপ ব্যবহারে ভাষা ও শ্রুতির মাধুর্যতা আনে বৈকি!

নিজ নিজ মতামত তুলে ধরার জন্য সবাইকে আন্তরিক আহ্বান ও ধন্যবাদ রইল।
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×